তিরন্দাজ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর আদিবাসী যুবকরা

149

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : কারও বয়স কুড়ি। তো কারও আবার পঁচিশ। তাঁরা তিরন্দাজ দীপিকা কুমারী, অতনু দাস কিংবা প্রবীণ যাদবদের নাম কোনওদিন শোনেনি। তবে ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে তিরধনুক দেখেছে। ইন্টারনেটের দৌলতে দেখেছে তিরধনুক নিয়ে আন্তর্জাতিকস্তরে প্রতিযোগীদের সাফল্য পেতে। তাই নামী তিরন্দাজ হওয়ার লক্ষ্যে গ্রামের খোলা ময়দানে অনুশীলন করছেন আদিবাসী যুবক কার্তিক, চিরঞ্জিতরা।

বিকেলের পড়ন্ত সূর্যের আলোয় কাঁধে ধনুক নিয়ে মাঠে হাজির হচ্ছেন ওরা। তাঁদের কাছে আধুনিক কোনও উপকরণ নেই। নেই কোনও প্রশিক্ষকও। ভরসা বলতে শুধু সোশ্যাল মাধ্যম। আর বয়স্কদের উপদেশ। এই দুটোকে সঙ্গী করে তিরন্দাজিতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছেন হরতাল, কার্তিক, চিরঞ্জিতের মত কিছু আদিবাসী যুবক।

- Advertisement -

হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা গড়গড়ি, বাইশা গ্রাম। এই গ্রামেরই বাসিন্দা কার্তিক, চিরঞ্জিতরা। সারাবছর তাঁরা বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কেউ দিনমজুর, কেউ মাঠে কাজ করে, কেউ আবার কারখানায়। কাজের বাইরে অবসর মিলতেই টিভি এবং ইন্টারনেটের তিরন্দাজি প্রতিযোগিতা দেখেন। হরতাল ওরাওঁ বলেন, তিরধনুককে সামনে রেখে বিশ্বজয় পর্যন্ত করা যায়, তা আগে জানতাম না। মোবাইলে তিরন্দাজির প্রতিযোগিতার কথা জেনে আমরাও এখন ধনুক বানিয়ে পার্শ্ববর্তী গড়গড়ি মাঠে অনুশীলন করছি।

তাঁদের অধিকাংশের নুন আনতে পান্তা ফুরায় দশা। কিন্তু স্বপ্ন বড় হয়ে তিরন্দাজ হওয়ার। কিন্তু কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ালে সুবিধা হত। এলাকার আরেক যুবক কার্তিক ওরাওঁ -এর বক্তব্য, জানি না এভাবে কত দূর এগোতে পারব। যদি উন্নতমানের প্রশিক্ষণ ও পরিকাঠামো পাই, তাহলে অবশ্যই এই খেলায় কিছু করে দেখাতে পারব।  প্রশিক্ষক না মিললেও প্রবীণ গ্রামবাসীরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এলাকার বাইজু ওরাওঁ, সোনেলাল ওরাওঁরা দীর্ঘদিন তিরধনুক চালিয়েছেন। কিন্তু কোনওদিন তা দিয়ে বিশ্বজয় করা যায় ভাবেননি। বাইজু ওরাওঁ-এর কথায়, বংশপরম্পরায় আমরা তিরধনুক খেলি। এলাকার যুবকদের যতটা পারছি প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। যদি এই প্রশিক্ষণকে সম্বল করে ওঁরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে আমাদের সবথেকে গর্ববোধ হবে।

আদিবাসী যুবকদের তিরধনুক অনুশীলনের কথা শুনে খুশি ক্রীড়া প্রশিক্ষক শিক্ষক রেজা রাজি। তাঁর বক্তব্য, হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে অনেক ক্রীড়া প্রতিভা লুকিয়ে আছে। সরকার আরও সচেষ্ট হলে গ্রামীণ এলাকার অনেক ক্রীড়া প্রতিভা বিশ্বের দরবারে ঠাঁই নেবে। বিডিও অনির্বাণ বসুর কথায়, এলাকার আদিবাসী যুবকরা নতুন একটা ক্রীড়ার ব্যাপারে উৎসাহী হয়েছে, এটা শুনে খুব ভালো লাগছে। ভারতের অন্যতম সেরা তিরন্দাজ দীপিকা কুমারী কিংবা লিম্বারাম কিন্তু এভাবেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিশ্ব জয় করেছেন। আমি চেষ্টা করব, সরকারিস্তরে এদের জন্য কিছু করা যায় কি না। প্রযোজনে জেলা যুবকল্যাণ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।