সাদাম্পটন : ভাবা হয়েছিল দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বড়ো ব্যবধানে জিতে রানরেট বাড়িয়ে রাখার ম্যাচ হতে চলেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়ে দাঁড়াল জিতে মুখরক্ষার লড়াই। বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানকে হারানো ভারত মুখ থুবড়ে পড়তে চলেছিল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত বোলারদের দাপট আর আফগান ব্যাটসম্যানদের অনভিজ্ঞতায় জয় ছিনিয়ে আনলেন বিরাট কোহলিরা। শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করলেন মহম্মদ শামি। ভারত জিতল মাত্র ১১ রানে। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়।

সাদাম্পটনে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। স্কোরবোর্ডে বড়ো রান তুলে রানরেট বাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু কার্যত বুমেরাং হয়ে যায় এই সিদ্ধান্ত। ১০ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হয়ে যান রোহিত শর্মা। কে এল রাহুলও ৩০ রান করে ভুুল শটে আউট হয়ে যান। তারপরেও বিজয় শঙ্কর (২৭) ও বিরাট কোহলি (৬৭) রানের গতি ঠিক রেখেছিলেন। কিন্তু পরপর দুজন আউট হতেই কার্যত থমকে যায় ভারতীয় ইনিংস। মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটের রানই আসছিল না। অন্যদিকে কেদার যাদব চেষ্টা করলেও স্ট্রাইক রোটেট করতে পারছিলেন না। ৫২ বলে মাত্র ২৮ রান করে স্টাম্পড হন ধোনি। হার্দিক পাণ্ডিয়াও টিকতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ২২৪ রান তোলে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানও ধীরেই শুরু করেছিল। হজরতুল্লা জাজাইকে আউট করে প্রথম ধাক্কা দেন শামি। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে আফগানদের। গুলবদন নইব ২৭ ও রহমত শাহ ৩৬ রান করে আউট হন। হাসমাতুল্লা শাহিদি ২১ করেন।  কিন্তু একদিক ধরে ছিলেন মহম্মদ নবি (৫২)। কম টার্গেট হওয়ায় ভারতকে কখনই বিপদ্মুক্ত বলা যাচ্ছিল না। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৬ রান। প্রথম বলে চার মেরে নিজের হাফসেঞ্চুরি করেন নবি। কিন্তু অঘটন ঘটতে দেননি শামি। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে মহম্মদ নবিকে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরের দুই বলে আফতাব আলম ও মুজিব উর রহমানকে বোল্ড করেন শামি। চেতন শর্মার পর প্রথম ভারতীয় হিসাবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন শামি। যদিও ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার নিয়ে যান জসপ্রীত বুমরাহ (৩৯/২)।