ধনকুবেরদের সম্পদ বৃদ্ধি ৩৫ শতাংশ, ৮৪ শতাংশ আরও গরিব

219

নয়াদিল্লি : লকডাউনে ধনকুবেরদের পৌষ মাস, গরিবের সর্বনাশ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে গত বছর মার্চে আচমকা সারা দেশে লকডাউন শুরু হয়। আচমকা বন্ধ করে দেওয়া হয় স্কুল-কলেজ, অফিস-কাছারি, কলকারখানা। থমকে যায় উন্নয়নমূলক কাজকর্ম সহ যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। জীবনজীবিকা, রুজিরুটি বন্ধ হয়ে যায় বহু লক্ষ মানুষের। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও নিজেদের সম্পদ বাড়িয়ে নিতে পেরেছেন ভারতীয় ধনকুবেররা। চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ধনী ও গরিবের আয়ের তীব্র বৈষম্য ধরা পড়েছে আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা অক্সফ্যামের সাম্প্রতিক রিপোর্টে। সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে এবারের বার্ষিক সম্মেলনে অক্সফ্যামের রিপোর্টটি পেশ করা হবে।
অসাম্যের ভাইরাস শীর্ষক ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে লকডাউনের সময়ে দেশের বিলিওনেয়ার বা ধনকুবেরদের সম্পত্তি মোটের ওপর ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। উলটোদিকে, দেশের ৮৪ শতাংশ পরিবারের আয় কমবেশি অনেকটাই কমেছে। গত বছর শুধু এপ্রিল মাসেই প্রতি ঘণ্টায় চাকরি হারিয়েছেন কমপক্ষে ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর মার্চে লকডাউন শুরু হওয়ার পর ভারতের প্রথম ১০০ জন ধনী ব্যক্তির আয় বাড়তে থাকে। ওই সময় তাদের সম্পত্তি এতটাই বাড়ে যে, ইচ্ছা করলে তা থেকে দেশের দরিদ্রতম ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ জনের প্রত্যেকের হাতে ৯৪,০৪৫ টাকার চেক তুলে দেওয়া যেত। বৈষম্যের চেহারা বর্ণনা করতে গিয়ে অক্সফ্যামের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের গতি ভয়াবহ। মহামারির সময় রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মুকেশ আম্বানি প্রতি ঘণ্টায় যা কামিয়েছেন, তা আয় করতে ভারতীয় শ্রমিক শ্রেণির অন্তত ১০ হাজার বছর লেগে যাবে।
এই সময় ভারতের কয়েক কোটি পরিযায়ী শ্রমিককে জীবনজীবিকা আক্ষরিক অর্থেই পথে বসতে হয়। বৌ-বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ঢল নামে পরিযায়ী শ্রমিকদের। মৃত্যুও হয় বহুজনের। এনিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে। পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্পর্কে সরকারের কাছে যে বিশেষ কোনও তথ্য নেই, তাও সংসদীয় বিতর্কে ফাঁস হয়ে যায়। এরপর লকডাউনে বসে যাওয়া অর্থনীতির চাকা সচল করে আত্মনির্ভর ভারত গড়তে কেন্দ্র ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেও কাজের কাজ কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, অক্সফ্যামের রিপোর্ট সামনে আসার পর।