বাটলারের দাপটে বিরাট শো পণ্ড

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : ক্রিকেটে ফের কোভিড হানা।

ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ এড়াতে দর্শক প্রবেশে রাতারাতি নিয়েধাজ্ঞা। রবিবার পর্যন্ত মুখরিত মোতেরার গ্যালারি আজ তাই জনমানব শূন্য! উৎসবের মেজাজও একেবারে উধাও!

- Advertisement -

ম্যাচ শেষে ভারতীয় দলের ডাগআউটের ছবিটাও প্রায় এক। একরাশ হতাশা, ঝুঁকে পড়া কাঁধ, হারের যন্ত্রণায় কাতর একঝাঁক মুখ। হবেই বা না কেন? বিরাট শোয়ে তৈরি মঞ্চটা যে পণ্ড জস বাটলারের আতশি ব্যাটিংয়ে। ৫২ বলে অপরাজিত ৮৩, যার সামনে ছোট দেখালো ভারতের ১৫৬/৬ স্কোরটাকে।

ইংল্যান্ডের জয়ের মঞ্চটা গড়েছিলেন মার্ক উডরা। গতি-সুইংয়ে ভারতকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। শেষটা করলেন বাটলার, চেনা মেজাজে ঝোড়ো ইনিংসে। ব্যাটে-বলে ইংল্যান্ড-আধিপত্য খর্ব করার প্রয়াস বলতে বিরাটের ব্যাটিং। সতীর্থদের ব্যাটিং ভরাডুবির মাঝে অধিনায়কোচিত ব্যাটিং (অপরাজিত ৭৭)। কিন্তু শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে আটকাতে যা যথেষ্ট ছিল না।

পাওয়ার প্লেতে ৫৭/১ রান তুলে জয়ে কার্যত নিশ্চিত করে নেন বাটলাররা। জেসন রয় (৯), দায়িদ মালানরা (১৮) এদিন বড় রান না পেলেও বাটলার ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেননি ভারতকে। অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন ইংরেজ ওপেনার। জনি বেয়ারস্টো অপরাজিত থাকেন ৪০ করে। ফলস্বরূপ ১০ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বড় জয়। যার সুবাদে ২-১ এগিয়ে গিয়ে বৃহস্পতিবার মোতেরাতেই ইংল্যান্ড নামবে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে। বিরাটদের জন্য যা হবে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ।

এদিন শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ ইংল্যান্ডের হাতে। কেরিয়ারের ১০০তম টি২০ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ টসে জিতে ফিল্ডিং নেন মরগ্যান। পত্রপাঠ কাজ শুরু গোড়ালির সমস্যা কাটিয়ে কামব্যাক করা মার্ক উড। প্রথম স্পেলে লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মাকে তুলে নিয়ে পাওয়ার প্লেতেই ভারতকে (২৪/৩) ব্যাকফুটে ঠেলে দেন।

ভারতীয় একাদশে আজ সূর্যকুমার যাদবকে বসিয়ে কামব্যাক ঘটে রোহিত শর্মার। ওপেনিং থেকে সরিয়ে তিনে ঈশান। শেষের সিদ্ধান্তের যুক্তি খুঁজে পেলেন না ভিভিএস লক্ষ্মণ-সঞ্জয় বাঙ্গারদের মতো অনেকেই। ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন হোক বা অন্য কারণ- শুরুতেই ব্যাটিং স্ট্র‌্যাটেজি পুরোপুরি ঘেঁটে যায়। সিরিজের তিন নম্বরে ম্যাচেও ফর্ম হাতড়ে বেড়ালেন লোকেশ রাহুল (০)। মার্ক উডের গতি ও মুভমেন্টে পরাস্ত হয়ে বোল্ড। গৌতম গম্ভীর যার জন্য দুষলেন লোকেশের ফুটওয়ার্ককেও।

রোহিতও (১৫) প্রথম থেকেই অস্বস্তিতে। চার রানের মাথায় একবার জীবন (নিজের বলে আর্চার ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন) পান। কিন্তু সদ্ব্যবহারে ব্যর্থ। উডকে পুল করতে গিয়েছিলেন। যদিও শরীর লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা শর্টপিচ ডেলিভারিতে টাইমিং করতে ব্যর্থ। পরের ধাক্কা ঈশান কিষান (৪)। ম্যাচের আগে বলেছিলেন, গত ম্যাচে সেট হয়ে গেম ফিনিশ করে আসতে পারিনি। ফের সুযোগ পেলে, ফিনিশ করে আসব। দিনটা যদিও ঈশানের ছিল না।

২৪/৩ থেকে প্রথম প্রতিরোধ বিরাট-ঋষভ জুটিতে। ঋষভ নামার পরই দ্বিতীয় স্পেলে লেগস্পিনার রশিদকে আনেন মরগ্যান। যদিও লাভ তোলেন ঋষভই। কখনও সুইপ, কখনও জায়গা তৈরি করে কভারের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি। যদিও ঋষভ-প্রত্যাশার অপমৃত্যু বিরাট-ভুলে। অযথা তৃতীয় রানের পিছনে ছুটে রানআউট। উইকেটকিপার বাটলারের ফলস থ্রোয়ে তৃতীয় রান (বিরাটের কল ছিল) নিতে গিয়ে ঋষভ (২০ বলে ২৫) সাজঘরে।

ধাক্কা কাটিয়ে দলকে টানার দায়িত্বে এরপর বিরাট। ক্রিজে এসেই উড-আর্চারদের সাঁড়াশি চাপের মধ্যে কপিবুক শটে ফাঁসটা আলগা করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। শেষদিকে একেবারে বিরাট-ঝড়। প্রথম দশে ৫৫/৩-এ থমকে থাকা ভারত শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় ১৫৬/৬-এ। শেষ ৩৩ বলে হার্দিক পান্ডিয়াকে (১৭) নিয়ে ৭০ রান। এরমধ্যে শেষ পাঁচে ওভারে ১৭ বল খেলে বিরাট করেন ৪৯ রান! ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের যার আগে একমাত্র যুবরাজ সিং (১৬ বলে ৫৯, ২০০৭, ইংল্যান্ড)।

উডের অফস্টাম্পের বাইরের এক্সপ্রেস গতির বলকে বিরাট অনায়াসে উড়িয়ে দিলেন মিড উইকেটের ওপর দিয়ে। আবার কখনও সোজা ব্যাটে কপিবুক সিক্স। জর্ডনকে ফ্লিক করে গ্যালারিতে ফেলা- অসাধারণ সব দৃশ্য উপহার দিলেন ক্যাপটেন কোহলি। ৪৬ বলে ৭৭, ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। টি২০ ফর্ম্যাটে হাফ সেঞ্চুরির নিজের বিশ্বরেকর্ডকে আরও একধাপ (২৭তম) এগিয়ে নিয়ে গেলেন।

যদিও সতীর্থদের ব্যর্থতা ও ইংল্যান্ডের অলরাউন্ড ক্রিকেটে ব্যর্থ বিরাটের একক লড়াই।