ফুলবাড়িতে শকুনের দেখা, সংরক্ষণের দাবি পরিবেশকর্মীদের

486

রাজগঞ্জ : ফুলবাড়ির প্রধানপাড়া এলাকায় দেখা পাওয়া যাচ্ছে শতাধিক শকুনের। বিলুপ্তির প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া শকুনের দেখা পাওয়ায় কিছুটা আশার আলো ছড়িয়েছে ফুলবাড়ি এলাকায়। বিভিন্ন মহল থেকে সচেতনতা ও সংরক্ষণের দাবি উঠেছে। শিলিগুড়ির অদূরে ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জটিয়াকালির প্রধানপাড়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ডাম্পিং গ্রাউণ্ডে শীতকালে প্রচুর শকুন দেখা যায়। তবে গরমকালে সংখ্যাটা কমে যায়। শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গবাদি প্রাণী মারা গেলে ওই ডাম্পিং গ্রাউণ্ডে ফেলা হয়। ওই মৃত পশু খাওয়ার লোভে শকুনের আনাগোনা রয়েছে। হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের (ন্যাফ) কোঅর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, সংরক্ষণ ও সচেতনতার অভাবে ভারতের হোয়াইট রামড ভালচার, লঙবিলড ভালচার ও সেলেন্ডার বিলড ভালচার প্রজাতির শকুন প্রায় ৯৯ শতাংশ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। হিমালয়ান গ্রিফন প্রজাতির শকুনও অনেক কমে গিয়েছে। তবে ওই প্রজাতির কিছু শকুন ফুলবাড়ি এলাকায় দেখা য়ায়। ওই শকুনগুলি শীতের সময় সমতলে নেমে আসে। ফুলবাড়ির ওই স্থানে খাদ্যের লোভে শকুন আসে। এছাড়া রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজননকেন্দ্র থেকেও শকুন আসার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু ফুলবাড়িতে ওই শকুন সংরক্ষণ এবং সচেতনতার অভাব রয়েঠে। সব মহলকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া প্রযোজন। তিনি জানান, ন্যাফ এবং বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির পক্ষ থেকে যৌথভাবে স্কুল-কলেজগুলিতে শকুন নিয়ে সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। এছাড়া পথসভা ও র‌্যালি করে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফুলবাড়ির ওই শকুন রক্ষার্থে এলাকার মানুষকে সচেতন করার প্রযোজন রয়েছে।

পরিবেশপ্রেমী অভিযান সাহা বলেন, আমি দেখেছি ফুলবাড়ির প্রধানপাড়া এলাকার ওই ডাম্পিং গ্রাউণ্ডে হিমালয়ান গ্রিফনের মধ্যে কয়েটি ইউরেশিয়ান গ্রিফন রয়েছে। এছাড়া দুএকটি শকুনে ট্যাগ লাগানো দেখা গিয়েঠে। সম্ভবত কোনও সংস্থা ওই শকুনকে পর্যবেক্ষণ করছে। ফুলবাড়ি ছাড়াও পুটিমারি ও গজলডোবা যাওয়ার রাস্তায় কিছু শকুন দেখা যায়। তবে দুঃখের বিষয়, মানুষ বিভিন্ন পাখি সহ শকুনের ছবি তুললেও রেকর্ড রাখেন না। কিন্তু পাখি সংরক্ষণের জন্য রেকর্ড রাখা খুব জরুরি।

- Advertisement -