লাদাখে স্থিতাবস্থা ফেরাতে রবিবার ফের ভারত-চিন বৈঠক

164

নয়াদিল্লি: লাদাখে স্থিতাবস্থা ফেরাতে রবিবার ফের ভারত ও চিনের বৈঠক হতে যাচ্ছে। এই বৈঠক হবে ভারতের চুশুল সেক্টরের উলটোদিকে চিনের মলডোতে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং চিনা লাল ফৌজের কমান্ডারদের এটা নবম বৈঠক। এর আগের বৈঠকে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি)-র কাছে সংঘাতের জায়গাগুলিতে মোতায়ে চিনা সেনার সংখ্যা কমানোর ওপর জোর দিয়েছিল ভারত। আগামীকালের বৈঠকেও উত্তেজনা কমানো ও সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মূলত কথা হবে বলে জানা গিয়েছে।

ভারত-চিন সেনা বৈঠকের আগে শনিবার লাদাখে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, লাদাখে লাল ফৌজকে সরানো না হলে ভারতও একতরফাভাবে সেনা কমাবে না। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তে যোগাযোগ বাড়াতে ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলবে। এব্যাপারে চিন আপত্তি করলেও তার জন্য ভারতের কাজের গতি কমবে না বা বন্ধও হবে না।

- Advertisement -

শনিবার একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, লাদাখ সীমান্তে গত ৯ মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাতের কবে শেষ হবে, তা বলা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তার নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা বা তারিখ বলা যাবে না। লাদাখে বেজিং বিশ্বাসভঙ্গ করেছে বলেও অভিযোগ করেন রাজনাথ।

সম্প্রতি একটি উপগ্রহ চিত্রে দাবি করা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলায় এলএসি লঙ্ঘন করে পুরোদস্তুর একটি গ্রাম বানিয়েছে চিন। বেজিংয়ে দাবি, তারা তাদের এলাকাতেই গ্রাম গড়েছে। য়দিও ভারত সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। গত বছর মে মাস থেকে পূর্ব লাদাখে চিনের সঙ্গে সংঘাত বেধেছে ভারতের। মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এর পরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পিছোনো (ডিসএনগেজমেন্ট) এবং সেনা সংখ্যা কমানো (ডিএসক্যালেশন)-র বিষয়ে আলোচনা জারি রয়েছে। নতুন করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ না হলেও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। শূন্যের নীচে তাপমাত্রায় দুদেশের সেনাই মুখোমুখি বসে রয়েছে লাদাখে।

সেনা সূত্রের খবর, এলএসি-র কিছু অংশে চিন সেনা সরালেও প্যাংগং হ্রদের উত্তর প্রান্তের ফিঙ্গার এরিয়া সহ বেশ কয়েটি অঞ্চলে লালফৌজের অবস্থান এলএসির এপারে। ফলে ভারতের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।