Lightning, Tornado Alley, USA

রণজিত্ ঘোষ, শিলিগুড়ি : বৃষ্টি হলেই লাগাতার প্রচণ্ড শব্দ এবং আলোর ঝলকানি দিয়ে বজ্রপাত চলতি বর্ষায় উত্তরবঙ্গের সর্বত্রই চোখে পড়ছে। বলা ভালো বজ্রপাতের হার দ্রুত বাড়ছে এই অঞ্চলে। এর জেরে মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিদের প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়ছে। কিন্তু কেন এত বজ্রপাত হচ্ছে? এর জেরে কী ক্ষতি হতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উষ্ণায়ন এর অন্যতম কারণ। গরম যত বাড়বে, ততই বজ্রপাতের হারও বাড়বে। চলতি বছর য়ে পরিমাণ বজ্রপাত হচ্ছে, আগামীতে এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহবিদরা। চিকিত্সকরা অবশ্য জানিয়েছেন, বজ্রপাতের সময় কিছু সাবধানতা নেওয়া এবং জখম হলে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিত্সা করা এবং পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত।

চলতি বছরের বর্ষার শুরু থেকেই বজ্রপাত খুব বেশি নজরে আসছে। বৃষ্টি শুরুর আগে থেকে এমনকি বৃষ্টির মাঝেও কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নিয়মিতভাবে তীব্র শব্দে বজ্রপাত হচ্ছে। আবহবিদদের মতে, আগামীতে বজ্রপাতের হার আরও বাড়বে। কিন্তু কেন? সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা বলেন, দিনে তাপমাত্রা প্রচণ্ড বেশি থাকছে, অর্থাত্ গরম থাকছে। পাশাপাশি, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পের জোগান রয়েছে। এর ফলে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। এটা আগামীতে আরও বাড়বে। কেননা উষ্ণায়নের জেরে তাপমাত্রা প্রতিবছরই চড়ছে। গত বছর এই দিনে যে তাপমাত্রা ছিল, এবার দেখা যাচ্ছে তা বেড়ে গিয়েছে। সবচেয়ে বড়ো বিষয় হচ্ছে, বর্ষার যে নিয়মিত বৃষ্টি সেটা কিন্তু খুব বেশি হচ্ছে না। বেশিরভাগ বৃষ্টিই হচ্ছে স্থানীয়ভাবে মেঘের সঞ্চার হওয়ার ফলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ৮-১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় মেঘের সঞ্চার হয় এবং সেখান থেকে বৃষ্টি হয়। কিন্তু তার বেশি উচ্চতায় মেঘ তৈরি হলেও এই ধরনের পরিস্থিতি বেশি হয়। তবে বজ্রপাতের সঙ্গে দূষণ বা মোবাইল টাওয়ারের কোনো সম্পর্ক এখনও গবেষণায় পাওয়া য়ায়নি।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল বিভাগের প্রধান তথা জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসের দাযিত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডঃ সুবীর সরকার বলেন, বৃষ্টিপাতের চরিত্র বদলে যাওয়ায় বজ্রপাতের হার এই অঞ্চলে খুব বেশি পরিমাণে বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে যখনই মেঘ তৈরি হবে এবং তা থেকে বৃষ্টি হবে সেই সময় এমন বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমাদের এখানে দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে অনেকটাই বাড়ছে। য়ার জেরে বজ্রবিদ্যুৎ সহ মেঘ তৈরি হচ্ছে খুব বেশি পরিমাণে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়ে থাকে ঠিকই, কিন্তু ইদানীং য়েভাবে স্থানীয়ভাবে মেঘ সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হচ্ছে তার জেরে কোনো একটি অঞ্চল ধরে কী পরিমাণ বজ্রপাত হতে পারে তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি শুরু হলে বা আকাশে খুব ঘন মেঘের সঞ্চার হলে দ্রুত কোনো বাড়িতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করুন। ভুল করেও কেউ বড়ো গাছের নীচে দাঁড়াবেন না, পরামর্শ সুবীরবাবুর।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসার ডাঃ স্মরজিৎ বণিক বলেন, বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নীচে বা গাছতলায় আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। অবশ্যই ঘরের মধ্যে থাকতে হবে। এর পরেও কেউ বজ্রপাতে জখম হলে বা অজ্ঞান হয়ে গেলে অবিলম্বে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রযোজন। কেননা বজ্রপাতের রেশ শরীরে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে। ফলে হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই অবহেলা করা উচিত নয়।