চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে চালুুু বৈদেশিক বাণিজ্য

411

চ্যাংরাবান্ধা: মাঝে তিন ঘণ্টা বাদ দিয়ে একশোদিন পর মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের হাত দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় চালু হল কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ও ভুটান-বাংলাদেশের মধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্য। মন্ত্রী এদিন ফিতে কাটার পরেই বোল্ডার বোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

মন্ত্রী ছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির আহ্বায়ক তথা আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান, চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র অধিকারী, মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিয়তি সরকার প্রমুখ।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: শনিবার থেকে বন্ধ হচ্ছে গুরংবস্তি বাজার

সীমান্ত খুলে দিয়ে বাণিজ্য চালু হওয়ায় খুশি বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষজন সহ চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তবাসী। কারণ টানা বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক, শ্রমিক সহ প্রচুর মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থা বলে জানিয়েছেন। তাই বাণিজ্য চালুর দাবিতে সকলেই সোচ্চার হয়েছিলেন।

অবশেষে এদিন থেকে বাণিজ্য চালু হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন সকলেই। তবে বাণিজ্য চালুর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে এদিন প্রায় সকলেই বাণিজ্য চালুর বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছিলেন।গত মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে ঘোষণা করেন, বুধবার থেকে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য চালু হবে। তবে হাতে কিছুটা সময় নিয়ে বুধবারের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার থেকে এই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাতে উদ্যোগী হন সংশ্লিষ্ট সকলে।

আরও পড়ুন: কাজ না মেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের বিক্ষোভ

জানা গিয়েছে, এদিন ভুটান থেকে ৪টি, ভারত থেকে ৪টি ট্রাক পণ্য বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে ১৩টি ট্রাক পণ্য ভারতে আমদানি করা হয়েছে। বাণিজ্য চালুর আগে সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজ্যের অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী, দুই বিধায়ক ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষজন হাজির ছিলেন। তবে এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রশাসনের কর্তাদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মানবিক। এলাকার মানুষের দুর্দশা উনি সহ্য করতে পারেন না। চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত চেকপোস্টের গেট বন্ধ হয়ে আছে। এখান দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যও বন্ধ রয়েছে। একথা শোনার পরেই তিনি এই সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য চালুর নির্দেশ দিয়ে দেন। তারপরেই এদিন সবাই মিলে সীমান্তের এই গেট খুলে দিয়ে বাণিজ্য শুরু করা হয়।’

আরও পড়ুন: স্কুলের জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার, প্রতিবাদে বামফ্রন্ট

চ্যাংরাবান্ধা এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমলকুমার ঘোষ এবং চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর যৌথ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অজয় প্রসাদ বলেন, ‘সম্পূর্ণ সরকারি নির্দেশিকা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এদিন বৈদেশিক বাণিজ্য শুরু করা হয়েছে। বাণিজ্য চালু হওয়ায় তাঁরা সকলেই খুশি।’

বৈদেশিক বাণিজ্য চালু হওয়ায় আনন্দিত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ট্রাক মালিক সংগঠনগুলিও। ডুয়ার্স ইউনাইটেড ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইদু সদাগর জানান, অবশেষে বৈদেশিক বাণিজ্য চালু হওয়াতে তাঁরা দারুণ খুশি। বাণিজ্য চালুর দাবিতে তাঁরাও বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সকলের সহযোগিতাই তাঁরা পেয়েছেন। এরজন্য তাঁরা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞও।

উল্লেখ্য, লকডাউনের কারণে এই সীমান্ত দিয়ে টানা  বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ ছিল। মাঝে গত ১০ জুন বাণিজ্য চালু হলেও ঘণ্টা তিনেক পর ফের প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ হয়ে যায়।

চ্যাংরাবান্ধা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ সম্পাদক গোপাল সাহা বলেন, ‘টানা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন। তাই এটা চালু হওয়া খুব দরকার ছিল।’

আইএনটিইউসির মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি জাকির হোসেন জানান, বাণিজ্য বন্ধ থাকায় অনেক মানুষ বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন। তাঁরাও সর্বদাই চান এটা নিয়ে যাতে কখনও কোনওধরনের সমস্যা তৈরি না হয়।