কেন্দ্রীয় অনুমোদন সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাণিজ্য শুরু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি

ফাইল ছবি

কলকাতা: লকডাউন চললেও আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে অনেক আগেই অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ট্রাক ঢোকার প্রক্রিয়া কেন শুরু হয়নি তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে চিঠি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা। স্বরাষ্ট্রসচিবের স্পষ্ট বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ অবমাননা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শুধু আইন লঙ্ঘন করেনি, তা সংবিধানের ২৫৩, ২৫৬ এবং ২৫৭ ধারা লঙ্ঘনেরও সামিল।

মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। তিনি চিঠিতে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহণের জন্য গত ২৪ এপ্রিল অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। অর্থাৎ ভারত-নেপাল, ভারত-ভুটান এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহণ শুরু করা যাবে। কিন্তু তাঁর কাছে রিপোর্ট রয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের রাজ্যের সীমানার মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ পণ্য পরিবহণ এখনও শুরু করেনি। তার ফলে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়া বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক বিভিন্ন বর্ডার ক্রসিং পোস্টে আটকে রয়েছে। একই ভাবে বাংলাদেশে যে সব ট্রাক ও তাদের ড্রাইভার পণ্য সরবরাহ করতে গিয়েছিলেন, তাঁরাও সীমান্তের ওপারে আটকে রয়েছেন। তাঁদের ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

- Advertisement -

মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব আরও বলেছেন, গত ১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যে নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছিল, তাতেও স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য আটকাতে পারবে না। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক তরফা ভাবে সীমান্ত বরাবর বাণিজ্যের পথে বাধা হচ্ছে তা ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিক চুক্তি রূপায়ণে সমস্যা তৈরি করছে। এই সব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি আইনত সিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গ শুধু বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের শর্ত লঙ্ঘন করছে, তা নয়, সংবিধানের ২৫৩, ২৫৬ ও ২৫৭ ধারার লঙ্ঘনও করা হচ্ছে।

এ কথা জানিয়ে, মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে অবিলম্বে সীমান্ত বরাবর বাণিজ্যের পথ খুলে দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ করতে। সেই সঙ্গে এ ব্যাপারে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে।