চিকিৎসক সহ ৯ স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত, বন্ধ হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা

204

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: প্রতিদিন পূর্ব বর্ধমান জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। শনিবার জেলার জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সহ ৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ কারণেই তালা পড়লো জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। কোন রকমে জরুরি বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চুড়ান্ত বিপাকে পড়েছেন জামালপুর ব্লকের বাসিন্দারা।

জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ২০ জন রয়েছেন। সপ্তাহ খানেক আগে জামালপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ১২ জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তার মধ্যে ছিলেন বন্ধ্যাত্বকরণের অস্ত্রপচার হওয়া তিন বধূ। এরপরেই জামালপুর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স সহ ৮ জনকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়।

- Advertisement -

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে শুক্রবার রাতে জামালপুর ব্লকের ৩৯ জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সেই রিপোর্টে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১ জন চিকিৎসক, ৩ জন নার্স, ১ জন স্বাস্থ্য কর্মী(এনএম) ও ২ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী রয়েছেন। এছাড়াও জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীন চকদিঘী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মুখ্য চিকিৎসক ও ১ জন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টেরও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

একদিনে একসঙ্গে এতজন চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরেই হাসপাতালের কর্মী মহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখন হাসপাতালে পরিষেবা চালু রাখার জন্য রয়েছেন একজন মাত্র চিকিৎসক ও হাতেগোনা কয়েকজন নার্স। শনিবার সকাল থেকে তারা অভিযোগ তোলেন পরিষেবা চালু রাখার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে পিপিই কিট, গ্লাভস, ও স্যানিটাইজার নেই। তাই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। ভয়ে ও আতঙ্কে তারা শনিবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে অস্বীকার করেন। ফলে এদিন জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের বাকি সব বিভাগের গেটে তালা পড়ে যায়।

কিন্তু, বরাবর জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন রোগীর চাপ বেশি থাকে। কারণ, জামালপুরে ১৩ টি পঞ্চায়েত এলাকার মানুষজন ছাড়াও পাশের রায়না ব্লকের মুগরা অঞ্চলের মানুষজনও এই হাসপাতালেই চিকিৎসা করাতে আসেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসার জন্য আসেন। এছাড়াও জরুরী বিভাগে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জনের চিকিৎসা হয়। করোনার থাবায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আউটডোর পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছেন জামালপুরবাসী। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে ২৫ কিমি দূরের মেমারি হাসপাতাল কিংবা ১৪ কিমি দূরের রায়না হাসপাতাল ও প্রায় ৪৫ কিমি দূরের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভরসা।

জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আধিকারিক চিকিৎসক আনন্দমোহন গড়াই বলেন ,‘দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে গোটা হাসপাতাল ও হাসপাতাল চত্বর স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। শনিবারও গোটা হাসপাতাল স্যানিটাইজ করা হয়েছে। কিন্তু সংক্রমণ আটকানো যাচ্ছে না। এলাকায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে কবে হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক হবে তা বলা সম্ভব নয়।

জামালপুরের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, অবস্থা খুবই খারাপ। যদি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাহলে পরিষেবা সচল রাখা কঠিন ব্যাপার। যে ভাবে গোটা এলাকায় দ্রুত হারে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে তাতে গোটা এলাকায় লকডাউন করা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা শাসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক(সিএমওএইচ) প্রণব রায় বলেন, ‘চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ৯ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় জামালপুর হাসপাতালে আউটডোর পরিষেবা আপাতত বন্ধ রয়েছে। কীভাবে পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করা যায় তার চেষ্টা চালানো হচ্ছে’।