করোনার চিকিৎসায় নতুন ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি কেন্দ্রের

443

অনলাইন ডেস্ক: করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসায় ডেক্সামেথাসোন নামে একটি স্টেরয়েড ব্যবহারের অনুমতি দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

মাঝারি ও গুরুতর উপসর্গ থাকা রোগীদের ওপর এতদিন মিথাইলপ্রেডিনিসোলন নামে একটি ওষুধ ব্যবহার করছিলেন চিকিৎসকরা। শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এবার থেকে ওই ধরনের উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসায় ডেক্সামেথাসোন স্টেরয়েডও ব্যবহার করা যাবে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে ওই ওষুধ তৈরির আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্র।

- Advertisement -

বিশ্বের মধ্যে ব্রিটেনে সর্বপ্রথম ডেক্সামিথাসোন ব্যবহার করা হয়। ব্রিটেনের গবেষকরা দাবি করেছিলেন, ডেক্সামেথাসনের লো ডোজেই করোনা আক্রান্ত আশঙ্কাজনক রোগীদের মৃত্যু রোখা যাবে। সংবাদ সংস্থা বিবিসি জানিয়েছিল, ব্রিটেনের ওই গবেষকরা দীর্ঘদিন থেকেই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ডেক্সামেথাসন একটি দুর্দান্ত আবিষ্কার। এই ওষুধ ব্যবহার করলে ভেন্টিলেটারে থাকা রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি এক তৃতীয়াংশ কমানো যাবে। আর যাঁদের অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার এক পঞ্চমাংশ কমানো যাবে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, কেবলমাত্র গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীর ওপরেই ডেক্সামেথাসোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেই রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডেক্সামেথাসন ভেন্টিলেশনে থাকা করোনা আক্রান্তদের প্রাণ বাঁচাতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ শুরুর দিকে যদি এই ওষুধের প্রয়োগ করা হত, তাহলে কমপক্ষে ৫ হাজার জনের প্রাণ বাঁচানো যেত। যেসব দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেই সব দেশে ডেক্সামেথাসন খুবই কার্যকরী হবে বলে মত গবেষকদের।

৬০ বছর ধরে ডেক্সামেথাসোন নামে ওষুধটি বাজারে পাওয়া যায়। আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে প্রদাহ কমানোর জন্য এতদিন ডেক্সামেথাসোন ব্যবহার করা হত। এখন থেকে যে কোভিড রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ওপরও এই ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২ হাজার গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগীর ওপরে ওই ওষুধ প্রয়োগ করেন। এটি প্রয়োগের ফলে মৃত্যুর হার ৩৫ শতাংশ কমেছে বলে দেখা যায়।

এখন কোভিড চিকিৎসায় রেমডেসিভির ওষুধটি ব্যবহার করা হচ্ছে। হায়দরাবাদের সংস্থা হেটেরো রেমডেসিভির বানানোর অনুমতি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় সংস্থাটি মহারাষ্ট্র ও দিল্লি সহ পাঁচটি রাজ্যে এই ওষুধ পাঠিয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাজ্যেও এটি পাঠানো হবে।

এদিকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৮ হাজার ৯৫৩৷ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৮ হাজার ৫৫২ জন, যা এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮৪ জনের৷ ভারতে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৮৫৷ করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮৮১ মানুষ৷