মাছ পাহারায় ব্যস্ত জেজে, চাষী অমরজিৎ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কোথাও অতন্দ্র প্রহরী, কোথাও আবার কৃষক। ভিন্ন ভূমিকায় ভারতীয় ফুটবলের দুই প্রজন্মের দুই তারকা।

প্রথমজন জেজে লালপেখলুয়া। ভারতীয় ফুটবলের আইকন। অপরজন অমরজিৎ সিং কিয়াম। ২০১৭-র অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের অধিনায়ক।

- Advertisement -

করোনার জেরে আপাতত বল মাঠে নামার উপায় নেই। তবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে নেমে পড়েছেন জেজে। মিজোরামের তাইচুং নদীতে বেআইনিভাবে অতিরিক্ত মাছ ধরার অভিযোগ কানে পৌঁছোতেই আসরে নেমেছেন এসসি ইস্টবেঙ্গলের এই তারকা স্ট্রাইকার। মডেল ভেং হেনথিয়াল গ্রামে একদল যুবকদের নিয়ে জেজে তৈরি করেছেন একটা বড়সড় গ্রুপ। যাদের কাজ দিনরাত মিলিয়ে নদীর তীরে পাহারা দেওয়া। যাতে কোনওভাবেই ওভারফিশিং না চালাতে পারেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। এই প্রসঙ্গে নদীর ইকোসিস্টেম ধরে রাখাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে জেজে বলেছেন, মৎস্যজীবীদের আনাগোনা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। অতিরিক্ত মাছ ধরার প্রভাব ইকো সিস্টেমে পড়ছে। ভবিষ্যতে এটা বড় বিপদ হয়ে দেখা দেবে। সমস্যায় পড়বে স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও। তাদের কথা ভেবেই পাহারার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত নদী যেখানে ৫০০ মিটার গভীর, সেখানে মাছেদের ডিম পাড়তে দেখা যায়। সেখানে যাতে মৎস্যজীবীদের উপদ্রব না বাড়ে, সেদিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন জেজেরা। এই ব্যাপারে মিজোরামের বনদপ্তরের সঙ্গেও কথা বলেছেন তাঁরা। ছোটো ছোটো পদক্ষেপ ধরে জয় আসবে, সেব্যাপারে নিঃসন্দেহ জেজের মতো তারকা।

জেজেকে যখন অসাধু উপায়ে মাছ ধরা আটকাতে ময়দানে নেমেছেন, তখন সবুজ মাঠে ভিন্ন ভূমিকায় তাঁর উত্তরসূরি অমরজিৎ সিং কিয়াম। অবসরে গ্রামের বাড়িতে পরিবারকে চাষাবাদে সাহায্যে ব্যস্ত অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলা এই তরুণ অ্যাটাকার। কৃষক পরিবারের সন্তান অমরজিতের কাছে চাষাবাদ নতুন কিছু নয়। তাঁর কথায়, খেলার মাঠ আর চাষের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু দুই ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা পালনে আমি স্বচ্ছন্দ বোধ করি। চাষের কাজে যখন পরিবারের বাকিদের সাহায্য করি, মনে হয় নিজের অস্তিত্বের শিকড়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছি। তবে চাষের জন্য ফুটবলকে ভুলে যাননি অমরজিৎ। সকালে অনুশীলন সেরে তারপর চাষের কাজে মনোনিবেশ। এটাই এখন রোজনামচা অমরজিতের দিনযাপনের।