দিনহাটা, ২৫ মার্চঃ ভোট ওঁদের কাছে কাঁটাতারের গণ্ডি পেরোনোর লড়াই। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁসে কার্যত বদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার অস্ত্র। তাই দিনহাটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারের ভারতীয ভূখণ্ডে বসবাসকারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতেই ভোট দিতে চান। তাঁদের অভিযোগ, কাঁটাতারের বেড়ার জন্য নিজভূমে পরবাসীর মতো জীবনযাপন করতে হচ্ছে। পানীয জলের সরবরাহ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ- কিছুই নেই বেড়ার ওপারের ভারতীয় ভূখণ্ডে। কাঁটাতারের বেড়ার স্থানে স্থানে গেট। সেই গেট খোলে এবং বন্ধ হয় নির্দিষ্ট সময় অনুসারে। এই সময়ের মধ্যে মূল ভূখণ্ডে এসে হাটবাজার কিংবা অন্য কাজ সারতে হয়। এই আবদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পেতেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান ভারতের এই বাসিন্দারা। কুর্শাহাট সীমান্তের বেড়ার ওপারের বাসিন্দা জায়দুল শেখ, মোজাম্মেল হক, সাহেব আলি, সহিদুল হক প্রমুখ জানান, তাঁদের কথা কেউ ভাবে না। তাই এখনও কুপি কিংবা লন্ঠনের আলোতেই রাত কাটে। আলপথ ধরে চলাচল করতে হয।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার এপারে-ওপারে বসবাসকারী নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতা হরিপদ মণ্ডলের নিজস্ব সমীক্ষা অনুসারে, দিনহাটা মহকুমার সীমান্তে ১১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ১১৬০টি ভারতীয পরিবার রয়েছে। কয়েক বছর আগে তিনি সমীক্ষা চালিয়ে দেখেন, বেড়ার ওপারের ভারতীয ভূখণ্ডে যে পরিমাণ জমি রয়েছে তার ১৫ শতাংশই পতিত। এই ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের জন্য কাঁটাতারের বেড়াতে রয়েছে ১২৪টি গেট। হরিপদবাবু জানান, এঁদের স্বাধীনভাবে এ দেশে সবসময় আসা-যাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে তাঁদের আন্দোলন জারি রয়েছে। এই নাগরিকদের সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন স্থানীয জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই। ভোটের মুখে এ নিযে মুখ খুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিবের নেতারাও। বামফ্রন্টের ফরোযার্ড ব্লক নেতা আব্দুর রউফ বলেন, বামেরাই প্রথম সীমান্তবাসীদের নিযে সীমান্ত নাগরিক সম্মেলন করে। সেই আন্দোলন এখনও জারি রয়েছে। বিজেপির এক নেতা জানান, তাঁদের দলীয় প্রার্থী সাংসদ নির্বাচিত হলে নিশ্চয়ই বিষয়টি সংসদে তোলা হবে। তৃণমূল নেতা ও বিধাযক উদয়ন গুহ বলেন, দলের প্রচারে এ নিয়ে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে। সীমান্ত নাগরিকদের পাশে আমরা সবসময়ই আছি। সবমিলিয়ে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আরও একবার আশায বুক বাঁধছেন বেড়ার ওপারের ভারতীয ভূখণ্ডের সহিদুল, লাইলি, জায়দুলরা। ক্ষমতায যেই আসুক না কেন তাঁরা যেন কাঁটাতারের বেড়ার বন্দিদশা থেকে তাঁদের মুক্তির ব্যাপারে উদ্যোগী হন- এটাই তাঁদের একমাত্র প্রার্থনা।