ডুরান্ড প্রমাণের মঞ্চ আজহার-ফৈয়াজের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সেও এক দিন ছিল।

ঠিক বছর দুয়েক আগের ঘটনা। এশিয়ার প্রাচীনতম ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্ট সেবার প্রথমবার আয়োজিত হতে চলেছে কলকাতায়। ফুটবলের মক্কায় মুখোমুখি মোহনবাগান-মহমেডান। ময়দানের মিনি ডার্বির আগে প্রস্তুতি ডুবে দুই প্রধান। রেড রোডের ধারে সাদা-কালো তাঁবু তখন বেশ গমগমে। ইতিউতি ভিড়। কর্তাদের ঘিরে সমর্থকদের টিকিটের জন্য আকুতি। তার মাঝেই অনুশীলন সেরে ফিরছে ফুটবলারদের ক্লান্ত শরীর। পিঠ চাপড়ে উৎসাহ দিচ্ছেন সমর্থকরা।

- Advertisement -

করোনার সেই রক্তচক্ষু পেরিয়ে ফের একবার দুয়ারে ডুরান্ড কাপ। আয়োজন সেই আবার কলকাতায়। উদ্বোধনী ম্যাচে যুবভারতীতে হাজির থাকবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমদিনই মাঠে নামছে মহমেডান স্পোর্টিং। প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স। কিন্তু শনিবারের বারবেলায় দুবছর আগের সেই ময়দানি উৎসাহ-উদ্দীপনা খুঁজতে যাওয়া নেহাতই বাতুলতা। ভরদুপুরে শুনশান নিস্তরঙ্গ সাদা-কালো তাঁবুর ছবি কড়া বাস্তবটাকে তুলে ধরতে যথেষ্ট।

কলকাতায় আয়োজিত হচ্ছে ১৩০ বছরের ঐতিহ্যশালী ডুরান্ড কাপ অথচ সেই টুর্নামেন্টেই নেই এটিকে মোহনবাগান, এসসি ইস্টবেঙ্গলের মতো ময়দানের দুই প্রধান। টুর্নামেন্টের জৌলুস বাড়াতে রয়েছে বেঙ্গালুরু এফসি, কেরালা ব্লাস্টার্স, জামশেদপুর কিংবা এফসি গোয়ার মতো আইএসএলের দল। সঙ্গে আই লিগের বেশ কয়েকটি ক্লাবও। সেখানে ডুরান্ডে বাংলা ফুটবলের প্রতিনিধি বলতে শুধুই মহমেডান।

অতীতে লিগ, ডুরান্ড বলতেই যে বিষয় চোখে পড়ত সেই বাঙালি ফুটবলারদের দাপটও এখন প্রায় অস্তমিত। বদলে আই লিগ কিংবা আইএসএলে ভিড় ভিনরাজ্যের ফুটবলারদের। সেখানে কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম এবারের সাদা-কালো ব্রিগেড। রাশিয়ান কোচ আন্দ্রে চেরনিশভের ছত্রচ্ছায়ায় কলকাতা লিগে শুরুটাও দারুণ করেছে মহমেডানের বাঙালি ব্রিগেড।

লিগে জোড়া ম্যাচ জয়ে নজর কেড়েছেন শেখ ফৈয়াজ, আজহারউদ্দিন মল্লিকের মতো চেনা মুখ। ডুরান্ডের মতো বহুদলীয় টুর্নামেন্টেও সেই বাঙালি মুখেই আস্থা রাখছেন চেরনিশভ। বিদেশির সঙ্গে স্বদেশিদের বোঝাপড়ার অস্ত্রেই শান দিচ্ছেন তিনি। কোচের এই ভরসার হাত ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচে নামার আগে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে আজহারউদ্দিনদের।

আই লিগকে পাখির চোখ করা দলের অভিজ্ঞ মুখ ফৈয়াজ আবার কলকাতা লিগ, ডুরান্ডকে দেখছেন প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে। মোহনবাগানের হয়ে অতীতে সিএফএল ও আই লিগ জেতা হাওড়ার মাকঁড়দহের বঙ্গসন্তানের কথায়, গত দুবছর ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারিনি। ফিটনেস নিয়ে সমস্যা ছিল। তাই পিছিয়ে পড়েছিলাম। এবার অফসিজনে ফিটনেসে বাড়তি নজর দিয়েছি।

কোচের ভূমিকাও ছন্দ খুঁজে পাওয়ার পিছনে বড় কারণ বলে জানান ফৈয়াজ। বলেন, কোচ শুরুরদিন থেকে আমাদের চাপমুক্তভাবে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন। দলের মধ্যে বোঝাপড়ায় নজর দিয়েছেন। তার প্রতিফলন পারফরমেন্সে দেখা যাচ্ছে। মাঝমাঠে বিদেশি নিকোলা আর ফৈয়াজের সঙ্গে তালমিল উপভোগ করছেন সেটা একবাক্যে মানছেন ডার্বি বয় আজহারউদ্দিনও। মহমেডানের হয়ে ট্রফি জয়ের অঙ্গীকারের পাশাপাশি চেনা ফর্ম ডুরান্ডেও তুলে ধরতে মরিয়া সাদা-কালোর এই বাঙালি তারকা।