বিশ্বকাপ মহড়া ভুলে আজ লক্ষ্য সিরিজ

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : যতটা সম্ভব শিখতে চান।

ভারতের আবহাওয়া, পিচ পরিস্থিতি, শিশির ফ্যাক্টর- দেশে ফেরার আগে অভিজ্ঞতার পুঁজি ভরে নেওয়াই লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার হারের পরও লার্নিং প্রসেসে জোর ইয়োন মরগ্যানের। বেন স্টোকস বলেও দিয়েছেন, যত চাপের ম্যাচ খেলব, বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে সুবিধা হবে। কারণটা সহজবোধ্য। অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে টি২০ বিশ্বকাপ। চলতি সিরিজ ইংল্যান্ডের কাছে যার প্রস্তুতির মঞ্চ।

- Advertisement -

বিশ্বকাপ-মহড়ায় ভারতও। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ত্র ঝালিয়ে নেওয়ার মুডে বিরাটরা। টানা ব্যর্থতার পরও তাই লোকেশ রাহুল প্রথম এগারোয় বহালতবিয়তে। আসলে বিশ্বকাপ-ভাবনায় বিরাট-রবিরা চাইছেন ম্যাচ উইনার লোকেশকে দ্রুত ছন্দে ফেরাতে। মূল দলকে ঠিক রেখে ঈশান কিষান, সূর্যকুমারদের দেখে নেওয়ার ছক।

শনিবাসরীয় মোতেরা স্টেডিয়ামে পরিবেশ অবশ্য একটু হলেও আলাদা। কাপ-মহড়া সরিয়ে ম্যাচটা জিততে মরিয়া দুই শিবিরই। প্রথম চার টক্করে স্কোরলাইন ২-২। আগামীকাল ফয়সালা ম্যাচ। ঘুরে দাঁড়ানো বিরাটরা কিংবা ভারত থেকে সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাসের পারদ বাড়িয়ে নিতে চাওয়া ইংল্যান্ড কোমর কষছে। প্রতিপক্ষকে কেউ এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। ফলে আরও এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের হাতছানি।

বৃহস্পতিবার ভারত এক ঢিলে একাধিক পাখি মেরেছে। এক, সিরিজ জয়ের লক্ষ্য বাঁচিয়ে রাখা। দুই, টস-ফ্যাক্টরকে সরিয়ে জেতা। তিন, ইংল্যান্ডের গতি-আতঙ্ক সরিয়ে ব্যাটিং-শক্তি প্রদর্শন। শনিবার যা রসদ জোগাবে। স্বস্তি দিচ্ছে ইয়ং ব্রিগেডের পারফরমেন্স। তবে টসে জিতে ফিল্ডিং- নিশ্চিতভাবে ফের জয়ের অন্যতম শর্ত। দুই অধিনায়কই চাইবেন কয়েন যুদ্ধে জিতে ফিল্ডিং নিতে।

ঈশান কিষান, সূর্যকুমার যাদবরা অভিষেকে চমকে দিয়েছেন। আইপিএলের সুফল। তোমরা আইপিএল ভেবে নিজের মতো করে খেলো। রোহিত-বিরাটদের যে টিপসে সূর্যদের বাজিমাত! আগামীকাল নির্ণায়ক ম্যাচে কী ইয়াঙ্গিস্থানের দাপট দেখা যাবে? বিরাটের গলায় আরও উন্নতির ডাক। জয়ে পরও বৃহস্পতিবার বলেন, প্রথমে ব্যাটিং করে সাম্প্রতিককালে আমাদের রেকর্ড খুব খারাপ নয়। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করতে চাই।

ঋষভ, হার্দিকের সঙ্গে ভারতীয় দলে এক্স ফ্যাক্টর ঈশান ও সূর্য। ইংল্যান্ড বোলারদের বিরুদ্ধে পালটা মারের রাস্তা দেখিয়ে জোড়া জয়ে দুই কারিগর। বিশেষত, উড-আর্চারের গতি-আতঙ্ক ঝেড়ে ফেলতে সূর্যের ইনিংসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিরাটের কথায়, প্রথম ম্যাচে তিনে ব্যাটিং সহজ নয়। আমাদের সবাইকে সূর্য অবাক করেছে। ব্যাট হাতে নিজের ক্ষমতা দেখাল। শ্রেয়স, হার্দিক, পন্থদের জন্য মঞ্চ তৈরি করল। আমি এই ইয়ং ব্রিগেডের ভক্ত।

যুযবেন্দ্র চাহালের বিকল্প রাহুল চাহারও যথাযথ। চতুর্থ ম্যাচে স্টোকস-বেয়ারস্টোদের হাতে মার খেলেও টি২০ ফর্ম্যাটে ওয়াশিংটন সুন্দরে ভরসা রাখা চলে। কামব্যাক সিরিজে ভুবনেশ্বরের বোলিং অনেক চিন্তা দূর করবে। বাড়তি প্রাপ্তি বোলার হার্দিককে ফিরে পাওয়া। কালও দলের তুরুপের তাস অলরাউন্ডার হার্দিক। অপরদিকে, চতুর্থ ম্যাচে অন্তিম ওভারে নার্ভ ধরে রাখা শার্দূলের কথাও সমান প্রাসঙ্গিক।

ইংলিশ থিংকট্যাংক চিন্তার কারণ দায়িদ মালান (৭৭ বলে সিরিজে ৮০ রান করেছেন)। স্পিনের বিরুদ্ধে দুর্বলতা বেশ প্রকট বিশ্বের এক নম্বর টি২০ ব্যাটসম্যানের। তৃতীয় ম্যাচ একার হাতে জেতালেও বাটলারের সমস্যাও সেই স্পিন। মরগ্যান-সিলভারউডরা দেখতে চাইছেন, এই সিরিজে মালান-বাটলাররা সেই দুর্বলতা কতটা কাটিয়ে ওঠে। বাটলার কিছুটা সফল হলেও, মালান এখনও ব্যর্থ।

নির্ণায়ক যুদ্ধে নির্ণায়ক হতে পারেন মার্ক উড ও জোফ্রা আর্চার। জোড়া ভারত-বধের মূল কারিগর। পাওয়ার প্লেতে ভারতকে এমনভাবে দুমড়ে দিচ্ছেন, ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হচ্ছে। চতুর্থ ম্যাচেও আর্চারদের শুরুর স্পেলে সেই আতঙ্ক ছিল। শেষপর্যন্ত পাশা উলটে যায় সূর্যের তেজে। ৩১ বলে ৫৭-র ঝলমলে ইনংসের পুরস্কারস্বরূপ ওডিআই সিরিজে ডাক পেয়েছেন ৩৬০ ডিগ্রি-র সূর্য।

ফোকাস আপাতত কালকের ম্যাচে। সিরিজের ফয়সালা ম্যাচে কোন দল, কী স্ট্র‌্যাটেজি নিয়ে নামে চোখ থাকবে।