ঋষভের লড়াই সত্ত্বেও ফলোঅনের ভ্রুকুটি

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : প্রতিটি সফরের পরই কিটস ব্যাগের সমস্ত ক্রিকেট সরঞ্জাম নাকি দিযে দেন ক্লাবকে। নতুন স্ট্রাগলারদের যাতে কাজে লাগে। একসময় নিজে স্ট্রাগল করেছেন। কখনও ক্লাবের তাঁবুতে কাটিয়েছেন। কখনও গুরুদোয়ারাতে। তারক স্যারের সহচর্য আর কঠিন লড়াইয়ের দিনগুলির কথা তাই ভোলেননি।

 

- Advertisement -

ঋষভ পন্থের ক্রিকেট সাফারির লড়াই অবশ্য শেষ হয়নি। মঞ্চ বদলেছে মাত্র। বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠার লড়াই। সিডনি, ব্রিসবেনের পর রবিবার চিপক। ঋষভের পরিণত ক্রিকেট, কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াকু মানসিকতার প্রতিফলন। ইংল্যান্ডের রানের এভারেস্ট, প্রশংসনীয় ফিল্ডিং, শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিংয়ে তৃতীয় দিনে হতোদ্যম ভারতীয় দলের আলো বলতে ঋষভের ঝলকটুকুই।

পরিস্থিতি যত প্রতিকূল, চোয়াল তত শক্ত। ক্রমশ যেন ট্রেডমার্ক হয়ে উঠছে দিল্লির বছর তেইশের তরুণের। আজ ক্রিজে এসেছিলেন ৭৪/৪-এ। ১২ বলের ব্যবধানে প্যাভিলিযনে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও তাঁর ডেপুটি আজিঙ্কা রাহানে। যদিও কোনওকিছুই স্পর্শ করতে পারেনি তাঁকে।

ব্রিসবেনে পালটা মারে অজিদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছিলেন। এদিন ঋষভের সৌরভে চিপক-যুদ্ধে খড়কুটোর মতো ভেসে থাকা। সিডনিতে ৯৭, ব্রিসবেনে অপরাজিত ৮৯, আজ ৮৮ বলে ৯১। ৯টি চার ও ৫টি ছক্কা। এতকিছুর পরও পূর্ণতা পেল না ঋষভের এদিনের দুর্দান্ত ইনিংস। নাইন্টিসে দাঁড়িয়ে ছক্কা হাঁকানোর সাহস দেখাতে গিয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া। ফের ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ভারতের।

কমেন্ট্রি বক্সে বসে হতাশ সুনীল গাভাসকার বলেন, ঋষভকে কেযারফ্রি ও কেয়ারলেস-এর মধ্যে সূক্ষ্ম তফাতটা বুঝতে হবে। তাহলে আরও ধারাবাহিক ও বড়ো ইনিংস দেখতে পাব ওর থেকে। আসলে ঋষভের ব্যাটিংয়ের এটাই মূল ইউএসপি। মাইকেল ভনের কথায়, শেহবাগের মতো প্রতিপক্ষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম ঋষভ। হয়তো এরজন্য কোনও ম্যাচে অল্প রানে আউট হবে, কিন্তু একইসঙ্গে ম্যাচও জেতাবে।

ঋষভের সাহস ও  চেতেশ্বর পূজারার (৭৩) ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ের পরও ইংল্যান্ডের ৫৭৮ থেকে অনেকটাই দূরে বিরাটরা (২৫৭/৬)। ফলোঅন বাঁচাতেই দরকার আরও ১২২। অন্তিম সেশনে ওয়াশিংটন সুন্দর (৩৩) ও রবিচন্দ্রন অশ্বীনদের (৮) প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার পরও দিল্লি বহুত দূর লাগছে।

৫৫৬/৮ থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের ইনিংস প্রথম ঘন্টাতে গুটিয়ে যায় ৫৭৮-এ।  বেসকে (৩৪) ফেরানোর পর অ্যান্ডারসনের উইকেট ছিটকে দেন অশ্বীন। বছর পাঁচেক আগে চেন্নাইয়ে প্রথম ইনিংসে ৪৭৭ রান করেছিল ইংল্যান্ড। জবাবে ভারতের সাতশো প্লাস। যদিও জোফ্রা আর্চারের আগুনে প্রথম স্পেলে স্বপ্নটা ভেঙে খানখান। পিচের উপরিভাগ ক্রমশ আলগা, বেশ কিছু জায়গায় ফাটল। কিন্তু মন্থর হয়ে আসা পিচেই আর্চারের গতির হুংকার। পুরস্কারস্বরূপ ঝোলায় জোড়া ওপেনার। রোহিত(৬)অবশ্য আউট হলেন অনর্থক খোঁচা মেরে। জমে যাওয়া শুভমান গিলের(২৯)শটটা হাওয়ায় চলে যায়া। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে হাফ চান্সটুকুই কাজ লাগান অ্যান্ডারসন।

বিরাটের কামব্যাক ইনিংস একেবারেই জমল না। প্রথম সন্তানের জন্ম, দীর্ঘ বিশ্রামে মানসিক ও শারীরিকভাবে তাজা হয়ে নামলেও, বেসের প্রথম শিকার হয়ে ফিরলেন। টার্ন অ্যান্ড বাউন্সটা সামলাতে না পেরে শর্ট লেগে ক্যাচ। কয়েক বলের ব্যবধানে বিরাটের(১১)ডেপুটি রাহানেও(১)প্যাভিলিয়নমুখো রুটের দর্শনীয় ক্যাচে। ফুলটস বলটা সপাটে চালালেও, ফাঁকি দিতে পারেনি ইংরেজ অধিনায়কের হাতকে। বোলিং শৃঙ্খলার সঙ্গে ক্যাচিং মুনশিয়ানা-র সুফল তৃতীয় দিনে দুহাত ভরে তুলল থ্রি লায়ন্স। প্রথম দুই উইকেট আর্চারের। বাকি চার বেসের–বিরাট, রাহানের পর পূজারা, ঋষভ।

৭৩/৪ স্কোরে জুটি বাঁধার পর পূজারা-ঋষভ খেলার গতিটা ঘুরিয়ে দিতে বেশ কিছুটা সফলও হন। ঋষভ টার্গেট করেন বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচকে। লিচের ২১টি বল খেলে ৪৮ রান করেন। প্রশংসায় গাভাসকার বলেন, জ্যাক লিচকে সেট হতে দেয়নি ঋষভ, যা প্রশংসনীয়। জুটি ভাঙে দুর্ভাগ্যজনকভাবে। পূজারার (৭৩) পুল শট শর্টলেগে দাঁড়ানো ওলি পোপের কাঁধে লেগে রোরি বার্নসের হাতে চলে যায়।

অপরদিকে, ঋষভ ছক্কা মারতে গিয়ে পুরোপুরি বলের নীচে ব্যাট না নিয়ে যেতে পারার খেসারত দেন। ডিপ কভারে লিচ কোনও ভুলচুক করেননি। সুন্দর-অশ্বীন দিনের বাকি ১৭.২ ওভার কাটিয়ে দিলেও, কাল ভাগ্যের চাকা কতটা বদলাবে, বলা কঠিন। প্রথম ইনিংসে এখনও ৩২১ রানে পিছিয়ে হাতে চার উইকেট।

সিডনি, ব্রিসবেনের মিরাকল কী ফের ঘটবে চেন্নাইয়ে। স্বপ্নটুকুই আপাতত আঁকড়ে ধরা।