হতশ্রী ফুটবলে লজ্জার হার ভারতের

দুবাই : ওমানের বিরুদ্ধে একটা ড্র-ই যে যথেষ্ট নয়, চারদিনের মধ্যে বুঝিয়ে দিয়ে গেল সংযুক্ত আরব আমীরশাহী। ভারতীয় ফুটবল ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে তার প্রমান সোমবারের টেনিসের (৬-০) স্কোরলাইনের মতো হারে।

সবাইকে দেখে নিতে চেয়েছিলেন ভারতের হেড কোচ ইগর স্টিমাক। দেখে তিনি নিলেন ঠিকই। কিন্তু তাতে তৃপ্তি বিশেষ আছে বলে মনে হল না। সামান্যতম প্রতিরোধ দূরের কথা, নিজেরা টানা তিন-চারটে পাস খেলতেও ব্যর্থ নীল জার্সিধারীরা। সবথেকে বড়ো কথা, গুরপ্রীত সিং সান্ধু, আদিল খান, প্রীতম কোটালদের মতো সিনিয়রদের খেলিয়ে বাড়তি কি পাওয়া যাচ্ছে, সেই প্রশ্নও থাকছে।

- Advertisement -

এই মরশুমে ২২ ম্যাচে ২৩ গোল করে ফেলা আলি মাকবুতকে আটকে রাখা যেত কি না তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে। তবে গুরপ্রীত সিং সান্ধু কেন ওভাবে এগিয়ে এসে তাঁকে ১২ মিনিটের মধ্যে গোল করার সুযোগ করে দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। মাঝমাঠ থেকে একটা আলগা বল তোলা হয়েছিল কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। গোটা ডিফেন্স যখন এগিয়ে তখন তো ঘাঁটি আগলে থাকার কথা গোলরক্ষকের। আগুয়ান গুরপ্রীতকে দেখে নিয়ে আলি মাকবুত আর দেরি করেননি। তাঁর মাথার উপর দিয়ে চিপ করে বল গোলে পাঠালেন কৃতজ্ঞচিত্তে।

বিশ্বকাপে নিয়মিত খেলা একটা দলের বিরুদ্ধে যতটা প্রতিরোধ তৈরি করা সম্ভব ছিল, সেটুকুও বোধহয় ওই গোলেই শেষ হয়ে গেল। এবং ৩০ মিনিটের মধ্যে দলের ব্রাজিলীয়-আমীরশাহী স্ট্রাইকার ফ্যাবিও লিমার নেওয়া শট আদিলের হাতে লেগে আমীরশাহীর পেনাল্টি প্রাপ্তি। এরপর আর ফিরে আসা অসম্ভব ছিল। আলি মাকবুত পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি। এই দুই স্ট্রাইকারই এরপর নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করে গেলেন গুরপ্রীত ও ভারতের ডিফেন্সকে।

এমনিতেই এদিন ইগর স্টিমাক দলে একসঙ্গে আটটা পরিবর্তন করেন। আকাশ, সুরেশ ও মানবীর ছাড়া আগেরদিন সুযোগ না পাওয়া ও পরে নামাদের প্রথম একাদশে রাখেন। এদিন একমাত্র অভিষেক লিস্টন কোলাসোর। তবে এরকম একটা শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে সন্দেশ ঝিঙ্ঘানকে বাইরে রাখাটা মানা যায় না। কারণ প্রীতি ম্যাচ হলেও এক রাশ গোল খাওয়ার মধ্যে কোনও কৃতিত্ব নেই। এতে ওমান ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসটা নষ্ট হতে সময় লাগবে না দলে সুযোগ পাওয়া তরুন প্রজন্মের। মাত্র আধ ঘন্টার মধ্যে দুটো গোল খেয়ে যাওয়ায় মানবীর, লিস্টন বা সুরেশদের এদিন খুঁজেই পাওয়া গেল না।

বিরতির পরে হোলিচরনকে নামিয়ে বিশেষ সুবিধা হয়নি। আসলে প্রতিপক্ষ ধারে ও ভারে এতটাই এগিয়ে ছিল যে এর থেকে বেশি কিছু আশা করাও বোধহয় ঠিক নয়। ৬০ মিনিটে আমীরশাহী ও আলি মাকবুতের তিন নম্বর গোল। তাঁর হ্যাটট্রিকের গোলটা এল বানদার আল আহবাবির ক্রশ থেকে। যা আদিল খান আগাম অনুমান করতে ব্যর্থ হওয়ায় একেবারে গোললাইনের সামনে দাঁড়ানো মাকবুতের পক্ষে কাজটা সহজ হয়ে যায়। চার মিনিটের মধ্যে চতুর্থ গোল খালিল আল হামাদির। এবার বলটা দেন মাকবুত। এক্ষেত্রে আদিল নন, দোষী মাসুর শারিফ। ৭১ মিনিটে অবশেষে গোটা ম্যাচ জুড়ে করা পরিশ্রমের ফল পান ফ্যাবিও লিমা। শেষ গোল সেবাস্টিয়ান টাগলিয়াবুর।

টানা প্রায় এক বছরের উপর আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ভারতসহ বাকি অনেক দলই। কিন্তু এতে যতটা পিছিয়েছে স্টিমাকের দল, ততটা কিন্তু বড়ো দলগুলি নয়। তাই জুনে প্রাক বিশ্বকাপে বাকি ম্যাচগুলোর জন্য অনেকবেশি বাড়তি খাটনি খাটতে হবে এখন তাঁর দলকে।