লকডাউনে লাগামছাড়া নারী নির্যাতন, শিশু পাচার

- Advertisement -

নয়াদিল্লি : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণায় অর্থনীতি থমকে গিয়েছে, কিন্তু নারী নির্যাতন থমকায়নি। বরং বলপূর্বক বিয়ে মাধ্যমে বেআইনি শ্রম, দেহব্যবসায় যুক্ত করা, শিশু পাচার ইত্যাদির লাগামছাড়া বৃদ্ধি ঘটেছে। লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। অভাবের মুখে পড়েছে লক্ষ লক্ষ পরিবার। এই সুযোগে বেড়েছে শিশু পাচার, শিশুকে বেআইনি শ্রমে যুক্ত বা বিয়ে দিতে বাধ্য করার মতো ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রে নগদ টাকার বিনিময়ে শিশুকন্যাদের বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বাবা-মায়েরা। কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রকের চাইল্ড হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮-এ গত ৬ মাসে (মার্চ থেকে অগাস্ট পর্যন্ত) এধরনের অভিযোগ জানাতে ফোন এসেছিল ২৭ লক্ষ। ফোন পেয়ে ত্রাণকর্মীরা ১ লক্ষ ৯২ হাজার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন নির্যাতিত শিশুদের। গতবছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭০ হাজার। গত পাঁচ মাসে ১০ হাজার বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছে নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রক। নারী পাচার এবং নারীর বিরুদ্ধে যাবতীয় হিংসা রুখতে প্রতি রাজ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ পুলিশ জেলা স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে। কিন্তু সেই নির্দেশিকা পাওয়ার পরেও উত্তরপ্রদেশ বা মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে এই ধরনের পুলিশ জেলা এখনও তৈরিই হয়নি।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক গত ৬ জুলাই এক নির্দেশিকায় উল্লেখ করেছে, শিশু ও কিশোররা সহজে অপরাধীদের ফাঁদে পড়ে যায়। তারা একবার পাচার হয়ে গেলে নানাভাবে অন্যায়ে শিকার হয়। অনেককে দিয়ে দেহব্যবসা করানো হয়। অনেককে ভিক্ষা করতে বাধ্য করা হয়। অনেকের আবার জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়ার পর শিশুদের মুখে তাদের ওপর চরম অত্যাচারের কথা জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশকে। ত্রাণকর্মীদের মুখে শিশু নির্যাতনের যে চিত্র পাওয়া গিয়েছে, তা এককথায় ভয়ংকর। পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের হেডমাস্টার এবং পাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কর্মী চন্দন মাইতি জানিয়েছেন, তিনি ক্লাস নাইনের একটি মেয়ে কথা জানেন, যে তার সহপাঠীকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল। লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকায় তার স্বামী ১৬০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ইলিশ মাছ ধরতে গিয়েছিল। নৌকা উলটে সে নিখোঁজ হয়। নিয়মমতো মেয়েটিকে সাদা থান পড়ে বিধবার বেশ ধারণ করতে হয়। রোজ প্রার্থনা করতে হত যাতে তার স্বামী ফিরে আসে। চন্দন মাইতি সংশ্লিষ্ট দুটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মেয়েছিকে ফের স্কুলে ভর্তি করে দেন। তাঁর মতে, লকডাউনের সুযোগে শিশু পাচার, বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা বেশি ঘটেছে। আগামী কয়েমাস এব্যাপারে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে, কলকারখানা খুলেছে। এই সময় সস্তায় শ্রমিকের প্রয়োজন। তাই শিশুশ্রম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

- Advertisement -