মোটা মাইনের হাতছানিতে দেশ ছাড়ছে ভারতীয় নার্সরা

2344

মুম্বই: বহুকাল ধরেই দেশে ডাক্তার ও নার্সের অভাব রয়েছে। আগামীদিনে তা আরও শোচনীয় হতে চলেছে। মোটা মাইনের হাতছানিতে দেশের চাকরি ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নার্সরা। এর জেরে বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের আকাল শুরু হয়েছে। জোর ধাক্কা লেগেছে চিকিৎসা পরিষেবায়। গত কয়েক মাসে ভারতীয় নার্সদের আরব ও ইউরোপে যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে তাঁদের কাছে ডাক আসছে। ডাক আসছে আরব বিশ্ব থেকেও।

করোনা মহামারির সময় ডাক্তার ও নার্সের চাহিদা সব দেশেই বেড়েছে। ইউরোপ ও উপসাগরীয় দেশগুলি বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় সেখানে যাওয়ার ঝোঁক বেড়ে গিয়েছে ভারতের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। ইউনাইটেড নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহারাষ্ট্র শাখার প্রধান জিবিন টিসি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে অন্তত ৫০০ জন নার্স ব্রিটেনে পাড়ি দিয়েছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। আসল সংখ্যাটা এর অনেক বেশি বলে তাঁদের মনে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ভারতীয় নার্সদের দিকে হাত বাড়িয়েছে। ওই দুটি দেশেও কয়েক হাজার নার্স ইতিমধ্যে চলে গিয়েছেন বলে খবর।

- Advertisement -

দেশে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা অনেক কম। সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই দেশে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রতি একজন চিকিৎসক রয়েছেন। দেশে সবমিলিয়ে চিকিৎসকের সংখ্যা ১১ লক্ষ ৫৯ হাজার। ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নথিভুক্ত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের সংখ্যা ১,১৫৪,৬৮৬। সরকারি হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা ৭,৩৯,০২৪টি। হিসেব অনুযায়ী, ভারতে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৬ লক্ষ চিকিৎসক কম আছে। ২০ লক্ষ নার্স কম। স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছেন, ভারতে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ৩০ হাজার নার্স দরকার হবে। আগামী ৪ বছরে আরও ২০ লক্ষ নার্স দরকার হবে। এত নার্স পাওয়া নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দুএকটি বাদ দিলে ভারতের বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতালে নার্সদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকারি হাসপাতালের ধারেকাছে নেই। বেতন কমিশনের কোনও সুপারিশই মানা হয় না বেসরকারি সংস্থায়। উলটোদিকে ইউরোপ ও আরব দেশগুলি ভারতীয় নার্সদের শুধু আকর্ষণীয় বেতনই দিচ্ছে না, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগ সংক্রান্ত শর্ত শিথিল করে চার্টার্ড ফ্লাইটে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ারও ব্যবস্থা করছে। এই কারণেই দেশ ছেড়ে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে নার্সদের।