মোতেরায় রোহিত-ঈশান শোয়ের অপেক্ষা

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : ২০০৭-এর প্রথম টি২০ বিশ্বকাপ।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভারতীয় ইয়ং ব্রিগেডের স্মরণীয় সাফল্যের সাক্ষী হয়েছিল ক্রিকেট দুনিয়া। শচীন তেন্ডুলকার, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রাহুল দ্রাবিড়দের ছাড়াই কাপ জিতেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত।

- Advertisement -

আসন্ন অক্টোবর-নভেম্বরে কি সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? ঘরের মাঠে টি২০ বিশ্বকাপে এবারও কি শোনা যাবে ইয়াঙ্গিস্তানের রণহুংকার? ঋষভ পন্থ, ওয়াশিংটন সুন্দর, শ্রেয়স আইয়ারদের পর রবিবাসরীয় মোতেরায় ঈশান কিষানের উত্থান ইয়াঙ্গিস্তানকে ঘিরে স্বপ্নটাকেই যেন উসকে দিল। তবে সোমবার রাতে বিসিসিআই জানিয়েছে, সিরিজের বাকি তিন ম্যাচে স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশ করতে পারবে না।

ভারতীয় থিংকট্যাংক অবশ্য চলতি সিরিজেই ফোকাস রাখছে। প্রথম দুই ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন ১-১। শুক্রবারের হারের জবাব রবিবার সুদে-আসলে নিয়েছে মেন ইন ব্লু। কাল তৃতীয় ম্যাচে টাই-ভাঙার পালা। মোতেরার মঙ্গলবারের যে লড়াইয়ে রোহিত-ঈশান সুপারহিট শোয়ের হাতছানি। প্রথম দুই ম্যাচে বিশ্রাম কাটিয়ে আগামীকাল ফিরছেন রোহিত। ওপেনিং-পার্টনার আইপিএল সতীর্থ ঈশান।

প্রথম ম্যাচে বিরাটদের ভরাডুবির পর কেভিন পিটারসন বলেছিলেন, এই ভারতীয় দলের চেয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স দল বেশি শক্তিশালী। বলার কথা, পরের ম্যাচে প্রথম একাদশে চারজন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তারকাকে দেখার সম্ভাবনা প্রবল। রোহিত, ঈশান, সূর্যকুমার ও হার্দিক। ঈশানের মতো রবিবারই ছিল সূর্যের অভিষেক ম্যাচ। কিন্তু ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি বিরাট-ঈশানের দাপটে। ফলে তিনি মুখিয়ে থাকবেন।

লোকেশ রাহুলের ওপর কোপ পড়তে চলেছে। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজে লম্বা সময় বায়োবাবলে কাটালেও খেলার সুযোগ পাননি। বিজয় হাজারেতে খেলার জন্য ছাড়া হয়নি। ফলে ম্যাচ প্র‌্যাকটিস না পাওয়ার প্রভাব লোকেশের ব্যাটিংয়ে। ফলস্বরূপ অটোমেটিক চয়েজ থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা। ঈশানের সাফল্যের পর টপঅর্ডারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র। দুটো ম্যাচে ব্যর্থ মানে অনিশ্চয়তার দোলাচল।

অধিনায়ক কোহলির স্বমেজাজে ফেরা দলের জন্য বিরাট স্বস্তি। ঈশান-বিস্ফোরণের পর  বিরাট-ক্লাসিক। অপরাজিত ৭৩-এ অনায়াসে ইংল্যান্ড-বধ সেরে নেন। ভালো করে বল দেখে, সেই অনুযায়ী শট খেলো- এবি ডিভিলিয়ার্সের পরামর্শের সুফল, তৃতীয় ম্যাচেও তুলতে চাইবেন বিরাট। হার্দিকের বোলিং ভারসাম্য বাড়িয়েছে। টি২০ বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করে হার্দিকও মরিয়া পুরো বোলিং ফিটনেস ফিরে পেতে। বিরাটও জানিয়েছেন, হার্দিকের বোলিংয়ের ফলে বিকল্প রাস্তা তৈরি হচ্ছে। রবিবার যেমন চার স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে খেলার সুযোগ ঘটেছে। কালও সম্ভব একই স্ট্র‌্যাটেজি।

ইংল্যান্ড মুখিয়ে জয়ের রাস্তায় ফিরতে। সেই রসদ যে মরগ্যানের হাতে রয়েছে বলাই বাহুল্য। জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, দায়িদ মালানরা একাই ম্যাচের রং বদলে দিতে সক্ষম। জোফ্রা আর্চারের একটা আগুনে স্পেল উলটে দিতে পারে অনেক সমীকরণ। প্রথম ম্যাচে আর্চার-উডের গতিতে বেলাইন হয়ে যায় ভারত। রবিবার উড (গোড়ালিতে চোট) ছিল না, যার সুবিধা পেয়েছে বিরাটরা। ফিট থাকলে উডের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। মরগ্যান গতকাল সেই সম্ভাবনার কথা বলেছেন। মইন আলিকেও সম্ভবত দেখা যাবে। বাঁহাতি ঈশান ও ঋষভকে থামাতেই মূলত মইনে-ভরসা। তাছাড়া ব্যাটিং গভীরতাও বাড়বে। সেক্ষেত্রে বাদ পড়বেন টম কুরান ও ক্রিস জর্ডন।

প্রথম দুই ম্যাচেই রান তাড়া করা দল জিতেছে। তবে শিশির-ফ্যাক্টরের উপদ্রব সেভাবে দেখা যায়নি। আগামীকালও থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অবশ্য, টি২০-তে রান তাড়া করার হিট স্ট্র‌্যাটেজির সুবিধা নিতে টস সবসময় ভাইটাল। মরগ্যান, বিরাট, দুজনেই চাইবে কয়েক-ভাগ্যের সাহায্য পেতে। পিচ কিন্তু ফ্যাক্টর হতে পারে। প্রথম দুই ম্যাচের তুলনায় বাড়তি স্পিনের পূর্বাভাস।

মরগ্যান স্বয়ং জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের ম্যাচ লাল মাটির পিচে। বল বেশি টার্ন করবে। তবে পিচ, পরিস্থিতি যেমনই থাকবে, বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে, আমাদের কাছে এই সিরিজ অভিজ্ঞতা অর্জনের, নতুন কিছু শেখার। যুযবেন্দ্র চাহাল, ওয়াশিংটন সুন্দররা কাল মরগ্যানদের নতুন কোনো পাঠ শেখাতে পারেন কি না, উত্তরটা সময়ের হাতে।