চেন্নাই, ২২ নভেম্বরঃ শবরীমালা নিয়ে বিতর্কের আগুন এখনো নেভেনি। ঋতুমতী অবস্থাতেও মন্দিরে প্রবেশের অধিকার পেতে মরিয়া নারী সমজা। তার মধ্যেই ঋতু-কুসংস্কারের বলি হল এক কিশোরি। ঋতুমতী হওয়ার ‘অপরাধে’ একটি গোয়ালঘরে আলাদা থাকতে বাধ্য করা হয় ১৪ বছরের কিশোরি বিজয়লক্ষীকে। ঘূর্ণিঝড়ের রাতে ঘরে আটকা পড়া অবস্থায় চাপা পড়ে মৃত্যু হয় তার। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলার আনাইকাড্ডু গ্রামে।

জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহের গোড়ার দিকে ঋতুমতী হয় বিজয়ালক্ষ্মী। স্থানীয় সংস্কার ও রীতি অনুযায়ী, প্রথম বার ঋতুমতী হলে প্রথম কয়েক দিন ঘরে থাকতে পারবে না কোনও মেয়ে। তাই ঋতুমতী হওয়ার পর থেকে কয়েক দিন তাঁর ঠাঁই হয়েছিল বাড়ির পাশে খড়ের শস্যগোলায়। ১৫ তারিখ তামিলনাড়ু জুড়ে আছড়ে পড়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় গাজা। কিন্তু টনক নড়েনি বিজয়ালক্ষ্মীর পরিবারের। মধ্যযুগীয় কুসংস্কার ভেঙে শস্যগোলা থেকে মেয়েকে বার করেনি তার পরিবার। এই অবস্থায় শস্যগোলার উপরে ভেঙে পড়ে বিশাল এক নারকেল গাছ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর।

এই ঘটনাকে সারা দেশ জুড়ে মহিলাদের ওপর ঘটে চলা অবদমনেরই এক মর্মান্তিক উদাহরন বলে মনে করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী কাব্য মেনন। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে ওর মৃত্যু হয়নি। ওকে মেরেছে ওর সমাজ। মহিলাদের ওপর সামাজিক হিংসার একটা অন্যতম উদাহরণ এটা।’