কৃষি বিল নিয়ে প্রতিবাদের জের, ডেরেক,দোলা সেন-সহ ৮ সাংসদ রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড

738

নয়াদিল্লি: সংসদের ‘মর্যাদা লঙ্ঘনের দোষে’ তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ আট জন সাংসদকে রাজ্যসভা থেকে এক সপ্তাহের জন্য সাসপেন্ড করলেন চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু। সোমবার সকালে অধিবেশনের শুরুতেই ডেপুটি চেয়ারম্যানের সঙ্গে অভব্যতা বিষয়টি উঠলে নায়ডু সাফ জানান, সাংসদের এমন ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের আত্মসমীক্ষা করা উচিত। এ কারণেই আগামী এক সপ্তাহের জন্য ডেরেক ছাড়াও সঞ্জয় সিং, রাজু সাতাব, কে কে রাগেশ, রিপুন বোরা, দোলা সেন, সৈয়দ নাজির হুসেন ও এলামারান করিমকে সাসপেন্ড করেন সংসদ চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু। তৃণমূল ওই সিদ্ধান্তকে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা’ বলে বর্ণনা করেছে।
এদিন বেঙ্কাইয়া নায়ডু বলেন, “আইন মতেই ডেপুটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা যাবে না। রবিবার ওয়েলে নেমে ডেপুটি চেয়ারম্যানকে রীতিমতো হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে নিজের কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এটা রাজ্যসভার জন্য খুবই খারাপ দিন। আমি সাংসদের বলছি, আপনারা আত্মসমীক্ষা করুন।”

উল্লেখ্য, লোকসভার পরে রবিবার রাজ্যসভায় কৃষি ক্ষেত্রের দু’টি বিল নিয়ে বিতর্কে প্রায় সব বিরোধী দলই দাবি তুলেছিল, এই বিলগুলি সংসদীয় সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হোক। কিন্তু ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে ফেলা মোদী সরকার চলতি অধিবেশনেই বিল পাশ করাতে অনড় মনোভাব নেয়। বিল পাশ হওয়ার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন ভোটাভুটির দাবি তোলেন। স্লোগান, হইহট্টগোলের মধ্যে কে বিলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলছেন, কে ‘না’ বলছেন, তা বোঝার উপায় ছিল না। ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ বিলের পক্ষেই সায় রয়েছে জানিয়ে ধ্বনিভোটে বিল পাশ করাচ্ছেন দেখে শুরু হয় গন্ডগোল।

- Advertisement -

তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন রাজ্যসভা পরিচালনার ‘রুল বুক’ নিয়ে ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের সামনে ছুটে যান। সভাপতির আসনে উঠে পড়ার চেষ্টা করায় মার্শালের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয। ডেরেক চিৎকার করে বলেন, ‘এ হতে পারে না।’ বাকি বিরোধী দলের সাংসদরাও ছুটে আসেন। বিলের কপি ছিঁড়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। হরিবংশের টেবিলের নথিও ছেঁড়া হয় বলে সরকারের অভিযোগ। তাঁর টেবিলের তিনটি মাইক্রোফোন ভেঙে দেওয়া হয়। এর পরে রাজ্যসভার অধিবেশন দশ মিনিটের জন্য মুলতুবি করে দেওয়া হয়। তার মধ্যেই রাজ্যসভার নিরাপত্তাকর্মী বা মার্শালরা হরিবংশের টেবিল ঘিরে ফেলেন। সিলেক্ট কমিটিতে বিল পাঠানোর দাবি, বিল পাশে আপত্তি সত্ত্বেও ধ্বনি ভোটে বিল পাশ করানো হয়। মার্শালদের টপকে সচিবালয়ের কর্মীদের টেবিলে উঠে পড়েন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংহ, কংগ্রেসের রাজীব সতাভ। মার্শালরা তাঁদের পাঁজাকোলা করে নামিয়ে আনার চেষ্টা করলে আরেক প্রস্থ ধস্তাধস্তি হয়। বিল পাশের পরে রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বে মোদী সরকারের আধ ডজন মন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধীদের আচরণের নিন্দা করেছেন। রাজনাথ বলেন, ‘‘এই ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক, লজ্জাজনক। সংসদ চালানো শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। চেয়ারম্যানের আসনে চলে যাওয়া, আসনের উপরে চড়ে রুলবুক ছেঁড়া, অন্য কাগজ ছেঁড়া, টেবিলে উঠে পড়া, সংসদীয় ইতিহাসে লোকসভা বা রাজ্যসভায় এমন ঘটনা ঘটেনি।’’ উল্টো দিকে ডেরেকের যুক্তি, ‘‘সরকার পক্ষ জানত যে ভোটাভুটি হলে হেরে যাবে। সেই কারণেই তারা ধ্বনিভোটে বিল পাশ করিয়েছে।’’