ভাতারের ওরগ্রামে ইকো পার্কের উদ্বোধন করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী

255

বর্ধমান, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের ওরগ্রামে ১১৪ একরের বেশী জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছিল আবাসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকার তরুণ ও তরুণীদের স্বনির্ভর করে তোলা। কিন্তু, প্রায় দু’দশকেরও বেশী সময়কাল ধরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অকার্যকরী হয়ে পড়েছিল। গত প্রায় পাঁচ বছর আগে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের হাতে গোটা জায়গাটি তুলে দেয় জেলাপরিষদ। সেই জায়গায় নতুন করে তৈরি হওয়া ইকো পার্কের মঙ্গলবার উদ্বোধন করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সাথে সাথেই শুরু হয়ে গেল এলাকার তুরুণ তরুণীদের স্বনির্ভর করে তোলার পথ খোঁজা।

ইকো পার্কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ছাড়াও জেলাশাসক বিজয় ভারতি, জেলাপরিষদ সভাধিপতি শম্পা ধারা, সহসভাধিপতি দেবু টূডু সহ অন্য জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, ওরগ্রামের কেন্দ্রের জমিই আমাদের সম্পদ। সেই জমি আমরা কাজে লাগাতে চাই। সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ ছাড়াও এলাকার মানুষজন এই জমি থেকে আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারেন এমন পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগোতে চাইছি। জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানান, একশো দিনের কাজ প্রকল্পের সঙ্গে অন্য প্রকল্প একত্র করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা স্বার্থক হলে পরিযায়ী শ্রমিক সহ স্থানীয়দেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। পরিকল্পনা চুড়ান্ত করার জন্য স্থানীয় বিধায়ক, জেলাপরিষদ, গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।

- Advertisement -

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ‘লুথান ওয়ার্ল্ড সার্ভিস’ নামের একটি বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই কেন্দ্রটি তৈরি করে। একদা এই কেন্দ্রের অদুরে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্নদের আবাসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। ১৯৯৭ সালের পর থেকে ওই কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সাতের দশকে কংগ্রেস সরকারের পূর্তমন্ত্রী তথা ভাতারের বিধায়ক ভোলানাথ সেন গোটা কেন্দ্রটি ঢেলে সাজিয়েছিলেন। এরপর বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু অধিগৃহীত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। তখন থেকেই কেন্দ্রটি ‘সমন্বয়ী’ নামে পরিচিতি পায়। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রে সেলাই বোনা, তাঁতের কাজ, জামা তৈরি, রংয়ের কাজ, কাঠের কাজ, উদ্যান পালন, খরগোশ পালন, মুরগী পালনের প্রভৃতি কাজ শেখানো হত। কেন্দ্রের জমিতে ৬টি পুকুর রয়েছে। সেখানে মাছ চাষও হত। কিন্তু, দীর্ঘদিই সেই সব থমকে ছিল।

সভাধিপতি শম্পা ধারা জানিয়েছেন, ওরগ্রামের ইকো পার্ককে সামনে রেখে পিকনিক স্পট তৈরি করা হবে। থাকার জন্যে ছোট ছোট কটেজও তৈরি করা হবে। এছাড়াও মাছ চাষ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে জামা-কাপড় তৈরির প্রশিক্ষণ, রুটি কারখানা তৈরিরও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।