গরুবাথানে “আই লাভ গরুবাথান” বোর্ড এবং আহালে ভিউ পয়েন্টের নবরূপে উদ্বোধন

648

মালবাজার: কালিম্পং জেলার গরুবাথানকে পর্যটনের প্রাদপ্রদীপে তুলে ধরতে আই লাভ গুরুবাথান বোর্ডের উদ্বোধন হল। পাশাপাশি নতুন রূপে সাজিয়ে আহালে ভিউ পয়েন্টেরও উদ্বোধন করা হল। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।

মাল ব্লকের পাশেই কালিম্পং জেলা সর্ববৃহৎ ব্লক গরুবাথান আছে। পাহাড়, বনাঞ্চল, চা বাগান নদী শস্য খেতের ইউনিক মিশেল ব্লককে অন্য মর্যাদা দান করেছে। যদিও ব্লকের অনেক এলাকা অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমৃদ্ধ হওয়া সত্বেও পর্যটক এবং ভ্রমণপিপাসু মহলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসতে পারেনি। এবার গরুবাথান ব্লকে পর্যটন মহলে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

ভিশন গরুবাথান সংস্থার উদ্যোগে গরুবাথানের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমৃদ্ধ সুউচ্চ স্থান আহালেতে আই লাভ গুরুবাথান বোর্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হল। স্থানীয় নির্মাণ কমিটির তত্ত্বাবধানেই নির্মাণ কাজ হয়েছে। পাশাপাশি আহালে ভিউ পয়েন্ট কেউ নতুন করে সাজানো হয়েছে। সর্পিলাকার আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তার ধারে বৃহস্পতিবার দুপুরে মনোজ্ঞ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়।

গরুবাথান ব্লকের প্রাক্তন যুগ্ম বিডিও গজেন্দ্র গুরুঙ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বোর্ডের উদ্বোধন করেন। ভিশন গরুবাথান সংস্থার সভাপতি তথা আহালের বাসিন্দা ধনরাজ রাই বলেন, সামগ্রিক নির্মাণকার্য প্রায় ছয় লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। আমরা বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা পেয়েছি। আমরা পর্যটনের মাধ্যমেই এলাকার জীবন-জীবিকার উন্নয়ন করতে চাচ্ছি। করোনা আবহে আমাদের এলাকা হিলিং ট্যুরিজম হিসেবে কাজ করতে পারে। আমাদের এলাকার রাস্তারও উন্নয়ন হয়েছে। মালবাজার তথা গরুবাথানের সোমবারি বাজার এবং পান্ডারা মোড় থেকে সহজেই আমাদের এলাকায় যাতায়াত করা যাচ্ছে।

বোর্ড নির্মাণ কমিটির সভাপতি পিয়ুষ লেপচা বলেন, আহালে ভিউ পয়েন্টকেউ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এখান থেকে চেল নদী, সোমবারি বাজার, ওদলাবাড়ি, মালবাজার, আপার ফাগু ইত্যাদি সহজেই দেখা যায়। গরুবাথানটারের হোমস্টের মালিক তথা গরুবাথান পর্যটন সংস্থার কর্মকর্তা ওঙদেন মোলামো বলেন, আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়েই পর্যটনের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন করতে চাচ্ছি। উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।

সম্প্রতি গরুবাথান থেকে তোদে, টাংটা ট্রেকিং করেছেন বিখ্যাত ভ্রমণবিদ তথা পর্যটনদ্যোগী অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়। অনিন্দ্য বাবু বলেন, পাহাড়ী গরুবাথান ব্লকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ। প্রাণী, উদ্ভিদ বৈচিত্র্যও অসামান্য অথচ গরুবাথানের অনেক এলাকা পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু বাইরে আছে। আমরা ট্রেকিং এর মাধ্যমে নতুন ট্রেকিং ট্রেইলরুট গুলিকে তুলে ধরতে যাচ্ছি।

আমরা গ্রাম থেকে গ্রামে ট্রেকিং এবং হোমস্টে পর্যটনের জোর দিচ্ছি। আমরা ভ্রমণপিপাসু এবং পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে এই কর্মসূচি করব। স্থানীয় মহলের এই ধরণের উদ্যোগের পর্যটন বিকাশেও দারুণ সহায়তা করবে। ঝান্ডি এলাকার পর্যটন উদ্যোগে রাজেন প্রধান বলেন, গরুবাথান নতুন বোর্ড এলাকার পরিচিতি বাড়াবে। ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করবে।