ফাইনাল ফ্রন্টিয়ারে কোহলিদের কাঁটা বোলিং

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : আচমকা পট পরিবর্তন। ঠিক যেন পালাবদল!

সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে পিছিয়ে পড়ছিল টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে সমতা ফেরানোর পাশে দাপুটে পারফরমেন্সের মাধ্যমে বিপক্ষের উপর প্রবল চাপ তৈরি করছিলেন কোহলিরা। জিতে নিচ্ছিলেন সিরিজ। এভাবেই টেস্ট ও টি২০ সিরিজে সফল কোহলির ভারত। পিছিয়ে পড়ে কামব্যাকের দুরন্ত কাহিনী।

- Advertisement -

ওয়ান ডে সিরিজে বদলে গেল চিত্রনাট্য। সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতল ভারত। গতকালের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের সমতা ফেরানো। জনি বেয়ারস্টো ও বেন স্টোকসের নির্মম পেশাদারি ব্যাটিংয়ে ভুবনেশ্বরদের আত্মসমর্পণ। লোকেশ রাহুলের শতরান, ঋষভ পন্থের আগ্রাসী ব্যাটিং- ক্রিকেটীয় আলোচনায় সবই এখন পিছনের সারিতে। সিরিজের ফল এখন ১-১। ম্যাচের ময়নাতদন্তে কাঠগড়ায় ভারতের বোলিং। শুরুর পওয়ার প্লে-তে উইকেট আসছে না। কুলদীপ-ক্রুণাল জুটি চরম ব্যর্থ হওয়ার পর কাল চাহাল-ওয়াশিংটনদের বদলি হিসেবে দেখার সম্ভাবনা বাড়ছে। টি নটরাজনের নামও শোনা যাচ্ছে। সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগে দলের বোলিং আক্রমণ ও স্ট্র‌্যাটেজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কোহলি-শাস্ত্রীরা। পুনের গাহুঞ্জের এমসিএ স্টেডিয়ামে কোনও স্কোরকেই আর নিরাপদ ভাবার কারণ নেই। আদর্শ ব্যাটিং উইকেটে যেকোনো রানই তুলে ফেলা সম্ভব। সোজাকথায়, ফাইনাল ফ্রন্টিয়ারে কোহলিদের কাঁটা বোলিং।

টি২০ সিরিজে বল করলেও জোড়া ওয়ান ডে ম্যাচে বল হাতে দেখা যায়নি হার্দিক পান্ডিয়াকে। কাল শেষ ম্যাচে হার্দিক বল করবেন কি না, কারোর জানা নেই। আবার দলের পঞ্চম বোলার হিসেবে ক্রুণাল যে অচল, গতরাতে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকারও আজ ক্রুণাল-কুলদীপের বদলে চাহালদের হয়ে সওয়াল করেছেন। সানির কথায়, পুনের ব্যাটিং উইকেটে ক্রুণাল দলের পঞ্চম বোলার হতে পারে না। চাহালের মতো কাউকে প্রযোজন। যার বলে বৈচিত্র অনেক বেশি। ৩৩৬ রান করার পরও দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর টিম ইন্ডিয়ার অন্দরেও সিরিজ বাঁচানোর অঙ্ক কষার পালা চলছে। গতকালের ম্যাচ হারের পর অধিনায়ক কোহলি স্টোকস-বেয়ারস্টোর দাপট ও বিস্ময়কর রান তাড়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। এছাড়া ভারত অধিনায়কের উপায়ও ছিল না। যদিও অনেক ভাবনার পরও স্টোকস-বেয়ারস্টোদের থামানোর রাস্তা পাওয়া যায়নি এখনও।

কোহলির ফর্ম, রাহুলের ছন্দ, ঋষভের আগ্রাসনের পাশে দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার প্রাপ্তি হিসেবে হাজির প্রসিধ কৃষ্ণা। চমকপ্রদ ইয়র্কারে বাটলারকে প্যাভিলিয়ানে ফিরিয়েছিলেন তিনি। এই ইয়র্কারের পর কেকেআরের পেসারকে নিয়ে হইচই স্বাভাবিক। বাটলার নিজেও প্রসিধের ইয়র্কারকে অন্যতম সেরা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যাঁকে নিয়ে এমন আলোচনা, সেই প্রসিধের কথায়, ইংল্যান্ডকে রোখার জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম আমরা। কিন্তু সাফল্য আসেনি। আসলে পুরোপুরি ব্যাটিং উইকেট ছিল। বোলারদের বধ্যভূমি বললেও কম বলা হবে। ৩৯ বল বাকি থাকতে ৩৩৬ রান তুলে ইংল্যান্ড জিতে যাচ্ছে, উইকেটের চরিত্র বোঝার জন্য এই পরিসংখ্যানই যথেষ্ট।

দেশের হয়ে মাত্র দুটি ওয়ান ডে খেলেছেন প্রসিধ। বাইরে থেকে তাঁকে অনভিজ্ঞ বললেও কথাবার্তা থেকে স্পষ্ট, প্রসিধ যথেষ্ট পরিণত। গত রাতের ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে তাই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মতোই তাঁর গলায় শোনা গিয়েছে, সীমিত ওভারের ফরম্যাটে এমন ওঠাপড়া লেগেই থাকে। অতীতে আমরা এমন পরিস্থিতি থেকে সফলভাবে বেরিয়ে এসেছি। এবারও তাই হবে বলেই আমার ধারণা। প্রসিধের আত্মবিশ্বাস কাল তাঁর সতীর্থদের উজ্জীবিত করলে ভারতীয় ক্রিকেট হোলির রংয়ে রঙিন হয়ে উঠবেই।