করোনার জেরে লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হাতছাড়া ভারতের

ওয়াশিংটন: করোনা ভাইরাসজনিত কারণে আজকের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়েছে। ফলে উদ্বেগ বেড়েছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে লগ্নি তুলে নেওয়া শুরু হয়েছে বলে খবর। মার্কিন কংগ্রেসের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, উন্নয়নশীল এশীয় অর্থনীতি থেকে ইতিমধ্যে আনুমানিক ২৬০০ কোটি ডলার তুলে নিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে ভারতে বিনিয়োগ করা ১৬০০ কোটি মার্কিন ডলারও রয়েছে।

- Advertisement -

করোনার জেরে যে বিশ্ব অর্থনীতিকে অভূতপূর্ব মন্দার মুখে পড়তে হবে, তা কয়েক মাস ধরেই বলে আসছিলেন তাবড় অর্থনীতিবিদরা। দুই বিশ্বযুদ্ধ দুনিযার অর্থনীতিকে যে সংকটে ফেলেছিল, করোনা ভাইরাসের কারণে সেরকম সংকট দেখা দেবে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেন জার্মান অধ্যাপক আলব্রেশট রিচেল সহ অনেকেই।

তাঁদের পূর্বাভাস ছিল, ২০০৮ সালে যে মন্দা তৈরি হয়েছিল, তার চেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে গোটা বিশ্বকে। আমেরিকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট কংগ্রেসনাল রিসার্চ সেন্টারের (সিআরসি) সাম্প্রতিক রিপোর্টে সেই ইঙ্গিত মিলেছে।

ওই রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, মহামন্দার ঝড়ঝাপটা এড়াতে মহামারির মধ্যে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিনিয়োগ করা ২৬০০ কোটি ডলার সরিয়ে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে ভারত থেকে সরানো হয়েছে ১৬০০ কোটি ডলার, যা টাকার মূল্যে ১ লক্ষ ২১ হাজার কোটির কম নয়।

যদিও ভারত, চিন ও ইন্দোনেশিয়া মহামন্দার হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে পারে বলে রিপোর্টে পূর্বাভাস দেওযা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই তিনটি দেশে মন্দার প্রভাব বেশি না পড়লেও অর্থনৈতিক বিকাশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

কংগ্রেসের রিপোর্টে স্পষ্ট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন, স্পেন এবং ইতালিতে ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ রাষ্ট্রীয় সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন, যা অর্থনৈতিক মন্দাকে সূচিত করছে। ২০২০ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ইউরোজোন অর্থনীতির পরিমাণ ৩.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ১৯৯৫ সাল থেকে যেকোনও ত্রৈমাসিকের নিরিখে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সংকোচন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো নয়। ২০০৮-এর মহামন্দার পর এতটা কোণঠাসা হয়নি সেদেশের অর্থনীতি। মার্কিন মুলুকে ২০২০ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে মোট জাতীয় (অভ্যন্তরীণ) উত্‍পাদন (জিডিপি) ৪.৮ শতাংশ কমে গিয়েছে, যা ২০০৮ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের পর জিডিপির নিরিখে সর্বোচ্চ পতন।

সিআরসি বলেছে, মহামারির ফলে বিভিন্ন দেশের সরকারের পক্ষে আর্থিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া আগামী দিনে আরও কঠিন হয়ে উঠবে। ফলে সম্মিলিত চেষ্টা ছাড়া এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আর্থিক নীতি পরিবর্তনও করতে হবে বলে সিআরসি মন্তব্য করেছে।