ফাইজারের টিকা নয়, ভারতের ভরসা দেশে তৈরি কোভ্যাকসিন

599

নয়াদিল্লি: মার্কিন কোম্পানি ফাইজার সাফল্য পেলেও করোনা রুখতে ভারত ভরসা রাখছে দেশে তৈরি ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন এবং অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথ উদ্যোগে তৈরি টিকার ওপর। ভারত বায়োটেকের টিকা তো বটেই, অক্সফোর্ডের টিকার পরীক্ষাও ভারতে এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই টিকাগুলি নিরাপদ ও কার্যকর বলে ছাড়পত্র পেলে বেশি উপকৃত হবেন ভারতীয়রা। এই সুবিধা ফাইজারের টিকার ক্ষেত্রে নেই। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা তৈরিতে বড় সাফল্য দাবি করেছে মার্কিন সংস্থা ফাইজার। ভারতে সেই টিকা আমদানি করার ব্যাপারে সংস্থার কথাবার্তা শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। শোনা যাচ্ছে, খুব শীঘ্র দুপক্ষের বৈঠকও হতে পারে। কিন্তু ভারতের বাজারে কত তাড়াতাড়ি এই টিকা আসবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বরং জানা গিয়েছে, ফাইজারের টিকা বাজারে আসতে এখনও কিছু সময় লাগবে। প্রথমত, শিশু, প্রবীণ ও করোনা সংক্রামিতদের শরীরে এই টিকা কীভাবে কাজ করবে, তা জানা যাবে দু’মাসের সেফটি ফলো-আপ ডেটা বিশ্লেষণের পর। সে রিপোর্ট পেতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর রিপোর্ট খতিয়ে দেখে টিকা ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে মার্কিন ওষুধ নিয়ামক সংস্থা। দ্বিতীয়ত, এরপর টিকা উৎপাদনের জন্য কিছু সময় লাগবে। চলতি বছরে ৫ কোটি টিকা তৈরি করবে বলে জানিয়েছে ফাইজার। ইতিমধ্যে সেই টিকা বণ্টনের জন্য আমেরিকা, ব্রিটেন ও জাপানের সঙ্গে সংস্থার চুক্তি হলেও ভারতের সঙ্গে হয়নি। তৃতীয়ত, এখন চুক্তি হলেও ভারতের বাজারে টিকা আনতে আগে স্থানীয় স্তরে এর পরীক্ষা করতে হবে। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে স্বাভাবিকভাবে সময় লাগবে।

- Advertisement -

সেই কারণে মনে করা হচ্ছে, ফাইজারের করোনার টিকা দ্রুত ভারতের হাতে আসছে না। চতুর্থত, ভারতে এই টিকার সংরক্ষণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। টিকা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফাইজারের টিকা হিমাঙ্কের ৭০ ডিগ্রি নীচে সংরক্ষণ করতে হয়। ভারতে এমন পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ টিকা এভাবে মজুত রাখা যেতে পারে। সেজন্যই ফাইজারকে ভুলে ভারত বায়োটেক আর অক্সফোর্ডের টিকার দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশ। যদিও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভারতে করোনা টিকাকরণের তত্ত্বাবধায়ক জাতীয় বিশেষজ্ঞ দল সমস্ত টিকা নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নিয়মিত। প্রত্যেকটি টিকার ব্যবহারিক যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেটা সুবিধাজনক হবে, সেটাই নেওয়া হবে।

ফাইজারও ভারতকে টিকা সরবরাহ করতে আগ্রহী বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিন এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি এজেডডি ১২২২ বা চ্যাডক্স-১ এন কোভ-১৯-এর ওপর ভারতের ভরসা করার কারণ ব্যাখ্যা করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারত বায়োটেক এবং অক্সফোর্ডের টিকার পরীক্ষা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অক্সফোর্ডের টিকা দ্রুত মিলবে ধরে নিয়ে ইতিমধ্যে সেদেশের হাসপাতালগুলিকে তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এই টিকার পরীক্ষা ভারতীয় জনসাধারণের ওপর করা হচ্ছে। তাছাড়া ভারত বায়োটেকের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সরকারি সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পরীক্ষার ওপরও আইসিএমআরের নজরদারি রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরে না হলেও আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই দুটি টিকা ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় চলে আসবে। অক্সফোর্ডের টিকার তৃতীয় পর্যায়ে পরীক্ষার ফলাফল এবছরই জানা যাবে বলে খবর। দুটি টিকাই এখনও পর্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বে এই মুহূর্তে প্রায় ২০০টি করোনা টিকার গবেষণা চলছে। তার মধ্যে গোটা দশেক রয়েছে পরীক্ষার একেবারে শেষ পর্যায়ে এর মধ্যে উল্লিখিত টিকা দুটি ছাড়াও আরও কয়েকটির পরীক্ষা ভারতে হচ্ছে। ভারতের বাইরে যেসব সংস্থা কাজ করছে, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনমতো যেকোনও টিকাই ভারতের বাজারে আনা যায়।