অরুণাচলের কাছে চিনা রেলপথে নজর ভারতের

নয়াদিল্লি : প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত-চিন সংঘাতের আগুন এখনও নেভেনি। এর মধ্যে চিন এখন ভারতের অরুণাচল সীমান্তের কাছে ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার ফলে চিন-ভারত দু-দেশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে। চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান প্রদেশের ইয়ান এবং তিব্বতের লিনঝির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিচুয়ান-তিব্বত রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হতে চলেছে বলে সেদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। ১,০১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপ্রকল্প তৈরি করতে ৪৭০৮ কোটি ডলার খরচ হতে পারে।

অরুণাচল সীমান্তের কাছে এই নির্মাণ ভারতের পক্ষে উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। লিনঝি অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত। লিনঝিতে একটি বিমানবন্দরও রয়েছে, যা হিমালয় অঞ্চলে চিনের তৈরি পাঁচটি বিমানবন্দরের অন্যতম। অরুণাচলপ্রদেশ দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে চিন দাবি করলেও ভারত তা স্বীকার করে না। এনিয়ে পড়শি দুই দেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। শনিবার চিনা রেল দপ্তর সিচুয়ান-তিব্বত রেলপথের ইয়ান-লিনঝি বিভাগে দুটি টানেল এবং একটি সেতু নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য দরপত্রের ফলাফল ঘোষণা করার পর চিনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। তিব্বতে চিনের এটি দ্বিতীয় প্রকল্প। সিচুয়ান-তিব্বত রেল প্রকল্পের আগে কিংহাই-তিব্বত রেল প্রকল্প তৈরি হয়েছিল। এই প্রকল্প রূপায়িত হলে কিংহাই-তিব্বত মালভূমির দক্ষিণ-পূর্ব পার হয়ে যাবে, যা ভূতাত্ত্বিকভাবে বিশ্বের সর্বাধিক সক্রিয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। জিনপিং সরকারের তিব্বত-সিচুয়ান রেল প্রকল্পের ঘোষণা নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে বিষয়টি নজরে রাখছে ভারত।

- Advertisement -

লাদাখে যখন দুদেশের সেনা মুখোমুখি বসে রয়েছে তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে, তখন অন্যদিকে ভারত মহাসাগরে জলপথে চিনা নৌবাহিনীর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ভারত। ফলে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষাদ্বীপেও ভারতীয় নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে অরুণাচল ও উত্তরাখণ্ডের সীমান্তেও বিদেশি সেনার তৎপরতা নজরে এসেছে। তার মধ্যেই চিনের অরুণাচল সীমান্তের কাছে চিনের রেলপ্রকল্প ভাবিয়ে তুলেছে নয়াদিল্লিকে। এ নিয়ে আগামীদিনে নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। নয়াদিল্লির তরফে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া না জানানো হলেও সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, গোটা বিষয়ে উপর নজর রাখছে ভারত। প্রকল্পের কাজ শুরু হলে নয়াদিল্লি তা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।