আয়ুর্বেদেই কি লুকিয়ে করোনা মুক্তি, গবেষণায় ভারত ও আমেরিকা

862
প্রতীকী ছবি।

ওয়াশিংটন: দেশ তথা সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সারা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বিশ্বে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ভারত সহ বিশ্বের তাবড় দেশগুলি করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আদৌ বাজারে কবে ভ্যাকসিন আসবে, সে প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারও।

কোভিড মোকাবিলায় ভারতীয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের উদ্যোগ আগেই নিয়েছিল কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক। এবার এই বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবেন ভারত ও আমেরিকার গবেষকরা। আয়ুর্বেদের ওষুধ ও বিভিন্ন ভেষজ উপাদানের সংমিশ্রণ ব্যবহার করে ট্রায়াল শুরু হবে দু’দেশেই। এমনটাই জানিয়েছেন আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তরণজিৎ সিং সান্ধু।

- Advertisement -

টুইটে তিনি আরও জানিয়েছেন, কোভিড সংক্রমণ নির্মূল করতে আয়ুর্বেদের পাশাপাশি সিদ্ধা ও ইউনানির ফর্মুলাও কাজে লাগানোর বিষয়ে গবেষণা করবেন দুই দেশের গবেষকরা। এর নেতত্বে থাকবে ইন্দো-মার্কিন সায়েন্স টেকনোলজি ফোরাম। ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক এবং মার্কিন সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই ফোরাম তৈরি করা হয়েছিল। কোভিড গবেষণায় গতি আনতে এই ফোরামের তত্ত্বাবধান করবেন দুই দেশের বিজ্ঞানীরা। উল্লেখ্য, আমেরিকায় এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ভারতে সাড়ে ৭ লক্ষের বেশি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে, আয়ুষ মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে আয়ুর্বেদের উপাদানের ট্রায়ালের জন্য টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে। মোট ১৯ রকম উপাদানের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অশ্বগন্ধা, যষ্টিমধু, গুলঞ্চ, গুড়ুচি, পিপালি, গো-জাত বিভিন্ন দ্রব্য, আয়ুর্বেদিক ওষুধ আয়ুষ-৬৪ ইত্যাদি তার মধ্যে অন্যতম।

করোনার চিকিৎসায় জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, রেমডেসিভির সহ অন্য ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু করোনার চিকিৎসায় এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ পাওয়া যায়নি। ভারতের সুপ্রাচীন আয়ুর্বেদ চিকিৎসা এবার সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় তামাম দেশবাসী।