গুপ্তচরবৃত্তি? পাক হাই কমিশনের ৫০% কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

255

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: কথায় বলে, ঘরের বাইরে রয়েছে যে শত্রু, তার চেয়ে অনেক বেশি চিন্তার ঘরের ভিতরে থাকা শত্রুর সঙ্গে বোঝাপড়া। ঘরে-বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই এই মুহুর্তে যথেষ্ট চাপে কেন্দ্র সরকার। লাদাখ সীমান্তে একদিকে যখন চিনের আগ্রাসন নিয়ে উত্তাল সারাদেশ, তখনই রাজধানী দিল্লিতে পাক হাইকমিশন থেকে বারবার গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ পাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ কেন্দ্র সরকার। সে বিষয়ে মঙ্গলবার কড়া অবস্থান নিল ভারত। দিল্লির পাক হাইকমিশনের কর্মী সংখ্যার ৫০% কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। আগামী ৭ দিনের মধ্যে কর্মীদের দিল্লি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। এই বিষয়ে ইমরান খান নতুন করে কি পদক্ষেপ নেন এখন সেটাই দেখবার অপেক্ষা।

এদিন কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই নিয়ে একটি কড়া বার্তা পাঠানো হয়েছে পাকিস্তান হাই কমিশনের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সৈয়দ হায়দার শাহ’কে। এ বিষয়ে সমস্ত পরিস্থিতির কথা জানিয়ে অতিদ্রুত পাক হাইকমিশনের মোট কর্মী ও আধিকারিক সংখ্যার ৫০% কমিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত দিল্লির পাক হাইকমিশনে এই মুহুর্তে কাজ করেন হাই-কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার তথা কালচারাল এটাচে সহ ছোটবড় কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১১০ জন। এরসঙ্গে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনে কর্মরত বিদেশ মন্ত্রকের অধিকাংশ কর্মীর প্রায় ৫০% নিজেরাও ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। ইসলামাবাদের ভারতীয় মিশনে এ নিয়ে জরুরি বার্তা পাঠাতে চলেছে কেন্দ্র।

- Advertisement -

কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই সিদ্ধান্ত? মন্ত্রক সূত্রের দাবি, দিল্লির পাক হাই-কমিশন থেকে বারবার উঠে আসছে অভিযোগ। পাশাপাশি কমিশনের বহু আধিকারিক, কর্মীরা নিয়মিত নানা কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এমন তথ্য রয়েছে দিল্লির হাতে। সম্প্রতি দুই পাক হাইকমিশন কর্মীকে ভারতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নোটিশ দেওয়া হয় ও তাঁদের ভিসা খারিজ করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে পাকিস্তানে দুই ভারতীয় কর্মচারীকে অপহরণ ও শারীরিক নিগ্রহের খবরে উত্তেজনা ছড়ায় সারাদেশে। ইসলামাবাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে শুরু হয় কূটনৈতিক টানাপোড়েন। গত ২২ জুন দিল্লি এসে পৌঁছান ওই দুই অপহৃত অফিসার। এরপরেই দিল্লির পাক-হাইকমিশকে এ বিষয়ে জরুরি নির্দেশ দাখিল জমা দেয় কেন্দ্র। কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে চিনের পাশাপাশি ভারত-পাক উষ্ণ কূটনৈতিক আবহের সৃষ্টি হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দিল্লি জানিয়েছে, শুধু গুপ্তচরবৃত্তিই নয়, ভারতে একাধিকবার আভ্যন্তরীণ উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে দুষ্ট পাক হাইকমিশন। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে কমিশনের রয়েছে যোগাযোগ, উঠেছে এমন অভিযোগও। চিনের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ভারত-পাক সীমান্তে জঙ্গিহানার পিছনে কমিশনের যোগসাজোশ রয়েছে বলে ধারণা মন্ত্রকের। ভিয়েনা চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান নীতি মেনে কাজ করছেনা বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর জন্যই কড়া সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। পর্যবেক্ষক মহলের একাংশের মতে, এর ফলে ভারত-পাক সম্পর্কে আরও অবনতি আসবে।