এলএসি-তে নয়া উত্তেজনা, সাহায্যের জন্য জরুরি প্রস্তুতি সরকারের

714

নয়াদিল্লি: মাঝে মধ্যে ভারত-চিন টানাপোড়েনে সীমান্তবর্তী এলাকায় বারবার অশান্তির বাতাবরণের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অর্থাৎ এলএসি-তে সেনা মোতায়েন করার ইঙ্গিতে তা স্পষ্ট। সুদূর অতীতেও হাতে গোনা লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে এই এলাকা। কিন্তু বর্তমান সেখানে উত্তেজনার পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীকে তাৎক্ষণিক ভিত্তিতে সীমিত সংখ্যক নিকটতম যুদ্ধের রাইফেল অর্থাৎ ক্লোজ-কোয়াটার ব্যাটল রাইফেলের প্রয়োজন।

জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার সঙ্গে মিলে ভারতের একে-২০৩ কার্বাইন বন্দুক তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। তখনও করোনার প্রভাব আবিশ্বে মহামারির আকার ধারণ করেনি। ভাইরাসের প্রভাব তখনও জাকিয়ে বসেনি দেশে। আত্মনির্ভর ভারতের রূপরেখার অন্তর্গত বন্দুকগুলি তৈরি হওয়ার কথা ছিল। আর সবটাই ছিল কাশ্মীরের কথা মাথায় রেখে। তবে গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি বদলেছে। কাশ্মীরের থেকে এখন লাদাখে বেশি প্রয়োজন এই সমরাস্ত্রের।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, ৩৫,০০০ এরও বেশি ঘনিষ্ঠ কোয়ার্টারের যুদ্ধ কার্বাইনগুলির জন্য ভারতীয় শিল্পের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে ২০১৮ সাল থেকে প্রক্রিয়াধীন ৯৩,৮৯৫ কার্বাইনগুলির তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে একটি যুদ্ধাত্মক প্রান্তের জন্য অত্যাবশ্যক। অন্যদিকে, কাশ্মীরের জওয়ানদের জন্যে আসার কথা ছিল কার্বাইনের এপ্রিলে ঘোষণা হয়েছিল যে জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি নিধনে একে-২০৩-এর আধুনিকতম সংস্করণ কার্বাইন রোল আনতে চলছে ভারতীয় সেনা। উপত্যকায় যেসব জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়, তাঁদের জন্যই অ্যাসল্ট রাইফেলের এই আধুনিকতম সংস্করণ। আমেথির করওয়ার অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে এই রাইফেলের আধুনিক সংস্করণ তৈরি হবে। তবে এখন সেনার দাবি লাদাখে কার্বাইনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে, এই প্রক্রিয়াটি কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় নিতে পারে স্থানীয় শিল্পের পক্ষে অস্ত্র উৎপাদন করার পর্যাপ্ত ক্ষমতা সহ কার্যকর বিকল্পগুলি সরবরাহ করার আগে।

পাশাপাশি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তারা বলেন, ‘বর্তমান ও তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনীয়তার সাথে আপোষ করা যাবে না। অস্ত্রগুলি একটি নিখুঁত তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ দ্রুত ট্র্যাক ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।‘

উল্লেখ্য, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতে তৈরি হবে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কার্বাইন বন্দুক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনার এখনই এই বন্দুক চাই। সূত্রের খবর, সেনার এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে প্রচুর কার্বাইন চাই। এই চাহিদার সিংহভাগই লাদাখের জন্য। তবে ২০১৮ সাল থেকে এই বন্ধুক পাওয়ার প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে আটকে থাকা চুক্তি অবশেষে চূড়ান্ত এদিকে ২০১৮ সাল থেকে আটকে থাকা কার্বাইন কেনার চুক্তি অবশেষে চূড়ান্ত হয়।

অন্যদিকে, আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে আমিরশাহীর সংস্থা কারাকাল ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, দেশের মাটিতেই কার্বাইন কার-৮১৬ তৈরি করবে তারা। মোট ৯৩ হাজার ৮৯৫টি কার্বাই তৈরি হবে দেশে। তবে সেটাতেও প্রায় দুই থেকে তিন বছর লাগবে। লাদাখে এই বিশেষ বন্দুকের অভাব সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সংস্থার কাছ থেকে কার্বাইন কেনার কথা হয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই চুক্তি আটকে ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে যে ভারতের উপর যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে এসেছে তার জন্যে পর্যাপ্ত সমর সরঞ্জাম তৈরি থাকলেও, বিশেষ এই বন্দুকের অভাব যে পুনরায় ভাবাতে বাধ্য করছে ভারতকে তা এখন স্পষ্ট।