ডাইভারশনে জল জমলে শচীনদের রোজগার বাড়ে

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : চলতি বর্ষায় এখনও পর্যন্ত ৮-১০ বার জলে ডুবেছে চরতোর্ষার ডাইভারশন। যার প্রভাব ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর পড়ছে। এই পরিস্থিতি ওই ডাইভারশন এলাকার একদল কিশোর, যুবকের উপার্জনের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা নদীর জল কখন বাড়ে সেদিকেই তাকিয়ে থাকে। কারণ, ডাইভারশনে জল উঠলেই মোটরবাইক, সাইকেল পার করিয়ে তাদের কিছু টাকা উপার্জন হয়। কিছু মানুষও কাজের তাগিদে টাকা দিয়ে ডাইভারশন পার হন। তবে স্থানীয় প্রশাসন এই বিপজ্জনক পারাপারকে সমর্থন করেনি। ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান চঞ্চল অধিকারী বলেন, যাঁরা টাকা দিয়ে পার হচ্ছেন এবং যাঁরা পার করাচ্ছেন, দুটোই অবৈধ। মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার সমীরণ ঘোষ বলেন, চরতোর্ষার পাশে প্রচুর নির্মাণসামগ্রী রাখা আছে। জল কমলেই ডাইভারশন সারাই করা হয়।

২০১৭ সালের বন্যায় চরতোর্ষার কাঠের সেতু ভেঙে যায়। ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি রুটে মহাসড়ক তৈরির কারণে নতুন সেতুর বদলে হিউমপাইপ বসিয়ে ডাইভারশন তৈরি করা হয়। প্রতি বছর একটু বেশি বৃষ্টি হলেই ডাইভারশনের উপর দিয়ে জল বয়ে যায়। কখনও জলের তোড়ে ডাইভারশনের একাংশ ভেঙেও যায়। জল কমতেই মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ ডাইভারশন সারাই করে। এলাকার অনেকের কাছে এই পরিস্থিতি উপার্জনের পথ তৈরি করে দিয়েছে। শালকুমারহাট, পলাশবাড়ি, মেজবিল, যোগেন্দ্রনগর, শিশাগোড়, কালীপুর, পারপাতলাখাওয়া, বংশীধরপুর সহ বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষ কাজের তাগিদে বা বিশেষ কারণে রোজ ফালাকাটায় যান। তাঁদের অনেকেই বাইক ও সাইকেলে যাতায়াত করেন। তাঁরা ডাইভারশন জলমগ্ন হয়ে পড়লে বিপাকে পড়েন। যাত্রীবাহী বাস বা ছোট গাড়ি চলাচল বন্ধ হলেও বাইক বা সাইকেল আরোহীদের ফালাকাটায় যাওয়ার তাগিদ থাকেই। তাই তাঁরা টাকা দিয়ে পারাপার করেন। বাইক আরোহী শিশাগোড়ের স্বপন সরকার বলেন, ব্যবসার কারণে আমাকে ফালাকাটা যেতেই হবে। এজন্যই ৫০ টাকা দিয়ে বাইক পার করালাম।

- Advertisement -

এই সুযোগে স্থানীয় জনা পঞ্চাশেক কিশোর, যুবক ঝুঁকি নিয়ে টাকার বিনিময়ে বাইক, সাইকেল পার করিয়ে দেয়। বাইক প্রতি গড়ে ৫০ টাকা এবং সাইকেল প্রতি ১০ টাকা নেওয়া হয়। তারা কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান জল ভেঙে বিপজ্জনকভাবে এই কাজ করে দিনে জনপ্রতি তিন-চারশো টাকা উপার্জন করেন। এজন্য যুবকদের ৫-৭টি দল রয়েছে। প্রতি দলে ৭-৮ জন করে সদস্য রয়েছে। আবার কেউ একাই কাজ করে ২০০-৩০০ টাকা রোজগার করছে। শচীন বর্মন নামে তাদের মধ্যে একজন বলেন, করোনা পরিস্থিতির জন্য অন্যদিকে সেরকম রোজগার হচ্ছে না। তাই চরতোর্ষার জল কখন বাড়ে সেই অপেক্ষায় থাকি। তপন, বিল্টু, নান্টু, সমীরদের মতো কয়েকজন জানিয়েছেন, পরিশ্রমের বিনিময়ে কিছু টাকা উপার্জন হয়। এজন্য কাউকেই জোর করা হয় না। কেউ যেতে চাইলেই পার করানো হয়।