অশ্বীন বিক্রমে চিপকে জয়ের পথে ভারত

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : ছোটো থেকে স্বপ্ন ছিল ব্যাটসম্যান হওয়ার। দেশের হয়ে ওপেন করবেন। ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলেও ওপেনার হিসেবে খেলেছেন। ধারাবাহিকতার অভাবে শেষপর্য়ন্ত বাদ পড়েন। পরিবর্তে সুযোগ পান রোহিত শর্মা! তবে দমে যাননি। দ্রুত নিজেকে বদলে ফেলেন। ফিরে আসেন আরও লড়াকু, শক্তিশালী হয়ে। এবার বোলার হিসেবে।

 

- Advertisement -

তিনি রবিচন্দ্রন অশ্বীন। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্য়তম সেরা স্পিনার। আজ অবশ্য় বোলিং নয়, সবাই দেখল তাঁর ব্যাটের ধার। আট নম্বরে নেমে ওপেনারসুলভ টেকনিকে ভঙ্গুর পিচে অবাক করলেন সবাইকে। উলটো দিকে বিরাট কোহলি। চতুর্থ ইনিংসে আরও একটা মাস্টারক্লাস ইনিংস। বিরাটের থেকে প্রত্যাশিত। কিন্তু এক এক সময় ইংরেজ স্পিনারদের বিরুদ্ধে অশ্বীনের দাপট যেন ছাপিয়ে যাচ্ছিল কোহলিকেও! সুইপ, রিভার্স সুইপের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী শটে লিচ-মইনদেরই অনায়াসে সামলালেন।

প্রথম দিনের চিপকে শাসন করেছিলেন রোহিত শর্মা। রবিবার ৫ উইকেট নিয়ে অশ্বীন। আজ নামের পাশে ১৪৮ বলে ১০৬ রানের ঝলমলে ইনিংস। মইন আলিকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পঞ্চম শতরান। সেলিব্রেশনের মেজাজেই পরিষ্কার ইনিংসটা অশ্বীনের কাছে কতটা মূল্য়বান। ব্যাট ঘোরালেন। আকাশের দিকে তুলেন। বাঁধা পড়লেন সতীর্থ সিরাজের আলিঙ্গনে। সিরাজের উচ্ছ্বাস দেখে আবার বোঝার উপায় নেই, সেঞ্চুরিটা আসলে কার!

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সিরাজ যখন নামেন, অশ্বীন তখন ৭৭। সিরাজের একমাত্র টার্গেট ছিল অশ্বীনকে শতরান পর্যন্ত সঙ্গ দেওয়া। লক্ষ্য়পূরণের খুশিটা তাই বোধহয় একটু বেশিই। নিজে জোড়া ছক্কা হাঁকিয়ে কার্নিভালের সুর চড়িয়ে দেন। সাজঘরে ফেরা সিরাজকে দেখে রবি শাস্ত্রীর অবাক প্রতিক্রিয়াতেই যা পরিষ্কার।

৪৮১ রানের লিড নিয়ে ২৮৬-তে শেষ ভারত। জবাবে ১৯ ওভার ব্যাটিং করে তিন উইকেট ইংল্যান্ডের স্কোর ৫৩/৩। অক্ষর প্যাটেল (২/১৫), অশ্বীনরা (১/২৮) কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আউট হয়েছেন ডম সিবলি (৩),  রোরি বার্নস (২৫) ও নৈশপ্রহরী জ্যাক লিচ (০)। এখনও ভারত এগিয়ে ৪২৮ রানে। দরকার সাতটি উইকেট। যেখানে এশিয়ার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ সফল রানতাড়ার নজির ৩৯৫। জয়টা সময়ের অপেক্ষামাত্র। প্রশ্ন শুধু অশ্বীন-অক্ষরদের কাল রুটরা কতক্ষণ আটকে রাখবে।

শুরুটা যদিও টপঅর্ডারের ফ্লপ শোয়ের নিটফল ৫৪/১ থেকে প্রথম সেশনেই ১০৬/৬।  পূজারা (৭), রোহিত (২৬), ঋষভ (৭), রাহানে (১০), অক্ষর (৭)দ্রুত প্যাভিলিয়নে।  মইন-লিচের যুগলবন্দির সঙ্গে বার্থ ডে বয় বেন ফোকসের কিপিং-দক্ষতা নজর কাড়ছিল। পূজারার রান আউট কিংবা ঋষভের স্টাম্পিং- দক্ষতার পরিচয় রাখেন। গড়েন অ্যালান নটের (১৯৬৮) পর দ্বিতীয় ইংলিশ উইকেটকিপার হিসেবে একটি টেস্টে তিনটি স্টাম্পিংয়ের নজিরও। গতকাল ব্যাটিংয়ে, আজ কিপিংয়ে। আশিস নেহেরাদের কথায়, চলতি টেস্টে এখনও পর্য়ন্ত ইংল্যান্ডের সেরা পারফর্মার বেন ফোকস।

অবশ্য় এতে ভারতের দাপট এতটুকু কমেনি। বরং ১০৬/৬ থেকে রুটদের মানসিকভাবেও ভাঙার কাজটা দারুণ দক্ষতায় সারেন বিরাট-অশ্বীন। প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ করেছিলেন। এদিন আরও একটা বিরাট-ক্লাসিক (৬২)। প্রথম ইনিংসে মইনের বিরুদ্ধে মিডলস্টাম্প গার্ড নিয়ে খেলার খেসারত দিয়েছিলেন। অফের দিকে খেলার সময় ব্যাট-প্যাডের মধ্যে বাড়তি গ্যাপ তৈরি হচ্ছিল। এদিন অফস্টাম্প গার্ড। ফলে, তা ব্যাট-প্যাডে অনেক বেশি জমাট। ঝুঁকি কমাতে স্পিনের বিরুদ্ধে কভার ড্রাইভের পথেও সেভাবে হাঁটলেন না।

এরমধ্যে রুটের সঙ্গে লেগেও য়ায়। বিরাটের বিরুদ্ধে রান নেওয়ার সময় পিচের মধ্যে দৌড়োনোর অভিযোগ আনেন ইংরেজ অধিনায়ক। ভুলটা কোহলিরই। বলার কথা প্রথম টেস্টের সময় এই অভিযোগই করেছিলেন বিরাট। আজ সেখানে রুট। ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গে অবস্থানেও বদল। আম্পায়ারও সতর্ক করে দেন বিরাটকে।

দিনের নায়ক অশ্বীনকে নিয়ে বিরাটের ৯৬ রানের যুগলবন্দি ইংল্যান্ডের কামব্যাকের রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিরাট ফেরার পর দলকে ২৮৬ এবং নিজের পঞ্চম শতরানে বাকি সময়ে অশ্বীনময় চিপক। ৯১ থেকে পরপর তিন বলে ৬, ২, ৪-এ তিন অঙ্কে পা। তৃতীয়বার টেস্টে ৫ উইকেট ও ১০০ অশ্বীনের। আগামীকাল হাতছানি ম্যাচে দশ উইকেট ও সেঞ্চুরির এলিট ক্লাবেও (ইয়ান বথাম, ইমরান খান ও সাকিব আল হাসান) ঢুকে পড়ার। ভারতের জয় আর অশ্বীনের আরও বড়ো নজির- জোড়া প্রাপ্তির অপেক্ষায় চিপক।