কাজ শুরুর ৩ বছরের মাথায় কান্তিভিটা উড়ালপুলের উদ্বোধন

234

ফাঁসিদেওয়া, ২৫ জুলাইঃ ঘোষপুকুর-সলসলাবাড়ি ইষ্টওয়েষ্ট করিডরের সংযোগকারী তথা ৩১ডি জাতীয় সড়কের কান্তিভিটায় তৈরি হওয়া উড়ালপুলের উদ্বোধন হল। শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের কান্তিভিটা রেলগেট এলাকায় উড়ালপুলটির উদ্বোধনে ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার, ঘোষপুকুর রুরাল ট্রাফিক ওসি সঞ্জীব দত্ত, সড়ক নির্মাতা সংস্থার পক্ষে নারায়ণ গুপ্তা হাজির হয়েছিলেন। এদিন বিডিও এবং ট্রাফিক পুলিশ কর্তা সবুজ পতাকা দেখিয়ে নব নির্মিত উড়ালপুলের একপাশ সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া দিয়েছেন। ২০১৭ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। প্রায় ৩ বছর পর প্রায় ৬২০ মিটার দীর্ঘ ওই উড়ালপুলটি নির্মাণকাজ শেষ হল। উড়ালপুলটি ২ পাশে ১২ মিটার করে ২৪ মিটার প্রস্থ রয়েছে। মোট ২৫টি পিলার উড়ালপুলটিকে মাটির থেকে ওপরে ধরে রাখতে সাহায্য করবে বলে নির্মাতা সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। উড়ালপুল চালুর খবরে সাধারণ মানুষ খুশি। তবে, লকডাউন এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।

প্রায় ৩ বছর আগে ইস্টওয়েস্ট করিডরের সংযোগ রক্ষার জন্য কান্তিভিটায় রেলগেটের ওপর উড়ালপুল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বছরখানেক পর ২০১৮ সালের অগাষ্ট মাসে এই উড়ালপুলের কয়েকটি গার্ডার ভেঙে পড়েছিল। ভোর নাগাদ নির্মীয়মান পুলে বিপর্যয়ের কারণে কোনও প্রাণহানী ঘটেনি। তবে, নির্মাতা সংস্থার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এরপর থেকেই নানা সমস্যা কাটিয়ে ফের কাজ শুরু হয়েছিল। আর এদিন উড়ালপুল সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হল। অন্যদিকে, কান্তিভিটা এলাকায় রেলের লেভেল ক্রসিংয়ে দৈনিক ব্যপক যানযট সৃষ্টি হত। হাজারে হাজারে গাড়ি ওই পথে ভিন রাজ্যে যাওয়ার পথে সমস্যা তৈরি হত। এছাড়াও, এলাকার মানুষ থেকে শুরু করে দূরপাল্লা পণ্যবাহী গাড়ির চালকরাও ওই রেলগেটে এসে সমস্যায় পড়তেন। শুধুমাত্র রেলগেট বন্ধ থাকার কারণে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, চাকুরীজীবি, স্থানীয় বাসিন্দা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতেন। এই উড়ালপুল চালু হওয়ায় স্থানীয় শুভঙ্কর বাইন, লরি চালক মুকেশ কুমার, স্থানীয় দোকানদার বাপ্পা রায় প্রমুখ সকলেই খুশি।

- Advertisement -

তবে, এদিন উড়ালপুলের একপাশ সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বলে নির্মাতা সংস্থার পক্ষে নারায়ণ গুপ্তা জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া খারাপ থাকলেও, মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। অল্প কিছু কাজ বাকি রয়েছে। খুব শীঘ্রই বাকি কাজ শেষ হলে, উড়ালপুলের ২ পাশ সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, রেলগেটের সমস্যায় মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই কারণে লকডাউনের মাঝেও উড়ালপুল উদ্বোধন করে দেওয়া হল। এবারে যানযট নিয়ে সাধারণ মানুষের সকল সমস্যা মিটে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।