অ্যাডিলেডের ৩৬ প্রভাব ফেলবে না মোতেরায় : কোহলি

আহমেদাবাদ : ব্যাট করেন গুছিয়ে, কথা বলেন জমিয়ে।

বিরাট কোহলির ভাবনা ও মন্তব্যের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে আগ্রাসন। এভাবেই কাল থেকে শুরু হতে চলা গোলাপি টেস্টের আগে ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। পিঙ্ক টেস্টের প্রথম একাদশ ঘোষণা না করলেও টিম ইন্ডিয়ার সর্বাধিনায়ক স্পষ্ট করেছেন বেশ কয়েকটি বিষয়। এক, অ্যাডিলেডে শেষ গোলাপি বলের টেস্টে ৩৬ অলআউট হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। সেই ইনিংসের কোনও প্রভাব পড়বে না মোতেরা টেস্টে। দুই, ভারতের মতো ইংল্যান্ডও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ গোলাপি টেস্টে ৫৮ রানে অলআউট হয়েছিল। ফলে পরিস্থিতি দুই দলের জন্যই সমান। তিন, মোতেরার উইকেটে বল পরের দিকে ঘুরবে ঠিকই। কিন্তু তার আগে পেসারদের জন্যও সাহায্য থাকবে। চার, জো রুটের দলের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে তিনি ভাবার কোনও কারণ দেখছেন না।

- Advertisement -

চলতি সিরিজে জোড়া অর্ধ শতরান করলেও ভারত অধিনায়কের ব্যাটে এখনও বড় রান নেই। কিন্তু তার জন্য দুর্ভাবনা নেই বিরাটের। বরং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্টেডিয়ামে কাল সতীর্থ ইশান্ত শর্মা কেরিয়ারের সেঞ্চুরি টেস্ট খেলতে নামছেন। তাঁকে নিয়ে অনেক বেশি আবেগে ভাসছেন কোহলি। ভারত অধিনায়কের কথায়, লাল বলের তুলনায় গোলাপি বলের সুইং বেশি। এই অভিজ্ঞতা ইডেনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পিঙ্ক টেস্টে আমাদের হয়েছে। অভিজ্ঞতাও বেড়েছে। আর অ্যাডিলেডের ৩৬ অলআউট নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও সমস্যা দেখছি না। সমস্যাটা দুই দলের জন্যই সমান। ইংল্যান্ডও শেষ গোলাপি টেস্টে ৫৮ রানে অলআউট হয়েছিল। অ্যাডিলেডে ৪৫ মিনিট খারাপ ক্রিকেট খেলে ম্যাচ থেকে হারিয়ে গিয়েছিলাম আমরা। এমন ঘটনা রোজ হবে না। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনিও একই কথা বলবেন, মনে করছেন বিরাট। ভারত অধিনায়কের মতে, দুই দলের কাছেই গোলাপি বলের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়। ইংল্যান্ডকে এমন প্রশ্ন করা হলে ওরাও একমত হবে।

চিপকে প্রথম টেস্টে হার। দ্বিতীয় টেস্টে ভারতের সমতা ফেরানো। তারপর থেকেই পিচ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মোতেরার বাইশ গজ কেমন হবে? প্রবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কোহলি জানাচ্ছেন, স্পিন পিঙ্ক টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা নেবেই নিশ্চিতভাবেই। তার সঙ্গে নতুন বলে পেসারদের জন্যও সাহায্য থাকবে। সেভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। গোলাপি বলে দিন-রাতের টেস্ট মানেই গোধূলিবেলায় ব্যাটিং আরও কঠিন হয়ে যাওয়া। বোলারদের দাপট দেখানো। কোহলির কথায়, অতীতে আমাদের এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা হয়েছে। গোধূলিবেলায় বলের বেশি নড়াচড়ার ব্যাপারে আমরা ওয়াকিবহাল। মাঠে সেভাবেই নিজেদের মেলে ধরতে হবে।

মোতেরার বাইশ গজে গোলাপি বলে পেসাররা সাহায্য পেলে ভারতের কাজটা কঠিন হবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। জেমস অ্যান্ডারসন ও জোফ্রা আর্চারকে সামলাতে সমস্যা হবে রোহিত-রাহানেদের। এমন জল্পনা প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ইংল্যান্ডের শক্তি দুর্বলতা নিয়ে ভাবছি না। আমরা যেমন ওদের বিরুদ্ধে দেশের মাঠে জিতেছি, তেমনই ইংল্যান্ডের মাটিতেও রুটদের বিরুদ্ধে টেস্ট জয় রয়েছে আমাদের। ফলে মোতেরার পিচে পেসারদের কারণে ইংল্যান্ড সুবিধাজনক জায়গায়, এমন যুক্তি মানছি না আমি। তবে এটা ঠিক, লাল বলের তুলনায় গোলাপি বলের চ্যালেঞ্জ অন্যরকম।