বাধা সত্ত্বেও গালওয়ান নদীতে সেতু তৈরি ভারতের

1328

নয়াদিল্লি : হইচই আর সংঘাতের মধ্যে কাজের কাজটা করে নিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। যে সেতু নির্মাণ নিয়ে বরাবরের আপত্তি চিনের, সেই গালওয়ান রিভার ব্রিজ তৈরি করে ফেলেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়াররা।

সূত্রের খবর, বহু বাধাবিঘ্ন সত্ত্বেও সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়াররা পূর্ব লাদাখের গালওয়ান নদীর ওপর একটি ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ শেষ করায় খরস্রোতা পাহাড়ি নদী পারাপার করতে ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর এখন সুবিধা হবে। এছাড়া কারাকোরাম পাসের দক্ষিণে দরবুক থেকে দৌলত বেগ ওল্ডি পর্যন্ত ২৫৫ কিলোমিটার সড়ক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ধরে রাখতেও কৌশলগত সুবিধা হবে সেনাবাহিনীর। সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করতে ভারত যাতে বাধ্য হয়, তার জন্য কম চেষ্টা করেনি চিনের লাল ফৌজ। দৌলত বেগ ওল্ডির কাছে ভারতের শেষ সেনা চৌকি থেকে ভারতীয় বাহিনীকে হটিয়ে দিতে তারা বরাবর সক্রিয় ছিল। সাম্প্রতিক হামলার পিছনেও এই কারণটি ছিল। সেতু নির্মাণ যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে তখনই ভারতের সীমানায় ঢুকে পড়ে লাল ফৌজ। সেই কারণে গত ৫ মে থেকে পূর্ব লাদাখে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই এলাকা তাদের বলে দাবি করতে থাকে চিনা সেনারা। ভারতীয় সেনাবাহিনীও জায়গা ছাড়েনি। দুপক্ষই নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিরোধ রক্তক্ষযী সংঘর্ষে পরিণত হয়। ১৫ জুন রাতের সংঘাতের জেরে দুপক্ষেই বিস্তর হতাহত হয়। এত বাধা সত্ত্বেও শেষমেশ গালওয়ান উপত্যকায় নদীর ওপর সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হওয়ায় বিষয়টিকে ভারতের বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার এই সেতুটির (বেইলি ব্রিজ) নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়েছে। সেতুটির অবস্থান শিয়ক ও গালওয়ান নদীর সংগমের ৩ কিলোমিটার পুবে। এর আরও ২ কিলোমিটার দূরে ভারতের ১৪ নম্বর টহলদারি চৌকি, যেখানে ১৫ জুন সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই সংগমের কাছে রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর ১২০ কিমি ক্যাম্প। এক আধিকারিকের কথায়, গোলমাল সত্ত্বেও আমরা কাজ বন্ধ করিনি। ১৫ জুনের সংঘর্ষের পরেও কাজ করেছি। এই সেতু নির্মাণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যতই বাধা দিক, ভারত-চিন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার এপারে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রকল্পগুলি বন্ধ থাকবে না। সেই বার্তাটি এই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে চিনকে বেশ জোরালোভাবে দিতে পেরেছে ভারত।

- Advertisement -

পুরো গালওয়ান নদীর উপত্যকাকে দখল করার পরিকল্পনা ছিল চিনা বাহিনীর। সেই জন্য শিয়ক নদীর কাছে নিয়ন্ত্রণরেখাকে ভারতের দিকে আরও ঠেলে সরিয়ে দিতে তারা সেদিন হামলা চালিয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য সফল হলে দরবুক, শিয়ক, দৌলত বেগ ওল্ডি সড়কটি চিনের দখলে চলে যেত। যেকোনও সংঘাতের ক্ষেত্রে দৌলত বেগ ওল্ডির দিকে রাস্তাটা সহজেই বন্ধ করে দিতে পারত। এছাড়া ভারতের শেষ গ্রাম মার্গো হয়ে পাকিস্তানে যাওয়ার আরও একটি রাস্তা তৈরি করতেও চিনের কোনও অসুবিধা হত না। কিন্তু লোহা-কংক্রিটের স্থাযী ভিতের ওপর ব্রেইলি ব্রিজ নির্মাণের পর ওই জায়গা থেকে ভারতকে সরানো অনেক কঠিন হয়ে গেল লাল ফৌজের পক্ষে।