বাঁচার ম্যাচে বিরাটদের কাঁটা উডদের গতি

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : মোতেরার বাইশ গজে গতি-আতঙ্ক।

থরহরিকম্প শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং! চলতি টি২০ সিরিজে অবিশ্বাস্য যে কাণ্ডটাই করে দেখাচ্ছেন ইংরেজ পেসাররা। পরিষ্কার করে বললে মার্ক উড ও জোফ্রা আর্চার। মন্থর গতি, টার্নিং ট্র‌্যাক- মোতেরার পিচ নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু দক্ষতাই যে আসল, সেই সার কথাটাই গতি আর বাউন্স অস্ত্রে বোঝাচ্ছেন পেসারদ্বয়। মুখ বন্ধ পিচ সমালোচকদেরও।

- Advertisement -

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উড-আর্চারের দুরন্ত বোলিং। প্রথম তিন টক্করে যে গতির সামনে দুবার পরাস্ত ভারত। উডদের এক্সপ্রেস গতি আর বাউন্সের উত্তর ছিল না ব্যাটসম্যানদের কাছে। বিরাটও স্বীকার করেছেন, ইংরেজ পেসারদের গতি আর নিয়ন্ত্রণ, তাদের বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই অনিশ্চয়তা সঙ্গী করেই ভারতের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই।

পাওয়ার প্লেতেই মূলত গত তিন ম্যাচের ভাগ্য ঠিক হয়েছে। হারা দুই ম্যাচে প্রথম ৬ ওভারে ভারতের স্কোর ছিল যথাক্রমে ২২/৩ ও ২৪/৩। যেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বিরাটরা। তৃতীয় ম্যাচের নায়ক জস বাটলারও বলছিলেন, শেষপর্যন্ত টিকে থেকে দলকে জেতানোটা দারুণ অনুভতি। তবে পাওয়ার প্লেতে শুরুতে উইকেট তুলে নেওয়াই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। আগামীকাল ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি মানে সিরিজ হাতছাড়া।

শাস্ত্রীদের জন্য সমস্যার লম্বা লিস্ট। প্রশ্নের মুখে থিংকট্যাংকের স্ট্র‌্যাটেজি, টিম কম্বিনেশন, ব্যাটিং-অর্ডার। গৌতম গম্ভীর, ভিভিএস লক্ষ্মণরা রীতিমতো অবাক দলকে যেভাবে বারবার বদলানো হচ্ছে, ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন করা হচ্ছে। বিশেষত, অভিষেক ম্যাচে ওপেনিংয়ে ঝড় তোলা ঈশানকে কোন যুক্তিতে তিন নম্বরে পিছিয়ে দেওয়া- অনেকের বোধগম্য নয়। বারবার দল বদলানোর রোগ ক্ষতি করছে বলে মনে করছেন গৌতম গম্ভীর। যুক্তি, এরফলে ক্রিকেটারদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

পাক কিংবদন্তি ইনজামাম উল হকের কথায়, বিরাটের ব্যাটিং বাদ দিলে ভারতের পক্ষে বলার মতো কিছু নেই। একপেশে ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাটলাররা। তিন বিভাগেই ইংল্যান্ড ভারতকে পিছনে ফেলেছে। বাস্তব হল, ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে হারাতে একা কোহলি খেললে হবে না, বাকিদেরও এগিয়ে আসতে হবে। মঙ্গলবারের ম্যাচে যা হয়নি।

আগামীকাল ডু অর ডাই ডুয়েছে নতুন কী স্ট্র‌্যাটেজি দেখা যাবে, উত্তরটা একমাত্র বিরাটরাই দিতে পারবেন। ফের পরিবর্তন, নাকি ভুল শুধরে সঠির কম্বিনেশন- সময়ই বলবে। ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মূল চিন্তার জায়গা লোকেশ রাহুল। চলতি সিরিজে তিন ম্যাচে তার স্কোর ১, ০, ০। বিশেষত, আউট হওয়ার ধরন আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। দলের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর রাহুলকে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বললেও, বাস্তব অস্বীকার করা মুশকিল। কারণ, লোকেশের টানা ব্যর্থতা দলকে শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছে।

যুযবেন্দ্র চাহালও ফ্লপ। উইকেট নেওয়া কিংবা প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা- জোড়া লক্ষ্যেই ব্যর্থ ভারতীয় লেগি। স্পিনের বিরুদ্ধে নড়বড়ে বলে সমালোচিত বাটলারের হাতেও বেধড়ক মার খেয়েছেন। ইংরেজ তারকা তো বলেছেন, চাহালকে মারা প্রথম ছক্কাটা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। সমস্যাটা শুধু চলতি সিরিজের নয়। গত ২০২০-র জানুয়ারি থেকে চাহালের বোলিং গড় ৪৩.৬০। ওভার পিছু রান খরচ করেছেন ৯.২৭। দলের মূল স্পিনারের পক্ষে যা মানানসই নয়। এরপরও কাল প্রথম এগারোয় থাকলে, সেটাই অবাক করবে।

বিকল্প হিসেবে দুটি নাম উঠে আসছে। ব্যাটিংয়ে সূর্যকুমার যাদব, বোলিংয়ে বছর একুশের লেগস্পিনার রাহুল চাহার। পেস বিভাগে রাহুলের তুতোভাই দীপক চাহারও টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায়। তবে গতি আর বাউন্স কাজে লাগালে হলে নভদীপ সাইনিই সেরা অস্ত্র হতে পারেন বিরাটের। লোকেশ বসলে, ওপেনিংয়ে রোহিত-ঈশান এবং মিডলঅর্ডারে সূর্যকমার যাদব। হয়তো লোকেশের ব্যর্থতা ভারতের বিশ্বকাপ-মহড়ায় বড়ো ধাক্কা, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত বুঝতে হবে।

থ্রি লায়ন্স আর পিছনের দিকে তাকাতে নারাজ। শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই  চলবে। তবে অপেক্ষায় নারাজ জেসন রয়, জস বাটলার, জনি বেয়ারস্টোরা। ২-১ এগিয়ে থাকার মনস্তাত্বিক সুবিধা সঙ্গী করে আগামীকালই সিরিজ পকেটে পুরে ফেলায় পাখির চোখ মরগ্যানদের। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮-র জুলাইয়ের পর কোনও টি২০ সিরিজ হারেনি ইংল্যান্ড।

মেন ইন ব্লুর জন্য চ্যালেঞ্জটা যে সহজ নয়, বলাই বাহুল্য। তবে পিছিয়ে থেকে বাজি জেতাবিরাট ব্রিগেডের অন্যতম বৈশিষ্ট। কাল এবং শনিবার- শেষ দুই ম্যাচে সেই কামব্যাকের অপেক্ষায় আসমুদ্র হিমাচল।