ভারতীয়দের সহ্য ক্ষমতা বেশি, বলছেন মহারাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ভারতীয়দেল সহ্য ক্ষমতা অনেক বেশি। বিদেশিরা শুধু মানসিক অবসাদের কথা তুলে ধরে অজুহাতের রাস্তায় হাঁটে।

স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। চালিয়ে যেতে হবে লড়াই। করোনা মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক হয়ে সেই লড়াইয়ে সামিল হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ডাক দিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতি আজ দুপুরে প্রচারমূলক এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন। সেখানেই মহারাজ ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে বাকি দুনিয়ার তুলনা টেনেছেন। প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের কথায়, দীর্ঘ ক্রিকেট জীবনে অনেক বিদেশি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে খেলেছি। ওরা সবসময়ই মানসিক অবসাদে থাকার অজুহাত দেয়। সেই তুলনায় ভারতীয়দের সহ্য ক্ষমতা অনেক বেশি।

- Advertisement -

কেন এমন কথা বলেছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সৌরভ। গত সেপ্টেম্বর থেকে দুবাইয়ে আইপিএল, সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে স্টিভ স্মিথদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সিরিজ, দেশে ফিরেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই- প্রায় সাত মাস বিরাট কোহলিদের কাটাতে হয়েছে জৈব সুরক্ষা বলয়ের কঠোর বিধি নিষেধের মধ্যে। মাঠ থেকে হোটেল, আবার কখনও উলটোটা। এর বাইরে ক্রিকেটারদের জীবনে সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু হতে চলা আইপিএলেও ফের সেই একই জীবনযাত্রায় ভারতীয় ক্রিকেটাররা। অথচ ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সহ নানা দেশের অনেক ক্রিকেটারই বায়ো বাবলে বিরক্ত হয়ে প্রায়ই বিশ্রামে চলে যাচ্ছেন। তাই সৌরভের মনে হয়েছে, গত ছয়-সাত মাসে ক্রিকেটারদের জীবন অত্যন্ত কঠিন হয়ে গিয়েছে। বায়ো বাবলের কারণে মাঠ ও টিম হোটেলের বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। বলয়ে মধ্যে থেকেই সবাইকে সেরাটা দিতে হচ্ছে। অবশ্যই চাপের ব্যাপার। খেলোয়াড়দের জীবন বদলে গিয়েছে করোনার কারণে। কিন্তু বাস্তবকে মানতেই হবে। এছাড়া আর কোনও উপায়ও নেই।

ভারতীয় ক্রিকেটাররা পেশাদারিত্ব দেখিয়ে বাস্তবকে মেনে নিতে পারলেও বাকি ক্রিকেট দুনিয়ার ছবিটা আলাদা। সৌরভের কথায়, ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার কথা ছিল। সেই সিরিজ ওরা বাতিল করে দেয়। কোভিড আতঙ্ক সর্বত্র রয়েছে। কিন্তু খেলা ও জীবন তার মধ্যেই চালিয়ে যেতে হবে। তার জন্য মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতে হবে। পেশাদার জীবনে চাপ সবসময় থাকে। নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে সেকথাও জানিয়েছেন সৌরভ। বোর্ড সভাপতির মতে, টেস্ট অভিষেকের চাপ একরকম ছিল। দলে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চাপ আবার ভিন্ন। যখন অধিনায়ক হয়েছিলাম, তখনকার চাপ ছিল আলাদা। আবার বাদ যাওয়ার পর প্রত্যাবর্তনের লড়াই ছিল আরও কঠিন। টিকে থাকতে হলে এই চাপ নিতেই হবে।