গত এক বছরে ঘুষ দেওয়া-নেওয়ায় এশিয়ায় শীর্ষে ভারত

1205

নয়াদিল্লি : ভারতে দুর্নীতি নিয়ে কম কথা হয় না। ভোট এলে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি অনেকেই দেয়। কিন্তু দুর্নীতিমুক্ত দেশের তালিকায় ভারতের নাম কিছুতেই ওপরের দিকে ওঠে না। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, ঘুষ লেনদেনের ক্ষেত্রে এশিয়ার মধ্যে ভারতই এক নম্বরে। এখানে সরকারি পরিষেবার ৩৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হয়। ঘুষ দেওয়ার নিরিখে ভারতের পরই রয়েছে কম্বোডিয়া। সেখানে ৩৭ শতাংশ সরকারি কাজে ঘুষ দিতে হয়। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, গত ১২ মাসে সরকারি পরিষেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে। ২০১৮ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৫৬ শতাংশ।

নাগরিক সমাজের আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করা ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, ভারতে বেশিরভাগ মানুষ জনপরিষেবা পেতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহার করেন অথবা করতে বাধ্য হন। সোজা কথায়, সরকারের ওপরমহলে যোগাযোগ না থাকলে এখানে চট করে কাজ পাওয়া যায় না। ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয় জনসাধারণকে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ৪৬ শতাংশ নাগরিক ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সরকারি স্তরে কাজ আদায় করেন। ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর নিরিখে ভারতের পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও চিন। ওই দুটি দেশে সরকারি পরিষেবা পেতে যথাক্রমে ৩৬ ও ৩২ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর দরকার হয়।

- Advertisement -

সমীক্ষা থেকে আরও জানা গিয়েছে, ভারতে ৪৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, গত এক বছরে দেশে দুর্নীতি বেড়েছে। ৬৩ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, দুর্নীতি রুখতে সরকার ভালো কাজ করেছে। ওই সমীক্ষা আরও বলছে, উন্নত দেশগুলিতে সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্য ভারতের মতো ওপর মহলে যোগাযোগ থাকার দরকার পড়ে না। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেক (৫১ শতাংশ) জানিয়েছেন যে, সরকারি পরিষেবা পেতে গিয়ে তাঁদের কোনও না কোনও সময়ে ঘুষ দিতে হয়েছে বা তাঁদের কাছ থেকে ঘুষ চাওয়া হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত ১৮০টি দেশের তালিকায় ভারতের স্থান ৮০ নম্বরে। উন্নত দেশগুলিতে ঘুষ পরিস্থিতি অবশ্য অনেক ভালো। জাপানে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সরকারি পরিষেবা পেতে তাঁদের উঁচু মহলে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। সরকারি পরিষেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে জাপানের মাত্র ২ শতাংশ মানুষকে। মালদ্বীপেও দুর্নীতি জাপানের মতো কম বলে সমীক্ষায় জানা গিয়েছে।

বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০ হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। গত এক বছরে দুর্নীতির হালহকিকত জানতে গত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। সরকারি যেসব ক্ষেত্রের দুর্নীতি জানতে চাওয়া হয়, তার মধ্যে ছিল পুলিশ, আদালত, সরকারি হাসপাতাল, পরিচয়পত্র সংগ্রহ দপ্তর ও অন্যান্য সরকারি পরিষেবা। জানা গিয়েছে, নিজের পরিচয়পত্র পেতে ৪১ শতাংশ ক্ষেত্রে ঘুষ দিতে হয় মানুষকে। ঘুষ খাওয়ার ব্যাপারে সরকারি দপ্তরগুলির মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে পুলিশ। ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে তারা ঘুষ না নিয়ে কাজ করে না। এটা বিশ্বচিত্র। ভারতের পরিস্থিতি আরও খারাপ। ৪২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার ও তথ্য সংক্রান্ত কাজ করাতে গিয়ে পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়েছে।