ঈশান দাপটে বিরাট জয় ভারতের

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।

বছর বাইশের তরুণ তুর্কি ঈশান কিষানের স্বপ্নপূরণের হাত ধরে লক্ষ্যভেদ ভারতের। ০-১ পিছিয়ে থাকা টিম ইন্ডিয়ার সামনে আজ ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচ। ঈশানের রাজকীয় অভিষেকে প্রত্যাঘাত মেন ইন ব্রলু। ৩২ বলে ৫৬। ওপেন করতে নেমে জয়ে ভিত তৈরি করে দেন। বিরাট কোহলি, ঋষভ পন্থরা (১৩ বলে ২৬) বাকি কাজটা সারতে ভুলচুক করেননি।

- Advertisement -

১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে ক্রিস জর্ডনকে ছক্কা হাঁকিয়ে টি২০-তে ৩০০০ রান ও দলের জয় সেরে নেন বিরাট (অপরাজিত ৭৩)। নিটফল ১৩ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয়। ১-১ স্কোরে সমতায় ফেরা ভারতের।

নায়ক একান্তভাবেই ঈশান। গত আইপিএলে ৫৭ প্লাস গড়ে ৫১৬ রান করেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই গেম চেঞ্জার। আজ প্রথমবার দেশের হয়ে খেলতে নেমে তারই পুনরাবৃত্তি। টসের সময় বিরাট বলেছিলেন, আইপিএলে বিশ্বসেরা বোলারদের সাফল্যের সঙ্গে সামলেছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য প্রস্তুত ঈশান। ভারতীয় ক্যাপটাও এগিয়ে দেন অধিনায়কই। সেই বিরাটকে ক্রিজের উলটো দিকে দাঁড় করিয়ে যোগ্যতার প্রমাণ রাখলেন।

অথচ, ১৬৪ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই লোকেশ রাহুলের (০) আউট আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রথম বলটাই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আশ্বস্ত করেন ঈশান। জোফ্রা আর্চারকে মারা ফ্লিক দিয়ে শুরু, পরের ওভারে স্যাম কুরানকে অনবদ্য পুল। যতক্ষণ ক্রিজে কাটালেন, বাহারি শটে সুপার-সানডের ক্রিকেট-উৎসবে রঙ ছড়ালেন।

টম কুরানের এক ওভারে ১৬ রান। ঈশানের একারই ১৫, যার মধ্যে বিশাল একটা ছক্কা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে কারণে পকেটসাইজ ডিনামাইট বলা হয়। অভিষেকের মঞ্চে তারই নমুনা পেশ। টার্গেট ১৬৫-এর লক্ষ্যে পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ৫০/১ বিরাট-ঈশান জুটিতে। ইংল্যান্ড যেখানে তুলেছিল ৪৪/১। পিছনে ফেলার শুরু সেখান থেকে। বাকি ইনিংসে কখনও বেলাইন হয়নি ভারত।

রেহাই পাননি স্টোকসও। রশিদের হালও সেই এক। জোড়া ছক্কায় ২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি! কে বলবে, জীবনের প্রথম ম্যাচ খেলছেন দেশের হয়ে। প্রথম ম্যাচে আর্চারকে রিভার্স শটে ঋষভের ছক্কা মারা দেখে যুবরাজ সিং বলেছিলেন, এটাই ভারতের নতুন প্রজন্ম। ভয়ডর বলে কিছু নেই। তালিকায় নবতম সংযোজন ঈশান কিষান।

৩২ বলে ৫৬। ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার ঈশান-বিস্ফোরণে ইতি টানেন রশিদ। ততক্ষণে ভারত পৌঁছে গিয়েছে ৯৪/২ স্বস্তিদায়ক স্কোরে। শূন্যতে প্রথম উইকেট খোয়ানোর পর বিরাটের সঙ্গে জুটিতে ৯৪ রানের পার্টনারশিপ। যার মধ্যে ৫৬ ঈশানের। অভিষেক বয়ের দাপটের পরিষ্কার ছবি। ঈশান ফেরার পর অনায়াস জয়ে স্ক্রিপ্টটা বজায় রাখেন বিরাট।

এরআগে টসে জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান বিরাট। ঈশানের সঙ্গে অভিষেক-ক্যাপ ওঠে সূর্যকুমার যাদবের মাথায়। অক্ষরকে বসিয়ে চার স্পেশালিস্ট বোলার খেলানোর ঝুঁকি নিলেও, বোলাররা হতাশ করেননি অধিনায়ককে। ইংল্যান্ডকে ১৬৪/৬ স্কোরে আটকে রেখে ভুবনেশ্বর-শার্দুলরা তাঁদের দায়িত্বে সফল। ম্যাচের তৃতীয় বলেই বাটলারকে (০) আউট করে বোলারদের দাপট শুরু। ভুবনেশ্বর কুমারকে অ্যাক্রস দ্য লাইন চালাতে গিয়ে মিস করে লেগবিফোর।

জেসন রয়কে নিয়ে পরিকল্পনা এদিন খাটেনি। ম্যাচের আগে চাহাল দাবি করেছিলেন, জেসন রয় ঝুঁকি নেয়। তবে হিসেব কষে। ওর জন্য পরিকল্পনা থাকবে আজ। যদিও বিধি বাম। স্বমেজাজেই ব্যাট ঘোরালেন রয়। মালানও ক্রিজে নেমেই চালাতে শুরু করেন। ফলস্বরূপ প্রথম ৬ ওভারে ৪৪/১। দুজনের বিগহিট মোতেরার মেজাজ থেকে থেকে বিগড়ে দিচ্ছিল।

ব্যাকফুট পাঞ্চ, কিংবা লফটেড শটের সঙ্গে ডাবল হ্যান্ডেড ফোরহ্যান্ড- শুক্রবার যেখানে থেমেছিলেন, ঠিক সেখান থেকেই এদিন শুরু জেসনের। ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা মালানকে (২৪) ফিরিয়ে ৬৩ রানের জুটি ভাঙেন চাহাল। হাফ সেঞ্চুরি ঠিক আগে জেসন রয়কে (৩৫ বলে ৪৬) ফেরান সুন্দর।

মরগ্যানের দাবি ছিল, এই পিচে হাইস্কোরিং ম্যাচ হবে না। লক্ষ্য থাকবে, ভারতের সামনে যথাসম্ভব বড়ো স্কোর দাঁড় করানো। ১০ ওভারে ৮২/২- মঞ্চ তৈরি করেও স্লগ ওভারে ঝড় তুলতে পারেননি তাঁরা। ভুবনেশ্বরদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সামনে বেয়ারস্টো (২০), মরগ্যান (২৮), স্টোকস (২৪)-রা ফয়দা তুলতে ব্যর্থ। প্রত্যোাশার কিছুটা আগেই ১৬৪/৬ স্কোরে থামতে হয় ইংল্যান্ডকে। কৃতিত্বটা প্রাপ্য ভুবনেশ্বর (১/২৮), চাহাল (১/৩৪), ওয়াশিংটন (২/২৯), শার্দুলদের (২/২৯)।

ঈশান-বিরাটের হাত ধরে যে প্রচেষ্টার সফল বাস্তবায়ন।