বিশ্বরেকর্ড গড়ে জেতার চ্যালেঞ্জ ভারতের

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : মহান অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট।

কখন কীভাবে ম্যাচের রং বদলাবে বলা মশকিল। এই অনিশ্চয়তাই রাজার খেলায় মূল ইউএসপি। আগামীকাল এরকম কোনও মিরাকল কি ঘটতে দেখা য়াবে? চলতি চিপক টেস্টে চতুর্থ দিনের শেষে যে প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে।

- Advertisement -

 

প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের রাশ রুটদের হাতে। ছবিটা এদিনও বদলায়নি। ভারত কি পারবে স্ক্রিপ্টটাই কাল বদলে দিতে? ২০০৮-এ চেন্নাইতেই চতুর্থ ইনিংসে ৩৮৭ করে ইংল্যান্ড-বধ সেরেছিল ভারত। দেয়ালে পিঠ ঠেকে য়াওয়া পরিস্থিতিতে ম্যাচের হাল ধরে বৈতরণি পাড় করেন শচীন, শেহবাগ, যুবরাজরা।

বিরাটদের লক্ষ্যটা আরও বড় ৪২০। টেস্টে এত রান করে কোনও দল কখনও জেতেনি। ২০০৩-এ চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জিততে হলে বিরাটদের সেই বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে হবে। হার বাঁচাতে দরকার পুরো দিন ক্রিজে কাটানো। পঞ্চম দিনে চিপকের ভাঙা এবং টার্নিং পিচে দুটোই কঠিন। চারশো বিশের টার্গেটে খেলতে নেমে দিনের শেষে ৩৯/১। দরকার আরও ৩৮১।

বিরাটদের মুখে একটা শব্দ প্রায় শোনা যায় ইনটেন্ট। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এদিন সেই ইনটেন্টটাই দেখা গেল। নেতৃত্বে চেন্নাইয়ের দুই ঘরের ছেলে রবিচন্দ্রন অশ্বীন ও ওয়াশিংটন সুন্দর। সকালে সুন্দরের ব্যাটিং প্রতিরোধের পর বল হাতে অশ্বীন-দাপট। আমরাও জিততে পারি বিশ্বাসটাই ঝরে পড়ল। গেম মে বনা রহে না হ্যায়, জলদি আউট কর—স্টাম্প মাইক্রোফোনে ধরা পড়া ঋষভ, বিরাটদের কথাগুলি সেই বিশ্বাসের ফসল।

ভারতীয় দলের এই মানসিকতাকে ভয় পাচ্ছে ইংল্যান্ডও! রুটদের দ্বিতীয় ইনিংসে ডিক্লেয়ার না করার মধ্যেই যা পরিষ্কার। তৃতীয় সেশনে অনর্থক ইনিংসকে দীর্ঘ করেছে, তা দেখে বিস্মিত অনেকেই। ইংল্যান্ড ইনিংসের শেষদিকে শেন ওয়ার্নের টুইট, এখনও ইংল্যান্ড ডিক্লেয়ার করছে না কেন বুঝতে পারছি না। প্রথম ইনিংসও অয়থা লম্বা টেনেছে। এখনও তাই করছে। ওদের মধ্যে কোনও আর্জেন্সিই দেখছি না। রান না করে শুধু ওভার নষ্টের চেয়ে বল হাতে ওরা ঝাঁপালে ভালো করত।

আগে হারব না নিশ্চিত করার পর জয়ের জন্য ঝাঁপানো। রুটদের যে ভাবনার সমালোচনায় আশিস নেহেরা, ভিভিএস লক্ষ্মণ-রাও। আলোচনা, বিতর্ক, সমালোচনা সরিয়ে রাখলে, ভারতের সামনে এভারেস্ট জয়ের চ্যালেঞ্জ। দিনের শেষে অশ্বীন-ইশান্তরা ইতিবাচক মানসিকতার কথাই শোনালেন। যদিও ঝাঁপালেই শুধু হবে না, টেকনিক, টেম্পারামেন্টের সঙ্গে দরকার অঙ্ক কষা ব্যাটিং। এদিন সেখানেই যেমন ভুলচুক করে বসেন রোহিত। আর্চারের বাউন্সার স্ট্র্যাটেজির বিরুদ্ধে হাত খুললেও, আটকে গেলেন বাঁহাতি জ্যাক লিচের স্পিনে। দিনের শেষে অপরাজিত শুভমান (১৫)ও পূজারা (১২)। য়াদের ওপর দায়িত্ব থাকবে লড়াইয়ের ভিত তৈরি করা। ব্রিসবেন-জয়ে ঋষভ পন্থের জন্য মঞ্চটা সাজিয়েছিলেন শুভমান-পূজারা।

দিনের সকালটা একান্তভাবে ওয়াশিংটনের। ব্রিসবেনে অভিষেক টেস্টে সুন্দরের হাফ সেঞ্চুরি ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এদিন সিনিয়ার সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে সাত নম্বরে নেমে ৮৫। অশ্বীনের (৩১) সঙ্গে আশি রানের পার্টনারশিপ গাব্বায় শার্দূল-সুন্দরের লড়াইকে মনে করাচ্ছিল। দুর্ভাগ্য ওয়াশিংটনের, অশ্বীন ফেরার পর পার্টনারের অভাবে সেঞ্চুরি হয়নি। তবে প্রশংসা পেয়েছেন সুনীল গাভাসকারের। সানির কথায়, অসাধারণ কিছু শট খেলল ওয়াশিংটন। বিশেষত অ্যান্ডারসনকে মারা ছক্কাটা। ওর অপরাজিত ৮৫ রান কোনও সেঞ্চুরির চেয়ে কম নয়।

২৪১ রানে পিছিয়ে থেকে ৩৩৭-এ আউট ভারত। ফলোঅন থেকে তখনও ৪২ রান দূর। তবে ভারতকে ফলোঅন করানোর পথে হাঁটেনি রুটরা। সঠিক সিদ্ধান্ত। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ অবাক করার মতো। প্রথম বলেই রোরি বার্নস (০) আউট করে শতবর্ষপ্রাচীন রেকর্ড স্পর্শ করেন অশ্বীন। কোনও ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট পাওয়া তৃতীয় স্পিনার। অশ্বীনের (৬/৬৭) আরও পাঁচ শিকারের ধাক্কায় ৪১৯ রানের লিড নিয়ে ১৭৮-এ ইতি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। ইশান্তের মুকুটে তিনশো উইকেট।

কাল লড়াইটা দলগতভাবে টার্গেট পূরণের। বিশ্বরেকর্ড গড়ে জয়ের চ্যালেঞ্জ। হার বাঁচানোও যেখানে প্রাপ্তি বিরাটদের জন্য। সবশেষে ছোট্ট একটা পরিসংখ্যান- রুটের সেঞ্চুরি করা টেস্ট কখনও হারেনি ইংল্যান্ড। গত ১৯টি সেঞ্চুরি ম্যাচের ১৫টিতেই জিতেছেন রুট। ড্র বাকি চারটিতে। আগামীকাল?