ওমানকে পালটা দেওয়ার রাস্তা খুঁজছেন স্টিমাক

দুবাই : প্রথম একাদশে ঢুকতে গেলে লড়তে হবে, বার্তা ইগর স্টিমাকের।

১৫ মার্চ থেকে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য দুবাইয়ে শিবির করছে ভারতীয় দল। তার মধ্যে প্রথমটা বৃহস্পতিবার খেলতে নামছে ওমানে বিরুদ্ধে। ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় ম্যাচ শুরু। দুবাইয়ে মাকতুম বিন রাশিদ স্টেডিয়ামে খেলা। ফেডারেশনের চেষ্টায় ইউরোস্পোর্টে ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার হবে বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

তার আগে ওমানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে দলের ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে এমন বার্তা দিলেন জাতীয় দলের হেড কোচ। তিনি বলেন, আমি যখন জাতীয় দলের কোচ হই তখন এমনকি সুনীলকেও (ছেত্রী) বলি যে ওকে জায়গা ধরে রাখতে লড়াই করতে হবে। কারোর জায়গা নিশ্চিত নয়। এটা একটা নিরন্তর লড়াই। আমি অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকি না। অতীতের পারফরমেন্সের উপর ফুটবলার বাছাই করি কিন্তু তাকেও প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়।

তাঁর আপাতত লক্ষ্য, ২০২৩ সালের এএফসি এশিয়ান কাপে যোগ্যতার্জন করা। স্টিমাক বলেন, এখনও তিনটি ম্যাচ বাকি এএফসি কাপে যোগ্যতার্জন করার জন্য। এই ম্যাচগুলোতে ভালো করতে যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে ফুটবলারদের। যাতে ওরা নিজেদের পারফরমেন্স গ্রাফ উন্নত করতে পারে। তাঁর ক্রোয়েশিয়ান বন্ধু ব্র‌্যাঙ্কো ইভাঙ্কোভিচ এখন ওমান দলের দায়িত্বে। স্টিমাক বলেন, আমার বন্ধু এখন ওমানের কোচ। ও সত্যিই দারুন কোচ। বিশ্বকাপে ইরানের কোচ ছিল। প্রচুর ভালো ভালো ট্রফি জিতেছে ওর কোচিং কেরিয়ারে। আমরা একে অপরকে দারুন চিনি। গত ২০ মার্চ জর্ডনের বিরুদ্ধে ওদের খেলা দেখেছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী। শরীরি ফুটবল খেলে। তবে খুব বেশি ঝুঁকি নেয় না। ওদের খেলার ধরনের পালটা রাস্তা আমাদের খুঁজতে হবে।

তাঁর দলে এখন প্রায় ১৩ জন ফুটবলারই অনূর্ধ্ব-২৩। তুলনায় অনেকটাই সিনিয়র সন্দেশ ঝিঙ্ঘান। তিনিই এদিন আসেন সাংবাদিক সম্মেলনে। জুনিয়রদের নিয়ে তাঁর বক্তব্য, দারুন লাগছে দলে এতগুলো নতুন ফুটবলারকে দেখে। আপুইয়া (লালেংমাওইয়া রালতে), সুরেশ সিং বা সানারা (চিঙ্গলেসানা সিং) কিন্তু দেখিয়ে দিয়েছে ওরা কেন দলে। কোচও ওদের দেখে খুশি। তিনি জানান, আমি যখন জুনিয়র ছিলাম তখন সিনিয়ররা খুব সাহায্য করেছে। কিন্তু এখনকার এই ছেলেরা মানসিকভাবে অসম্ভব শক্তিশালী। ওরা খেলার সুযোগ পেলে আরও উন্নতি করবে। ওরা সত্যিই প্রতিভাবান এবং চোখে চোখ রেখে লড়তে পারে।

ওমান সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ওমান বা সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর মতো দলগুলো অসম্ভব শক্তিশালী। তবে গুয়াহাটিতে ওমানের বিরুদ্ধে ম্যাচটায় কিন্তু আমরা জিততে পারতাম। সেদিন আমরা ওদের জিততে দিই। কিন্তু একইসঙ্গে সেদিন নিজেদের শক্তিও দেখাতে পেরেছিলাম। বলতে পারেন এসব ম্যাচ থেকেই আমরা এশিয়ার কাছে সম্মান আদায় করা শুরু করেছি। যার ফলস্বরূপ এই প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রন পাওয়া বলে মনে করেন সন্দেশ।

গত এক বছর ধরে ভারত যেমন আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে দূরে থেকেছে, একই অবস্থা ওমানেরও। ২০ মার্চ তারা প্রথম ম্যাচ খেলে জর্ডনের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ গোলশূন্য শেষ করে ব্র‌্যাঙ্কো ইভাঙ্কোভিচের দল। আপাতত ওমান ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮১ নম্বরে। সেখানে ভারত ১০৪। প্রাক বিশ্বকাপ যোগ্যতার্জন পর্বের দুটো ম্যাচেই জয়ী ওমানের বিরুদ্ধে এক ঝাঁক তরুন ফুটবলারে সমৃদ্ধ ভারত এবার সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার।