শিয়রে চিন-পাকিস্তান, ইজরায়েল থেকে ২০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনছে ভারত

2082
ফাইল ছবি।

নয়াদিল্লি: লাদাখে চিনের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় নজরদারি বাড়াতে ইজরায়েল থেকে আরও দুটি ফ্যালকন বায়ুবাহিত সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম, সংক্ষেপে ‘অ্যাওয়াকস’) কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে এসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিলতে পারে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার মুখে কুলুপ আঁটলেও ফ্যালকন কেনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গত সপ্তাহেই হয়েছে এবং তা পাঠানো হয়েছে সুরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটিতে। এর আগেও এই সুপারিশ ক্যাবিনেট কমিটিতে পৌঁছেছিল। কিন্তু ফ্যালকন কেনার আবশ্যিকতার ব্যাখ্যা চেয়ে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছিল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের কাছে।

রাশিয়ার তৈরি সামরিক পরিবহণ বিমানে আইএল-৭৬এতে ইজরায়েলি নজরদারি ব্যবস্থা থাকায় তা ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার জেটগুলিকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য চিহ্নিত করতে সাহায্য করা ছাড়াও শত্রুপক্ষের বিমানবাহিনীর গতিবিধির ওপর নজরদারিও চালাতে পারে। বায়ুসেনা একে বলে ‘আকাশের চোখ’। গত বছর পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি শিবিরে হামলাকারী ১২টি মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেট ঠিকঠাক কাজ করেছিল এই ইজরায়েলি ‘অ্যাওয়াকস’-এর সৌজন্যেই।

- Advertisement -

ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে আপাতত তিনটি ফ্যালকন অ্যাওয়াকস রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ডিআরডিও-র তৈরি ভিন্ন শক্তির আরও দুটি ফ্যালকন অ্যাওয়াকস। তবে সংখ্যার বিচারে এব্যাপারে ভারতের থেকে এগিয়ে রয়েছে চিন, এমনকি পাকিস্তানও। চিনের হাতে ২৮টি আর পাকিস্তানের হাতে ৭টি ফ্যালকন অ্যাওয়াকস আছে বলে খবর। সূত্রের খবর, ভারতের হাতে থাকা ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার তিনটি ফ্যালকন ৩৬০ ডিগ্রি এলাকায় নজরদারি চালাতে পারে। কিন্তু ভারতে তৈরি ডিআরডিও-র অ্যাওয়াকস নেত্রর নজরদারি সীমা মাত্র ২৪০ ডিগ্রি। বালাকোট হামলা এবং তার পরবর্তী সময় বিমানযুদ্ধে ব্রাজিলের এমব্রায়ে-১৪৫ বিমানে বসানো এই নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা।

পাকিস্তানের হাতে থাকা চিনা ‘কারাকোরাম ঈগল ডেজডিকে-০৩’ এবং সুইডেনের ‘সাব-২০০০’ অ্যাওয়াকস ভারতীয় নেত্রর তুলনায় উঁচুমানের বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত। দুটি ফ্যালকন ছাড়াও ক্যাবিনেট কমিটি আরও কিছু যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এজন্য মোট খরচ হবে প্রায় ২০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইজরায়েলি ফ্যালকন অ্যাওয়াকস কিনতে মোটামুটি ১০০ কোটি ডলারের বেশি লাগবে। এছাড়া লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন ভারতীয় সেনার জন্য ২০০টি ট্যাকটিকাল ড্রোন কেনারও অনুমোদন দিচ্ছে ক্যাবিনেট কমিটি। এর ফলে চিনা ফৌজের গতিবিধির ওপর নজরদারির কাজ অনেক নিখুঁত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন ভারতীয় সেনার নজরদারি চলে ইজরায়েলের ‘হেরন’ সিরিজের নজরদারি ড্রোন দিয়ে। চালকবিহীন এই বিমান ৪৫ হাজার ফুট উঁচু থেকে নজরদারি চালাতে ও ছবি তুলতে পারে।