অসম লড়াইয়ে জেদ দেখিয়েও হার সতীশের

টোকিও : স্কোরবোর্ডকে গাধা বলেছিলেন কিংবদন্তি ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ নেভিল কার্ডস। ক্রিকেট ছাড়িয়ে বক্সিংয়ের ক্ষেত্রেও যে একই কথা বলা যায়, তা রবিবার বুঝিয়ে দিলেন ভারতের সতীশকুমার যাদব।

এদিন +৯১ কেজি বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে সতীশের প্রতিপক্ষ ছিলেন উজবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বাখোদির জালোলভ। টানা তিনবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে সতীশ লড়লেন চোখের ওপর ও চোয়ালে ১৩টি সেলাই নিয়ে। ভারতীয় সেনায় সুবেদার মেজর সতীশ এদিন রিংয়ে নেমেছিলেন নিজের জেদের ভরসায়। ম্যাচের শেষে ০-৫ সেটে হারলেন তিনি। তবে পাঁচ বিচারকই প্রতি রাউন্ডে তাঁকে ৯ এবং জালোলভকে ১০ পয়েন্ট করে দিয়েছেন। ফলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের থেকে খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না, বলাই যায়। এদিন সতীশের হারের সঙ্গে সঙ্গে অলিম্পিক বক্সিংয়ের পুরুষ বিভাগে ভারতের চ্যালেঞ্জ শেষ হয়ে গেল।

- Advertisement -

এদিন তৃতীয় রাউন্ডের মাঝে প্রতিপক্ষের আঘাতে কপালে গভীর ক্ষত তৈরি হলেও ম্যাচে শেষ পর্যন্ত লড়ে গিয়েছেন সতীশ। তাঁর এই জেদে মুগ্ধ ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতি অজয় সিং। তাঁর কথায়, আগের ম্যাচের পর ওর চোখের পাশে আর চোয়ালে মোট ১৩টা সেলাই পড়েছে। তা নিয়ে বিশ্বের ১ নম্বর বক্সারের বিরুদ্ধে লড়তে যাওয়ার জন্য সাহস আর দেশপ্রেম প্রয়োজন হয়। সতীশ আজ দেশের জন্য যা করেছে, তা করার ক্ষমতা খুমব বেশি মানুষের নেই। ওর জন্য আমরা গর্বিত।

সতীশকে এদিন কুর্নিশ জানিয়েছেন জালোলভও। ম্যাচ শেষের পর তাঁকে সতীশের সামনে মাথা নোয়াতে দেখা গিয়েছে। এমনকি তিনি ম্যাচ হারলেও তাতে আমল দিচ্ছেন না ভারতীয় বক্সিংয়ের হাইপারফরমেন্স ডিরেক্টর সান্তিয়াগো নিয়েভা। তাঁর কথায়, সতীশ এখন একটু মুষড়ে আছে। তবে এই হারের রেশ কাটলে ও বুঝতে পারবে, এমন অবস্থায় রিংয়ে নামাটা কত বড় পদক্ষেপ। ফল যাই হোক, এই ম্যাচে সতীশের লড়াই প্রশংসাযোগ্য। প্রতিপক্ষের প্রতিটি ঘুষি ওর যন্ত্রণা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু ও হার মানেনি।

সতীশের বাকি সতীর্থরাও যদি এমন হার না মানা মনোভাব দেখাতে পারতেন, আক্ষেপ ভারতের।