তিন দিনেই খেল খতম ইংল্যান্ডের

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : তৃতীয় টেস্ট শেষ হয়েছিল দুদিনে।

নির্ণায়ক চতুর্থ ম্যাচের খেল খতমে লাগল একটা বেশি দিন। পরিবেশ, পিচের চরিত্রে পরিবর্তন ঘটলেও, ফলাফল সেই এক। পিঙ্ক বল টেস্টে বিরাটরা জিতেছিলেন ১০ উইকেটে। আজ ইনিংস ও ২৫ রানে ইংল্যান্ড-বধ। ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়, চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের টিকিট ও টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান–একঝাঁক লক্ষ্যপূরণ।

- Advertisement -

খুশিটাও কয়েকগুণ বেশি। সিরিজের ট্রফি হাতে ভিকট্রি ল্যাপে ঘরের ছেলে অক্ষর প্যাটেলের সঙ্গে গলা মেলাল গোটা মোতেরা। অক্ষরের এক পাশে ওয়াশিংটন সুন্দর, ঋষভ পন্থ, আরেকদিকে মহম্মদ সিরাজ। সিরিজে ইয়াঙ্গিস্থানের দাপটের প্রতীকি ছবি। অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জিতে ট্রফিটা আজিঙ্কা রাহানে তুলে দিয়েছিলেন সিরাজের হাতে। আজ সেখানে অভিষেক সিরিজে ২৭ উইকেট নেওয়া অক্ষর।

০-১ পিছিয়ে থেকে জয়ের হ্যাটট্রিক। স্মরণীয় কামব্যাকের নায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বীন। কৃতিত্বের দাবিদার অক্ষর, ঋষভরাও। বিরাট কোহলি রান পাননি। আজিঙ্কা রাহানে, চেতেশ্বর পূজারাদের হাল একইরকম। জসপ্রীত বুমরাহ, ইশান্ত শর্মাদের সেভাবে দরকারই পড়েনি। তারপরও চূড়ান্ত দাপট দেখিয়ে ইংল্যান্ড বধ! টিম গেমে বাজিমাত, রবি শাস্ত্রী সিরিজ জিতে যেকথা বললেন। প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন রিজার্ভ বেঞ্চকে।

সুন্দর, সিরাজ, অক্ষররা প্রশংসাটা আদায় করে নিলেন। গতকাল ঋষভ-সুন্দর জয়ের রাস্তা মসৃণ করে দেন। আজ প্রথম সেশনে সুন্দর-অক্ষরের শতরানের যুগলবন্দিতে ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। রুটরা যার ধারেকাছে পৌঁছোতে পারেননি। নিটফল ১৩৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে ইনিংস ও ২৫ রানে হারের লজ্জা। ইংল্যান্ডের ২০৫-এর জবাবে ভারতের ৩৬৫। ১৬০ রানের লিড। রুটদের শিকর শুদ্ধু উপড়ে ফেলতে সেই রান এবং দুটো সেশনই যথেষ্ট। অক্ষর-অশ্বীনের উইকেট-শিকারের প্রতিযোগিতার মাঝে পড়ে দেড়শো পেরোতে ব্যর্থ থ্রি লায়ন্স।

আক্ষেপ একটাই। মাত্র ৪ রানের জন্য প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ থেকে বঞ্চিত সুন্দর। চার টেস্টের কেরিয়ারে আগেও সম্ভাবনা তৈরি করেও শতরান পাননি। বাবার আক্ষেপটা এদিনও অল্পের জন্য পূরণ করতে পারেননি। ঘরের মাঠে অক্ষর ব্যাট হাতেও দাপট দেখালেন। সেঞ্চুরি জুটিতে ইংল্যান্ডকে আরও দুমড়ে-মুচড়ে দিলেন। যদিও দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে অক্ষরের ফেরেন ৪৩-এ। সুন্দর ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন সঙ্গীর অভাবে।

শেষ তিন উইকেটই পড়ে ৩৬৫ রানে, ৫ বলের মধ্যে। হতাশা আড়াল করতে পারছিলেন না সুন্দর নিজেও। ১০০ না হলেও, ১৪৬/৬ থেকে দলকে ৩৬৫-তে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম কারিগরের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত প্রাক্তনরা। ভিভিএস লক্ষ্মণ-হরভজন সিংদের মতে এই ৯৬, যেকোনো সেঞ্চুরির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্মণের কথায়, সুন্দরের জন্য খারাপ লাগছে। তবে যেভাবে ব্যাট করছে, দলের জন্য অবদান রেখেছে, তার জন্য গর্বিত হওয়া উচিত ওর। আমি নিশ্চিত আরও অনেক ১০০-র সুযোগ পাবে ও।

ভারতীয় ইনিংসে অ্যান্ডারসন-স্টোকস সাত উইকেট নেন। অর্থাৎ, স্পিনারদের পাশাপাশি পেসাররাও সফল। একইভাবে ঋষভ-সুন্দরদের ব্যাটিংয়ে প্রমাণিত এই পিচে রানও সম্ভব। যদিও স্পিন-জুজুর মানসিক-হার্ডলটা অতিক্রমে ব্যর্থ রুটরা। দুটো সেশনেই ফের অলআউটের লজ্জায় মাইকেল ভন, ডেভিড লয়েডদের মুখও বন্ধ করে দিলেন। ডারেন গফ বলেও দিলেন, ইংল্যান্ডের জন্য ভয়ঙ্কর একটা ম্যাচ। আসল কথা, দক্ষ দুই স্পিনারকে সামলানোর মতো স্কিলই আমাদের নেই। অ্যান্ড্রু স্ট্রসের কথায়, দলের এরকম পারফরমেন্স দেখাটা যন্ত্রণাদায়ক। আত্মবিশ্বাসের অভাব দৃষ্টিকটূভাবে প্রকট।

মাঝের সেশনেই হাফ ডজন উইকেট (ইংল্যান্ড, ৯১/৬)। ইনিংসের পঞ্চম ও নিজের প্রথম ওভারেই পরপর দুই বলে উইকেট অশ্বীনের। প্রথমটি জ্যাক ক্রলির (৫)। পরেরটা বেয়ারস্টো (০) গোল্ডেন ডাক। প্রথম দুই টেস্টে বেয়ারস্টোকে বিশ্রাম দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। যদিও ঘটনা হল সিরিজে চার ইনিংসের তিনটিতেই শূন্য বেয়ারস্টোর! অশ্বীনের হ্যাটট্রিক আটকান রুট। তবে দলকে বাঁচাতে পারেননি। ২১৮ রানের ম্যাজিকাল ইনিংসে সিরিজ শুরু করা রুট এদিন অশ্বীনের শিকার হয়ে তিরিশ রানে ফিরলেন।

স্টোকস (২), সিবলি (৩), পোপরাও (১৫) ব্যর্থ। একমাত্র ব্যতিক্রম ড্যান লরেন্স (৫০)। ৫টি করে উইকেট নেন অশ্বীন (৫/৪৭) ও অক্ষর (৫/৪৮)। অভিষেক সিরিজে সর্বাধিক ২৭ উইকেট নিয়ে দিলীপ দোশির রেকর্ড স্পর্শ করলেন অক্ষর। সিরিজ সেরা অশ্বীন থামলেন ৩২ উইকেটে। ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দুরন্ত কিপিং- ম্যাচের সেরা ঋষভ। একটা লড়াই শেষ। অপেক্ষা এবার টি২০, ওডিআই সিরিজের।