বিশ্বজিত্ সাহা, মাথাভাঙ্গা : মাথাভাঙ্গা শহরে বর্তমানে কোনো ইনডোর স্টেডিয়াম নেই। ফলে ইনডোর গেমসের পরিকাঠামোই এ শহরে গড়ে ওঠেনি। তবে, সম্ভাবনা যে ছিল না তা নয়। রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ দপ্তরের তরফে ২০১৩ সালে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির জন্য টাকা বরাদ্দ হয়। মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে মাথাভাঙ্গা হাইস্কুলের জমিতে প্রস্তাবিত মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। ২০১৩ সালের ৩১ মে প্রস্তাবিত ইনডোর স্টেডিয়ামটির শিলান্যাস করেন মাথাভাঙ্গার বিধায়ক বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। নির্মাণকাজ অনেক দূর এগোনোর পর হঠাত্ তা বন্ধ হয়ে য়ায়। মাঝপথে বন্ধ হয়ে থাকা ওই কাজ ফের কবে শুরু হবে বা আদৌ শুরু হবে কিনা সে ব্যাপারে কেউ হলফ করে কিছু বলতে পারছেন না। প্রায় পাঁচবছর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় অসম্পূর্ণ ইনডোর স্টেডিয়ামটি পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। নিজের বিধানসভা এলাকার সেরা স্কুলের ইনডোর স্টেডিয়ামটি তৈরির কাজ মাঝপথে বন্ধ থাকায় অস্বস্তিতে মাথাভাঙ্গার বিধায়ক ও মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। তিনি বলেন, স্টেডিয়ামটির বাকি কাজ কীভাবে সম্পন্ন করে সেটি চালু করা যায় সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছি।

মাথাভাঙ্গা হাইস্কুলের পরিচালন সমিতির বর্তমান সভাপতি বিমান ভট্টাচার্য বলেন, প্রথমত যুবকল্যাণ দপ্তর নির্দেশিত প্রকল্পটির নকশা পরিবর্তন করেছিল তত্কালীন পরিচালন সমিতি। সেটা ঠিক হয়নি। এছাড়া প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের সামনে তৈরি করা স্টল বিক্রি করে সেই টাকায় স্টেডিয়াম তৈরির কাজ সম্পূর্ণ না করে কেন অন্য খাতে ব্যয় করা হল তাও বোঝা যাচ্ছে না। অসম্পূর্ণ স্টেডিয়ামটির কাজ শেষ করতে টাকার জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর কোনো অর্ধসমাপ্ত কাজে টাকা বরাদ্দ করে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। যুবকল্যাণ দপ্তর এজন্য নতুন করে টাকা দিতে রাজি নয়। আমরা বিধায়ক বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রযোজনে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের কাছেও টাকার জন্য আর্জি জানানো হবে।

মাথাভাঙ্গা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক চৈতন্য পোদ্দার বলেন, যুবকল্যাণ দপ্তর প্রস্তাবিত ইনডোর স্টেডিয়ামটি দৈর্ঘ্যে ৬০ ফুট ও প্রস্থে ৩৫ ফুট ছিল। তত্কালীন স্কুল পরিচালন সমিতির মনে হয়েিল মাথাভাঙ্গা হাইস্কুলের জন্য স্টেডিয়ামের এই আয়তন পর্যাপ্ত নয়। সেজন্য প্রকল্পটির পরিবর্তন ঘটিয়ে দৈর্ঘ্যে ১০০ ফুট ও প্রস্থে ৫৫ ফুট করা হয়েছিল। স্টেডিয়াম তৈরির জন্য যুবকল্যাণ দপ্তর থেকে ১৮ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছিল। শর্ত ছিল, স্কুল কর্তৃপক্ষকে বাকি ৪ লক্ষ টাকা দিতে হবে। স্টেডিয়ামের সামনের স্টল বিক্রি করে ৩১ লক্ষ টাকা পাওয়া গেলেও সেগুলি তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। অবশিষ্ট ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে ৭ লক্ষ টাকা স্কুলভবন রং করতে এবং ৯ লক্ষ টাকা স্কুলের ১২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান ও প্রাক্তনী সম্মেলনের অনুষ্ঠানে ব্যয় হয়েছে। ইনডোর স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে আরও ২০-২৫ লক্ষ টাকা দরকার। সেই টাকার জন্য বিধায়ক ও জেলাশাসকের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে। শেষপর্যন্ত ইনডোর স্টেডিয়ামটির জন্য বাকি টাকা কবে বরাদ্দ  হবে তা কারও জানা নেই। ইতিমধ্যে ইনডোর স্টেডিয়ামের ছাউনির জন্য লাগানো লোহার ট্রাস্টে মরচে পড়েছে। দেয়ালের ইট খুলে পড়ছে ও গোটা চত্বর ঝোপঝাড় ও আবর্জনায় ছেয়ে রয়েছে।