ভারত-বাংলা বাণিজ্যে ভরসা জোগাচ্ছে রেল

488

ঋদ্ধিমান চৌধুরী, ঢাকা : বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে সরাসরি রেলযোগে পণ্য পরিবহণ করা হবে উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বর্তমানে রাধিকাপুর-বিরল, পেট্রাপোল-বেনাপোল, দর্শনা-গেদে ও রহনপুর-সিংবাদ রুটে পণ্যবাহী ট্রেন যাতায়াতে অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে। এইসব রুটে মে থেকে অগাস্ট মাসের মধ্যে ৩৯৫টি পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে এসেছে। এসব ট্রেনে ফ্লাইঅ্যাশ, পাথর, গার্মেন্টস মেটিরিয়াল, কাপড়, পেঁয়াজ ইত্যাদি পণ্য বহন করা হয়েছে। ভারত থেকে ঝামেলা ছাড়া ও কম সময়ে পণ্য আমদানি করতে পেরে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও খুশি।

২০২১ সালের শেষ নাগাদ নির্মীয়মাণ পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পদ্মার সেতুর ওপর দিয়ে যে রেললাইন হচ্ছে, তারই লিংক যুক্ত হবে ফরিদপুরের ভঙ্গা থেকে। এরপর ভঙ্গা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, গোয়ালন্দ, পোড়াদহ হয়ে যুক্ত হবে খুলনায়। দুই অংশে এর দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ৮০ কিলোমিটার। অপর লিংকটি খুলনা, রূপদিয়া, মাগুরা, যশোর, নড়াইলের বুক বেয়ে এসে মিশবে ভঙ্গায়। এর দূরত্ব প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার। রেল ভবন সূত্রে খবর, রেলপথের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। এর ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া শাহবাজপুরের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত হচ্ছে অসমের করিমগঞ্জের মহিষাশন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী রেল সরাসরি যাবে ভারতের আগরতলা ও অসমে। আগামী বৃহস্পতিবার পদ্মার দক্ষিণ তীর থেকে নির্মীয়মাণ রেলপথের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যাবেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তাঁর সঙ্গী হবেন বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রীও। ভঙ্গা, ফরিদপুর হয়ে যশোর পর্যন্ত সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তাঁরা ওইদিনই ঢাকায় ফিরবেন।

- Advertisement -

করোনা মহামারির শুরুতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সমস্যা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে রেলপথে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহণের প্রস্তাব দেয় ভারত। তাতে সম্মতি দেয় বাংলাদেশ। স্থলবন্দর দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য শুরু না করা পর্যন্ত ভারত রেলপথে পণ্য পরিবহণ করে। সেসময় শুধুমাত্র জুন মাসেই ১০৩টি পণ্যবাহী রেল আসে বাংলাদেশে। পরবর্তীতে পার্সেল ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে কনটেনার, পণ্যবাহী এবং পার্সেল ট্রেন সমানতালে চলছে। পাশাপাশি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুরোদমে চালু রয়েছে। বাংলাদেশের স্থলসীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার। এর শতকরা ৯২ শতাংশ ভারতের সঙ্গে এবং মাত্র ৮ শতাংশ মায়ানমারের সঙ্গে। গোটা সীমান্তজুড়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন ছোট-বড় ১৮১টি শুল্ক স্টেশন রয়েছে।