বিশ্বকাপের বদলার সুযোগ বিরাটদের সামনে

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : ২০১৯-এর ৩০ জুন। বার্মিংহ্যাম।

ধুন্ধুমার ব্যাটিং-শোয়ে ইংল্যান্ডের কাছে হার মেনেছিল ভারত। গ্রুপ লিগে ওই একটাই ম্যাচে পা হড়কেছিল বিরাট ব্রিগেডের। রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি চাপা পড়ে যায় জনি বেয়ারস্টো, বেন স্টোকসদের দাপটে। শেষপর্যন্ত ভারতের স্বপ্নভঙ্গ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে। আর সেই কিউয়িদের হারিয়ে স্বপ্নপূরণ ইংল্যান্ডের।

- Advertisement -

মাঝে গঙ্গা-টেমস দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। কোভিডের ধাক্কা কাটিয়ে ঘটেছে ক্রিকেটের কামব্যাক। ইংল্যান্ডকে ছিটকে দিয়ে বিরাটদের প্রাপ্তি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের টিকিট। টেস্ট সিরিজে ৩-১, টি২০ সিরিজে ৩-২ জয়ও পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। আগামীকাল শুরু ওডিআই সিরিজ জিতলেই ষোলোকলা পূরণ। বিরাটদের মনের কোণে হয়তো উঁকি মারছে বিশ্বকাপ-বদলার মেজাজও।

বিশ্বজয়ের পর ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স গ্রাফ সাদামাটা। আয়ারল্যান্ডের মতো দলের কাছেও হারতে হয়েছে। অবশ্য আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই ভারতের। জোফ্রা আর্চার (চোট), ক্রিস ওকসরা (বিশ্রাম) না থাকলেও, মরগ্যানের হাতে একঝাঁক ম্যাচ উইনার। আর চলতি সফরে জোড়া সিরিজ হারায় প্রত্যাঘাতে ঝাঁপাবে তাঁরা।

এক্স ফ্যাক্টর নিঃসন্দেহে স্টোকস। টি২০ সিরিজে ছয় নম্বরে স্টোকসকে খেলানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুল শুধরে তিনে স্টোকসকে খেলানোর ভাবনা। স্যাম বিলিংসের কাঁধে থাকবে ফিনিশারের দায়িত্ব। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কোনও ওডিআই ম্যাচ খেলেননি স্টোকস। মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ থাকবে। ওডিআই অভিষেক না ঘটলেও, টপঅর্ডারে লিভিংস্টোনকে গুরুত্ব দিচ্ছে ক্রিকেটমহল। সৌজন্যে সাম্প্রতিক ফর্ম। ল্যাঙ্কাশায়ারের পাশাপাশি বিগ ব্যাশে পারথ স্কর্চার্সকে ফাইনালে তোলার অন্যতম কারিগর। এদিন মরগ্যানও ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলের প্রত্যেককে সুযোগ দিতে চান।

ভারতীয় বোলারদের মূল কাঁটা হতে পারে জেসন রয়-জনি বেয়ারস্টো ওপেনিং জুটি। টি২০ সিরিজে ফর্মে থাকার ইঙ্গিত ছিল বেয়ারস্টোর ব্যাটে। যা থামানোর মূল দায়িত্ব ভুবনেশ্বরের কাঁধে। সঙ্গী দুই তরুণ পেসার শার্দূল ঠাকুর, থঙ্গরাসু নটরাজন। স্পিন ব্রিগেডে যুযবেন্দ্র চাহাল। হার্দিকের পাশাপাশি দ্বিতীয় অলরাউন্ডারের দৌড়ে ওয়াশিংটন সুন্দরের সঙ্গে রয়েছেন সিনিয়ার পান্ডিয়া ক্রুণাল। বাড়তি ব্যাটসম্যানের ভাবনায় লোকেশ রাহুলকে খেলানোর একটা সম্ভাবনাও থাকছে।

গৌতম গম্ভীরও বলছিলেন, লোকেশ রাহুলকে তিনটি ওডিআই ম্যাচেই খেলানো উচিত। ওকে ফর্মে ফেরাতে এটা জরুরি। না খেলিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে রাখলে আত্মবিশ্বাসের পারদ আরও কমে যাবে। লোকেশ প্রুভেন কাস্টোমার। তাও ওর ফর্মে ফেরা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যাটে-বলে সঠিক ভারসাম্য অগ্রাধিকার পেলে লোকেশকে বেঞ্চেই কাটাতে হবে। কারণ, টি২০-তে চার ওভার করলেও, দশ ওভার বোলিংয়ে জন্য হার্দিকের কাঁধ কতটা প্রস্তুত, এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে বাড়তি বোলিং অপশন গুরুত্ব পাবে।

বিরাট আজ পরিষ্কার জানিয়েছেন, শিখর ধাওয়ান-রোহিত শর্মাই ওপেন করবেন। তিনে স্বয়ং। ২০১৯ সালের ৮ মার্চের (রাঁচি) পর কোনও ওডিআই সেঞ্চুরি নেই বিরাটের। তবে সদ্য সমাপ্ত টি২০ সিরিজে মার্ক উডদের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। ভক্তদের প্রত্যাশা ১ বছর ২২২ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে আগামীকালই। আর তা হলে, ঘরের মাঠে ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে শচীনের ২০টি ওডিআই সেঞ্চুরির নজির স্পর্শ করবেন।

বন্ধুত্বের হাতছানি পুনের এমসিএ স্টেডিয়াম পিচেও। এখানে অনুষ্ঠিত চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনবারই তিনশো প্লাস রান হয়েছে। কালও হাই স্কোরিং ম্যাচের পূর্বভাস। যা কাজে লাগাতে চার ও পাঁচে থাকবেন শ্রেয়স ও ঋষভ। লোকেশের মতো টি২০ সিরিজে দলের এক্স ফ্যাক্টর সূর্যকুমার যাদবকেও রিজার্ভ বেঞ্চে কাটাতে হচ্ছে। তবে বিরাট-শাস্ত্রীর প্রথম এগারোয় সবসময় কিছু না কিছু চমক থাকেই। কাল কী অপেক্ষা করবে ভবিষ্যদবাণী করা মুশকিল।

উইনিং কম্বিনেশন বাড়তি সতর্কতা জরুরি। শেষ পাঁচ ম্যাচে চারটিতে হেরেছে ভারত। জয় মাত্র একটিতে। অস্ট্রেলিয়ার হাতে দুই দল তাদের শেষ ওডিআই সিরিজে হেরেছে। তাই মরগ্যানদের মতো উইনিং টাচ খুঁজে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ টিম ইন্ডিয়ার সামনেও। বলার কথা, ২০১৭-য় পুনেতেই ইংল্যান্ডের ৩৫০ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। সেঞ্চুরি করেন চেজমাস্টার বিরাট কোহলি। আগামীকাল? উত্তর সময়ে হাতে।