মোতেরায় প্রত্যাঘাতের পালা বিরাটদের

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : প্রথম ম্যাচ হেরে সিরিজ জয়।

বিরাট কোহলিরা ক্রমশ যা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় হোক বা  ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোম টেস্ট সিরিজ। হারের জ্বালা জুড়িয়ে বাজিমাত করেছে টিম ইন্ডিয়া।

- Advertisement -

চলতি টি২০ সিরিজেও কি তারই পুনরাবৃত্তি ঘটবে? শুক্রবারের জঘন্য হারের মধ্যেও সেই আশার ফানুশ ভারতীয় দলকে ঘিরে। প্রত্যাঘাতের প্রত্যাশায় বুক বাঁধা।

২৪ ঘন্টার মধ্যে একঝাঁক ভুল শুধরে নিয়ে বিশ্বের এক নম্বর দলকে চ্যালেঞ্জ। অঙ্ক মেলানো সহজ নয়। শুরুর ধাক্কার পর কোহলি মানছেন, পিচের চরিত্র বুঝতে পারেননি তারা। ভারতের ভুলের যে সুযোগ পুরোদস্তুর নিয়েছেন জোফ্রা আর্চার, মার্ক উড, জেসন রয়, জস বাটলাররা।

গতি আর আগ্রাসনই ইংল্যান্ড-সাফল্যের ইউএসপি। কালও পেস-স্ট্র‌্যাটেজি থাকবে, তা পরিষ্কার। মরগ্যানের কথায়, গতিতে ভারতীয় ব্যাটিংকে চাপে ফেলার নীল নকশা ছিল তাদের। আর্চার-উডরা যার সঠিক বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে। টু-পেসড উইকেটে যে গতির সামনে ভারতীয় ব্যাটিং একেবারে বেলাইন। লড়াই বলতে শ্রেয়স আইয়ারের হাফ সেঞ্চুরি।

পাওয়ার-প্যাক ইংল্যান্ড ব্যাটিংকে ১২৪-এ আটকে রাখা বিলাসিতা মাত্র। প্রমাণ রয়-বাটলার-মালানদের দাপটে। এই ধরনের পিচে কীভাবে খেলতে হয়, বিরাটদের জন্য উত্তর হতে পারেন জেসন রয়ের ইনিংস। শটে ইমপ্রোভাইজ করেছেন, তবে বুঝেসুঝে, নিয়ন্ত্রণ রেখে। সেখানে দেড়শো কিমির উডকে আড়া চালিয়েছেন শিখর! তফাৎটা পরিষ্কার।

তিন স্পিনারের থিওরি কিংবা রোহিতকে বিশ্রাম দেওয়ার যুক্তি বোধগম্য নয়। ইংল্যান্ড শক্তিশালী। বিশ্বকাপ-মহড়া নয়, ওদের দিকেই ফোকাস- কথাগুলি রোহিত, বিরাটের মুখে শোনা গেছে। কিন্তু তারপরও শুরুর ডুয়েলেই রোহিতকে বিশ্রাম! আত্মতুষ্টি? বিরাটদের যে পদক্ষেপে রীতিমতো অবাক ও অসন্তুষ্ট বীরেন্দ্র শেহবাগও। অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় দলের ভাবনার মধ্যে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে।

প্রথম দুই ম্যাচে রোহিতকে বিশ্রামের কথা বলেছেন কোহলি। ফলে কালও সম্ভবত লোকেশ-শিখর ওপেনিং জুটি থাকছে। তবে শেষ মুহূর্তে ফের ভাবনাটা ঘুরে গেলে অবাক হওয়ার থাকবে না। কারণ প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে বিরাট বলেছিলেন রোহিত-লোকেশ খেলবে। ম্যাচের দিন সেখানে লোকেশ-শিখর। কাল হয়তো ফের বদল। বোলিংয়ে অবশ্য একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা। ভাবনায় চাহার ভ্রাতৃদ্বয় রাহুল-দীপক। তবে পেস অ্যাটাকে গতি আনতে হলে দীপকের তুলনায় কার্যকর বিকল্প হতে পারেন নভদীপ সাইনি।

বেচারা অক্ষর প্যাটেল। টেস্ট সিরিজের ইকুয়েশন বদলে দিয়েছিলেন। গতকাল ইংল্যান্ড শিবিরের সেই অক্ষর-ভীতিও উধাও জেসন-বাটলারদের ব্যাটিং বিক্রমে। বাকি সিরিজে যে মনস্তাত্বিক সুবিধা মরগ্যানদের সঙ্গে থাকবে। ইংল্যান্ডে বাড়তি প্রাপ্তি পিচ নিয়ে সাময়িক স্বস্তি। প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে টেস্টের মতো পিচের আশঙ্কা করেছিলেন মরগ্যান, যা অনেকটাও দূর।

টু-পেসড উইকেট। যেকথা বলতে শোনা গিয়েছিল শ্রেয়সকে। চরিত্র না বদলালে পেসাররা ফের বাড়তি লাভবান হবেন। ভারতের মূল চিন্তা অবশ্য ব্যাটিং। শিখরকে বুঝতে হবে সুপার ফাস্ট গতির উড-আর্চারকে আড়া চালাতে গেলে বিপদ অনেক বেশি। বিরাটের রানে ফেরাও জরুরি। ২০১৯-এর নভেম্বরের পর সেঞ্চুরি নেই। ধারাবাহিকতাতেও চিড় ধরেছে। প্রথম ম্যাচে মরগ্যানের মাস্টারস্ট্রোকের (নতুন বলে স্পিনার আদিল রশিদকে দিয়ে বল করানো) শিকার।

বিরাটকে এক্ষেত্রে মাইকেল ভনের পরামর্শ, কিছুটা স্বার্থপর হও। ক্রিজে সেট হতে গোটা দশেক বল নিজের জন্য রাখো। ৩-৪ বল ছেড়ে দিলেও, তা পুষিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বিরাট। স্টার্টিং প্রবলেম মেটাতে বিরাটের সাফল্য জরুরি। কারণ, পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ২২/৩ হয়ে গেলে (যেখানে ইংল্যান্ড তুলেছিল ৫০/০), ম্যাচে ফেরা কঠিন। বিশেষত, প্রতিপক্ষ যেখানে ইংল্যান্ডের মতো শক্তি।

১২৫-১৩০-এ হবে না। আরও বড়ো স্কোর দরকার। শর্তপূরণে এক্স ফ্যাক্টর হতে পারেন হার্দিক পান্ডিয়া, ঋষভ পন্থরা। শুক্রবারও হারা ম্যাচে আর্চারকে মারা ঋষভের রিভার্স স্কুপ, স্টোকসের বিরুদ্ধে হার্দিকের নো লুক সিক্স চর্চার কেন্দ্রে। তবে ওয়ান-শট ওয়ান্ডার নয়, দুজনের কাছেই লম্বা ইনিংসের প্রত্যাশা।

১-০ এগিয়ে অ্যাডভান্টেজ ইংল্যান্ড। তবে একটা হারেই সবকিছু শেষ নয়। আরও একবার যা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ বিরাট ব্রিগেডের সামনে।