চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার শুরু ভারতের

515

ঋদ্ধিমান চৌধুরী, ঢাকা: বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করার চুক্তির প্রায় দু’বছর পর চারটি কনটেইনারে মাত্র ১০০ টন পণ্য এসে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। অবশ্য বলা হয়েছিল, চলতি বছরের শুরুতেই বন্দর ব্যবহারের কথা ছিল ভারতের। অবশেষে সেই জট খুলল।

রবিবার কলকতা ও হলদিয়া বন্দর থেকে বাংলাদেশি কনটেইনারবাহী জাহাজ এম ভি সেঁজুতি ২২১ কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। যার মধ্যে রড ও ডাল ভর্তি চারটি কনটেইনার ভারতের প্রান্তিক রাজ্য ত্রিপুরা ও আসামে যাবে সড়কপথে। এর মধ্য দিয়ে বন্দর ব্যবহারের সূচনা করল ভারত।

- Advertisement -

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানিয়েছেন, বন্দরের এনসিটি-১ জেটিতে জাহাজটি ভিড়ে এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রেইলার যোগে পণ্যভর্তি কনটেইনার সড়কপথে আখাউড়া স্থল হয়ে ত্রিপুরায় যাবে। বন্দর কর্তৃপক্ষও বিধি অনুযায়ী তাদের মাসুল আদায় করবে। কলকাতা থেকে সড়কপথে ত্রিপুরায় পণ্য আসতে প্রায় ১৫দিন সময় লেগে যায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে পণ্য আসতে সময় লাগে মাত্র সাতদিন। তাতে অর্ধেকমূল্যে পণ্যপরিবহণ এবং সময় দুটোই সাশ্রয় হবে। এমনি ভাবনা থেকেই ২০১৬ সালে প্রথম নৌ-ট্রান্সশিপমেন্ট চালু হয়। বাংলাদেশের জলপথ ও সড়কপথ ব্যবহার করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যে সাশ্রয়ীমূল্যে পণ্য পরিবহণ আশার আলো দেখিয়েছে। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাত ধরনের মাশুলের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি কনটেইনার থেকে ইলেকট্রিক সিলের মাশুল ছাড়া আয় করবে গড়ে ৪৮ থেকে ৫৫ ডলার (বাংলাদেশের মুদ্রায় চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা)। এর বাইরেও মাশুল পাবে বন্দর ও সড়ক বিভাগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘বাংলাদেশের সড়ক ও জলপথ ব্যবহার করে ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্যপরিবহণ অর্থনীতির জন্য সুখবর। মাশুল বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে বাংলাদেশের। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তি হয় বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে। এরপর তৈরি হতেই কেটে যায় প্রায় বছর দুয়েক। এর মধ্যে আসলো বন্দর ব্যবহারের প্রথম চালান। অপরদিকে, মোংলা বন্দর থেকেও সরাসরি রেললাইনে যুক্ত হবে অসমের করিমগঞ্জ। ত্রিপুরাও যুক্ত থাকবে। এরই মধ্যে খুলনা-মোংলা রেলপথের কাজ শেষে পথে। নির্মাণ হতে যাচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ। তখন মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরসরি মালবাহী ট্রেনে পণ্য পৌঁছে যাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে।